আদালতের রুলের পরও শিশু পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪১ এএম

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় কোমলমতি শিশুদের বহিষ্কারের ঘটনায় গত ২১ নভেম্বর আদালত রুল জারি করেছে। এরপরও গতকাল রবিবার পিইসি’র সর্বশেষ পরীক্ষায় খুলনা, বরিশাল এবং রংপুর বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৫০ জন শিশুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৬ বিষয়ের এই পরীক্ষায় সর্বমোট ১২৭ জন শিশুকে বহিষ্কার করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ‘অসাধুপন্থা’ অবলম্বন এবং প্রক্সি দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা বহিষ্কার হয়েছে।

এদিকে পিইসি পরীক্ষা শুরুর দিন গত ১৭ নভেম্বর রংপুর বিভাগের ১০ এবং ঢাকার ১ জন ইবতেদায়ি পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন ১৮ নভেম্বর রংপুরের আরও ৪ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরে ‘পিইসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার কেন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর এক আইনজীবী তা হাইকোর্টে নজরে আনলে আদালত ২১ নভেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত এক আদেশে পিইসি পরীক্ষায় শিশুদের বহিষ্কার কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চায়। একই সঙ্গে বহিষ্কার হওয়া শিশুদের পুনরায় পরীক্ষা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চায় আদালত।

গত ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় ২২ জনকে বহিষ্কার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামে ১, বরিশালে ২ এবং রংপুর বিভাগে ১২ পরীক্ষার্থীকে বরখাস্ত করা হয়। পরে ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষাতে খুলনায় ৯ জন এবং রংপুরের ১১ জন বহিষ্কার করা হয়। আর পিইসি’র গতকাল অনুষ্ঠিত শেষ পরীক্ষায় রংপুরের ৩৩, বরিশালের ১৫ এবং খুলনার ২ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এই পরীক্ষায় রাজশাহী, সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগের কোনো শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়নি। 

পরীক্ষায় বহিষ্কার করা বিভাগগুলোর জেলা শিক্ষা অফিসারদের গতকাল সন্ধ্যায় ফোন করা হলে বেশিরভাগ শিক্ষা অফিসারই স্পষ্ট করে বহিষ্কারের কারণ জানাতে পারেননি। তবে রংপুর জেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি শুধুমাত্র রংপুর জেলায় কর্তব্যরত হওয়ায় এই বিভাগের সকল জেলার তথ্য তিনি জানেন না। তবে রংপুর জেলায় কিছু শিক্ষার্থীকে দিয়ে প্রক্সি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে ওইসব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তবে অন্যান্য জেলার কোথাও কোথাও অসাধু পন্থার মতো ঘটনা থাকলেও থাকতে পারে।

পরীক্ষা উপলক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বে থাকা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বে থাকলেও ঠিক কী কারণে এইসব শিশুকে বহিষ্কার করা হয়েছে তা আমাদের হাতে এখনো পৌঁছায়নি। তবে নির্দেশনায় অসাধুপন্থা অবলম্বন করলে বহিষ্কারের কথা বলা রয়েছে।’

এর আগে গত ১৮ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘সাধারণত শিশুরা নকল করা বোঝে না। তারপরও কিছু কিছু অপরাধ আছে যা সংঘটিত করলে তার শাস্তি পাওয়া উচিত। কারণ ওই শিশু শিখবে অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হয়।’

উল্লেখ্য, গত ২১ নভেম্বর উচ্চ আদালত ‘পরীক্ষায় শিশুদের বহিষ্কার অবৈধ নয় কেন’ রুল জারি করে জানতে চাওয়া হয়, শৃঙ্খলাভঙ্গবিষয়ক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গত বছর ১৮ ডিসেম্বর জারি করা নির্দেশনার ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ কেন অবৈধ হবে না।

গত ১৯ নভেম্বর দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘পিইসি পরীক্ষায় শিশু বহিষ্কার কেন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এম জামিউল হক প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করে আদালত। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে আদালত ১০ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের তারিখ ধার্য করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত