সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত নিশ্চিত করেছে কাউকে পুশ করবে না

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৫১ এএম

ভারতের আসামের নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশের প্রভাবেই ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। গতকাল রবিবার সিলেট জেলা পরিষদে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন অনুপ্রবেশের সময় যশোরের বেনাপোলের দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা থেকে শিশুসহ ৩২ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সরকার বারবার বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে, এনআরসিতে বাদ পড়া কাউকে তারা বাংলাদেশে পুশ করবে না। বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের অনুপ্রবেশের কোনো ঘটনা ঘটছে না বলে দাবি করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনআরসি ইস্যু নিয়ে কিছু ফড়িয়া তৎপর রয়েছে। তারা কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বলছে, ‘বাংলাদেশে গেলে বিনা টাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হবে। সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবে।’ এরকম প্রলোভনে তারা কিছু মানুষকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু এমন লোকদের কখনই আমরা দেশে ঢzকতে দিচ্ছি না। ড. মোমেন বলেন, ভারতের এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া লোকজনকে নিয়ে মাঝেমধ্যে কিছু তথ্য বের হয়। কিন্তু পরে দেখা যায় এসব তথ্য সঠিক নয়।

গত কয়েক দিন ঝিনাইদাহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোরসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এনআরসি প্রকাশের প্রভাবেই এসব অনুপ্রবেশ।

বেনাপোল : ভারত থেকে অনুপ্রবেশের সময় গতকাল ভোরে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে ৩২ জনকে আটক করেছে বিজিবি। ৪৯ বিজিবির বেনাপোলের দৌলতপুর ক্যাম্পের কমান্ডার মোজাম্মেল হোসেন জানান, ভারত থেকে অবৈধপথে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে বিজিবি সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি আমবাগানে অভিযান চালিয়ে ১৭ পুরুষ, ১৩ নারী ও ২ শিশুকে আটক করেন। আটক জরিনা বেগম (৩৫) জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভারতের বেঙ্গালুরু শহরে বসবাস করে আসছেন। তারা সেখানকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করেন। সেখানকার পুলিশ তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আটক করে। দেশে ফেরত পাঠায়। আটক আলমগীর খান (৪৫) বলেন, আমরা একই পরিবারের সাতজন দীর্ঘদিন ধরে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করে আসছি। স্ত্রী, বোনসহ আমরা বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। ভারতীয় পুলিশ আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে বলে। পুলিশ আমাদের আটক করে বিএসএফের কাছে তুলে দেয়। তারাই ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়, পরে বিজিবি আমাদের আটক করে। বিজিবি জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়। তারা সবাই মুসলমান।

ঝিনাইদহ : নতুন করে মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে আর কেউ অনুপ্রবেশ করেনি। মহেশপুর বিজিবির ৫৮ ব্যাটালিয়ানের উপঅধিনায়ক মেজর কামরুল হাসান জানান, ভারত সীমান্ত দিয়ে যাতে নতুন করে আর কেউ অনুপ্রবেশ না করতে পারে সেজন্য উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে।

গত শনিবার ভোরে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের হাতে শাহআলম নামে এক দালাল এবং শিশুসহ ২১ জন আটক হয়। তাদের সবাইকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মহেশপুর থানার ওসি রাশেদুল আলম জানান, শনিবারই তিনটি মামলার পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক এবং ঝিনাইদহ ও যশোরের শার্শা প্রতিনিধি)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত