মহারাষ্ট্রে মহাকাণ্ড

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৮ এএম

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার চার দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা দেবেন্দ্র ফাদনবিশ। এ পদত্যাগের মধ্যদিয়ে মহরাষ্ট্রে বিজেপির রাজনৈতিক পরাজয় হয়েছে বলে মনে করছে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম।

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় ফাদনবিশ বলেন, ‘অজিত পাওয়ার আমার কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। প্রথম দিন থেকেই বিজেপি কোনো ঘোড়া বেচাকেনায় না থাকার কথা বলে আসছে। আমরা সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ এনসিপি আমাদের সঙ্গে ছিল। তিনি পদত্যাগ করায় আমিও পদত্যাগ করলাম।’

ফাদনবিশের পদত্যাগের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরেকে। এমনটা হলে মহারাষ্ট্রে ২০ বছর পর ফের ক্ষমতায় আসবে কট্টর হিন্দুত্ববাদী শিবসেনা। মহারাষ্ট্রে বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে দিয়ে শিবসেনা কংগ্রেস ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট গড়ে। গতকাল সন্ধ্যায় রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান তিন দলের প্রতিনিধিরা।

সবকিছু ঠিক থাকলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন উদ্ধব। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলে কংগ্রেস ও এনসিপি থেকে মোট দুজনকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন কংগ্রেসের বালাসাহেব থোরাট ও এনসিপির জিতেন্দ্র কোলাম্বাকর। তবে শারদ পাওয়ার সংশ্লিষ্ট জিতেন্দ্র অওহদকেও উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে আজ বুধবার মহারাষ্ট্র বিধানসভায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনবিশকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে বলা হয়। আদালতের এ নির্দেশের পরই পদত্যাগ করলেন তিনি। তার সঙ্গে উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারও (এনসিপি) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা ও মুখপাত্র নবাব মালিক এক টুইটে ‘বিজেপির খেলা শেষ’ বলে মন্তব্য করেন। মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনাকে নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টায় সামনে রয়েছেন মালিক। এই দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সাধারণ একটি কর্মসূচির আওতায় ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন তিনি।

মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল। সরকার গঠনের উদ্দেশে জোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় বিজেপি ও অন্য দলগুলো। এর মধ্যে শনিবার আকস্মিক এনসিপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনের ঘোষণা দেয় বিজেপি। ওই সরকার গঠনকে অবৈধ বর্ণনা করে খোদ এনসিপি মুখপাত্র বলেন, ফ্লোর টেস্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হবে তারা। ওইদিনই সরকার গঠন চ্যালেঞ্জ করে ভারতের শীর্ষ আদালতে আবেদন করে শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপি।

গত শনিবার সকালে বিজেপি ও অজিত পাওয়ারের জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। নানা নাটকীয়তার পর বিকেলে প্রত্যাহার করা হয় রাষ্ট্রপতির শাসন। আর রাত ৮টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দেবেন্দ্র ফাদনবিশ। উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন অজিত পাওয়ার।

আবেদনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট বুধবার (আজ) বিকেল ৫টার মধ্যে বিধানসভায় নির্বাচিত ২৮৮ জন আইনপ্রণেতার সবাইকে শপথ নেওয়ার আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়, রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি তাৎক্ষণিকভাবে একজন অস্থায়ী স্পিকার নিয়োগ করবেন। তিনি আইনপ্রণেতাদের শপথ পড়াবেন। পরে ফ্লোর টেস্টের মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। ফ্লোর টেস্টের ভিডিও রেকর্ড রাখারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রাজনৈতিকভাবে কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনা পৃথক মতাদর্শের। কিন্তু রাজ্যে বিজেপিকে রুখতে মতাদর্শিক পার্থক্য থাকলেও দল তিনটি জোট গড়ে। এক্ষেত্রে কর্নাটকের উদাহরণ টেনে বলা যায়, সেখানে চার মাস আগে কংগ্রেসের এইচডি কুমারাস্বামী সরকারকে হটিয়ে বহুজন সমাজের ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রী করে বিজেপি। ঠিক একই চাল মহারাষ্ট্রে দিয়েছে শিবসেনা। আর শিবসেনার এই চালে যে কংগ্রেসেরও ভূমিকা আছে তা বোঝা যায় দলটির নেতা কপিল সিব্বলের কথায়। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে নয়, মহারাষ্ট্রের সেবা করতেই জন্ম শিবসেনার। বিজেপির সংস্পর্শে আসার পরই মতিভ্রম হয় তাদের।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত