ভোজ্যতেলের দাম বাড়লেও দায় নিচ্ছে না মিলগুলো

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ১১:০৩ পিএম

বাজারে খোলা সয়াবিন, পাম অয়েল ও পাম অয়েল সুপারের দাম এক মাস ধরে বাড়লেও এর দায় নিতে নারাজ ভোজ্যতেলের কোম্পানিগুলো। তারা বলছে, বাজারে কেন দাম বেড়েছে, তা তাদের জানা নেই। তবে কোম্পানিগুলো নিজেরা দাম বাড়ায়নি। দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তাও আপাতত নেই তাদের। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে এই মুহূর্তে কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াবে না বলে তাদের জানিয়েছে। তাহলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কে বাড়াচ্ছে, তার কোনো উত্তর নেই কারও কাছে।

ঢাকার খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৭৮-৮০ টাকায় বিক্রি হতো। পাম অয়েলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়েনি; কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার সয়াবিন ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিক্রয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দাম ৭৭-৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-৮৫ টাকায় উঠেছে। এ সময় খোলা পাম অয়েলের দাম ৬০-৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫-৭০ টাকা এবং পাম অয়েল সুপারের দাম প্রতি লিটার ৬২-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৭৫ টাকা হয়েছে।

সয়াবিনের পাইকারি বিক্রেতা মৌলভীবাজারের লাকী ট্রেডিং এজেন্সির মালিক মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। বুকিং রেট (এলসি মূল্য) বেড়ে যাওয়ার কারণে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এর কারণে প্রতি মণ সয়াবিনে ২০০ টাকা এবং পাম অয়েলে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ট্যারিফ কমিশন বলছে– আন্তর্জাতিকবাজারে সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, তবে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে বেশিরভাগ পাম অয়েল আমদানি করত। বর্তমানে প্রতি টন সয়াবিন আন্তর্জাতিক বাজারে ৬৭১-৬৮০ ডলার ও পাম অয়েল ৬৩১-৬৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি দুটি কোম্পানি বোতলজাত তেলের দাম বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিল ট্যারিফ কমিশনের কাছে। তবে ট্যারিফ কমিশন তাদের আবেদনটি বাতিল করে দিয়ে বলেছে, দাম বৃদ্ধি করতে হলে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্মিলিতভাবে আবেদন করতে হবে। তখন যাচাই-বাছাই শেষ করে তবেই দাম বৃদ্ধির অনুমতি দেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার ট্যারিফ কমিশনে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী, পরিশোধনকারী শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শীর্ষস্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, এস আলমসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উপস্থিত ছিল।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিটিং শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান মো. নূর-উর-রহমান বলেন, ‘উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা তেলের দাম বাড়াবে না বলে আমাদের বলেছে। তাই আপাতত তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই।’

তবে খোলা সয়াবিনের দাম বৃদ্ধিতে কোম্পানিগুলোর কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে খোলা তেলের বাজার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ বিষয়ে আমরা বলতে পারব না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত