হত্যাকে আত্মহত্যা প্রচারের চেষ্টা ছিল ওসি মোয়াজ্জেমের

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ০২:০৬ এএম

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন দেওয়ার পরপরই ঘটনাটি ‘আত্মহত্যাচেষ্টা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিলেন সোনাগাজী থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধিকে তখন তিনি বিষয়টি ‘আত্মহত্যাচেষ্টা’ বলে চালিয়ে দিতে প্ররোচনা দিয়েছিলেন।

ওসি মোয়াজ্জেমের দণ্ডের রায় ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সোনাগাজী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের সোনাগাজী প্রতিনিধি আবুল

 

হোসেন রিপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ঘটনা শোনার পর চাঁদপুর থেকে ফোন করে ঘটনাটি কী ঘটেছে তা জানতে চাইলে তিনি (ওসি মোয়াজ্জেম) ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে বলে জানান।’

গত ২ মে ফেনীর সাংবাদিক আতিয়ার সজল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় একটি জিডি করেন। আতিয়ার সজল তার জিডিতে উল্লেখ করেন, গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর তৎকালীন সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনাটিকে গণমাধ্যমসহ সকলের কাছে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তিনিসহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী ওসি মোয়াজ্জেমের বক্তব্যের জন্য সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে যান। ওসির বক্তব্য ভিডিও ধারণের আগে তিনি জানান, তার কাছে ২৭ এপ্রিল তারই রেকর্ডকৃত নুসরাত জাহান রাফির দুটি জবানবন্দির ভিডিও ফাইল রয়েছে। সেটা দেখলেই বোঝা যাবে নুসরাতের মনে আগে থেকেই আত্মহত্যা করার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। সজল ভিডিও ফাইল দুটি তার কাছে সম্প্রচারের জন্য চাইলে স্বেচ্ছায় নিজেই সজলের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে স্থানান্তর করেন ওসি মোয়াজ্জেম। এ সময় উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীকেও তিনি ভিডিও ফাইল দুটি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল করিম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম আইনের পরিপন্থীভাবে থানায় ডেকে নিয়ে নুসরাতের জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। তা তিনি রেকর্ড করতে পারেন না এবং প্রচারও করতে পারেন না। তিনি এটা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে করেছেন। তিনি নুসরাতকে খারাপ মেয়ে হিসেবে ট্রিট করতে চেয়েছেন। এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য প্রচার করতে গিয়ে পুলিশের রোষানলের শিকার হতে হয়েছে সাংবাদিকদের। ফেনীর কয়েকজন সাংবাদিককে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।’

নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ, নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হয় ‘আত্মহত্যাচেষ্টা’ হিসেবে।

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর নুসরাত কয়েক দিন বেঁচেছিল, বিধায় সে তাকে ঝলসে দেওয়ার কথা বলে যেতে পেরেছে। ঘটনাস্থলেই সে প্রাণ হারালে এই অপপ্রচারই পোক্ত হয়ে উল্টো নুসরাতের ওপর দায় চাপত। তাতে পুরো ঘটনাটিই উল্টে যেত।’

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা। পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত