চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। ভারী অস্ত্রসহ একদল সশস্ত্র ক্যাডার পরিবেষ্টিত হয়ে চলাফেরা করেন সব সময়। তার মুখের কথাই যেন এলাকার আইন। জমিসহ এলাকার নানা বিরোধের সালিশি বৈঠকে আগ্নেয়াস্ত্র টেবিলে রেখে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির এই সদস্যের নিত্য কর্মতালিকার অংশ। নিত্যনতুন অস্ত্র পরখ করে দেখা চট্টগ্রামের আলোচিত এই কাউন্সিলরের অন্যতম নেশা। ২০১৬ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাট বাজারে নতুন কেনা অস্ত্র পরখ করতে গিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন তিনি। এরই একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সেখানে থাকা দলীয় কর্মী নূরে এলাহীর বুকে বিদ্ধ হলে দ্রুত সটকে পড়েন তৌফিক। পরে ওইদিন রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই যুবলীগ কর্মী।
তবে এখানেই শেষ নয়। নিজ এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দরপত্র নিয়ন্ত্রণসহ ঘুষের টাকার ভাগবাটোয়ারা, মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, অবৈধ অস্ত্রের কারবার, নিজের লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসী কাজে ভাড়া দেওয়া এবং অবৈধভাবে জমি দখল ও ভাড়ায় সন্ত্রাসী পাঠানোসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর তৌফিকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন ‘তার নাম মুখে আনা’র পরিণতি নিশ্চিত মৃত্যু আর না হয় নির্যাতনে এলাকাছাড়া হওয়া।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন ঘটনায় তিনটি মামলা থাকলেও বর্তমানে জামিনে আছেন কাউন্সিলর তৌফিক। সম্প্রতি দেশব্যাপী সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে স্থলপথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত হয়ে দুবাই পালিয়ে যান তিনি। তবে শুদ্ধি অভিযানের গতি খানিকটা িস্তমিত হলে কিছুদিন আগে আবারও চট্টগ্রামে ফিরে আসেন তৌফিক। নিত্যনতুন অস্ত্র হাতে নিয়ে পরখ করে দেখা তার নেশা। তবে রাশিয়ান অস্ত্র তার সবচেয়ে বেশি পছন্দের। এই কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠরা জানান, তার কাছে ৫ লাখ টাকা দামের নিচে কোনো অস্ত্র নেই। আর এসব অস্ত্র বিদেশ থেকে চোরাই পথে আনা। ফেনী ও বেনাপোল সীমান্তে অস্ত্রের কারবার নিয়ন্ত্রণকারী একটি গ্রুপ এবং নারায়ণগঞ্জের একটি সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সখ্য দীর্ঘদিনের। তবে তিনি ফোনে কোনো অস্ত্রের কারবারের কথা বলেন না। কোনো মাধ্যমে নয়, শুধু মুখোমুখি সাক্ষাতে সরাসরি ক্রেতার কাছে অস্ত্র বিক্রি করেন তৌফিক। এজন্য নগরীর ফতেয়াবাদ, আমানবাজার ও খোশালশাহ মাজার এলাকার রয়েছে তার আলাদা তিনটি আস্তানা। বর্তমানে তার কাছে রয়েছে লাইসেন্স করা একটি একে-২২ সেমি অটোমেটিক রাইফেল এবং একটি নাইন এমএম রিভলবার। তবে এর বাইরেও তৌফিকের কাছে সব সময় অত্যাধুনিক ৫ মিটার রেঞ্জের ক্ষুদ্রাকৃতির একটি অবৈধ পিস্তল থাকে। যা শার্টের পকেটেই রাখা যায় অনায়াসে। এই অস্ত্রটি এতই ক্ষুদ্রাকৃতির, প্রথম দেখায় কেউ বুঝতেই পারবে না যে তার কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র আছে। চট্টগ্রামের অপরাধজগতের বেশিরভাগ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ তৌফিকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় অপরাধীদের মধ্যে অধিকাংশই অস্ত্র কিনতে তার ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া তিনি নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র ভাড়ায় খাটান বলেও অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের সব নির্বাচনে বিভিন্ন দলের ক্যাডারদের আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারী ও নিয়ন্ত্রকও এই কাউন্সিলর তৌফিক।
৩ বছর আগে হাটহাজারীর ছিপাতলীতে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোটকেন্দ্র দখলের জন্য ৫০ জন অনুসারীকে দুটি এলজি ও একটি পিস্তল দিয়ে পাঠান তৌফিক। পরে স্থানীয় জনতার প্রতিরোধে পালিয়ে আসে তার অনুসারীরা। ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কের বড়দীঘিপাড় এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে রাইফেল ও ৫৬ রাউন্ড গুলিসহ শফিউল বশর ওরফে রনি এবং সোহেল রানা নামে তৌফিকের দুই অনুসারীকে গ্রেপ্তার করে র্যাবের একটি দল। ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের পরপরই ওই রাইফেল ও গুলি নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র বলে দাবি করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে বড়দীঘিপাড় এলাকাটি (যেখানে তল্লাশি চালায় র্যাব) প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। জনশ্রুতি আছে, অস্ত্রসহ আটক হওয়া প্রাইভেট কারটির পেছনের গাড়িতে ছিলেন তৌফিক। ঠিক এর পরের আরেকটি গাড়িবোঝাই ছিল বেশকিছু অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ কার্তুজের একটি চালান। কিন্তু র্যাব প্রথম গাড়িটি আটক করলে পেছনের অস্ত্রবোঝাই গাড়িসহ তৌফিকের ক্যাডাররা সটকে পড়ে।
অস্ত্র ও হত্যা মামলায় জামিনে থাকা চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তৌফিক অস্ত্র ভাড়া ও বিক্রি করে এটা ওপেন সিক্রেট। নগরী ও জেলার অবৈধ অস্ত্রের জোগানদাতা সে। অস্ত্রগুলো অত্যাধুনিক হওয়ায় তৌফিকের কদর বেশি। এ ছাড়া নির্বাচনে তার অস্ত্রের ব্যবহার তো পুরনো। এই জেলায় বিশেষ করে রাশিয়ান অস্ত্রের বিক্রেতা সে।’
হাটহাজারীর মির্জাপুরে তৌফিকের ছোড়া গুলিতে যুবলীগকর্মী নিহতের ঘটনায় কাউন্সিলর তৌফিককে আসামি করে আদালতে চার পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র জমা দেন চট্টগ্রাম পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, মির্জাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আফছারের নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে ৫ মে বিকেলে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শেষে সন্ধ্যায় সরকার হাট বাজারে নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন নুরে এলাহীসহ ছয় থেকে সাতজন যুবলীগ নেতাকর্মী। ঘণ্টাখানেক পর সেখানে আসেন কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। একপর্যায়ে তিনি তার হাতে থাকা একটি পিস্তল দেখিয়ে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নতুন অটোমেটিক অস্ত্র কিনেছি। অনেক গুলি লোড করা যায়।’ এ সময় তৌফিক দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে নিচের দিকে আরেকটি গুলি ছোড়ার সময় তা নূরে এলাহীর গায়ে বিদ্ধ হয়। মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এ অবস্থায় তৌফিক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে পড়েন। পরে ওইদিন রাতে চমেক হাসপাতালে মারা যান নূরে এলাহী।
ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর মধ্যে একজনের সঙ্গে গত বুধবার নগরীর আমানবাজার এলাকায় বিভিন্ন বিষয়ে কথার ফাঁকে কাউন্সিলর তৌফিকের বিষয়ে কথা বলতে চেষ্টা করলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা এলাকায় থাকি। তৌফিক যদি জানতে পারে আমাকে এলাকাছাড়া করবে। তাছাড়া সে বর্তমানে যুবলীগেরও পদবিধারী। তার হাতে অনেক ক্ষমতা।’
তৌফিকের গুলিতে নিহত যুবলীগকর্মী নূরে এলাহীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।
বিআরটিএতে তৌফিকের দাপট : সম্প্রতি বিআরটিএ গেটসংলগ্ন দুটি দোকান সিলগালা করা হয়। ওই দুটি দোকানের নিয়ন্ত্রক তৌফিক। গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে এ অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে পাঁচ দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা সবাই এলাকায় তৌফিকের লোক বলে পরিচিত।
চৌধুরীহাটের বাসিন্দা মো. জয়নাল বলেন, ‘বিআরটিএতে ফটোকপি ও ক্যান্টিনের আড়ালে দালালের কাজ করে আসছিল কাউন্সিলরের দোকানকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে দোকানগুলো দালালের আখড়ায় পরিণত হয়। গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করতে আসা মানুষকে নানা ধরনের হয়রানি করে তারা। কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দালালরা কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজ নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। লাইসেন্স নবায়ন, মালিকানা পরিবর্তন ও কাগজপত্র হালনাগাদসহ সব কাজের জন্য টাকা নিত তারা।’
এমনকি বিআরটিএ কর্মকর্তারাও তাদের ঘুষের টাকার ভাগ তৌফিককে দেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। আর কর্মকর্তারাও নিজেদের স্বার্থে তৌফিককে ব্যবহার করেন নিয়মিতই।
তৌফিকের নিয়ন্ত্রণে বসে জুয়া ও মাদকের আসর : গত ১৮ জুন রাতে পাঁচ মাদকসেবীকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে পেয়েও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন কাউন্সিলর তৌফিক। তাদের আইনের হাতে সোপর্দ না করে নিজ দায়িত্বে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, সেদিন রাত ১০টায় আমানবাজার খোশালশাহ এলাকার শান্তি কলোনি থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় পাঁচ ইয়াবাসেবীকে পিটুনি দেওয়া হয়। এরপর মুচলেকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেন কাউন্সিলর তৌফিক। তারা সবাই তৌফিকের অনুসারী।
এ বিষয়ে তৌফিক সেদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাদকসেবীরা সবাই স্থানীয়। মাদক সেবনরত অবস্থায় পেয়ে স্থানীয় জনগণ তাদের পিটিয়েছে। তারপর অভিভাবক এবং তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে স্থানীয়দের অনুরোধে ছেড়ে দিয়েছি।’
সম্প্রতি ওই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে কথা বলে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লোকের প্রায় ৪০০ বসতি নিয়ে গড়ে উঠেছে শান্তি কলোনি। এখানে তৌফিকের নিয়ন্ত্রণেই জুয়ার আসর বসার পাশাপাশি ইয়াবা ও মদসহ নানা মাদকের কেনাবেচা ও সেবন চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, নগরীতে আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের অনুসারী অন্তত ১৫টি সিন্ডিকেট রয়েছে। যেসব সিন্ডিকেট সমঝোতার মাধ্যমে সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর রয়েছেন।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, খোশালশাহ মাজার এলাকায় কাউন্সিল তৌফিকের মূল আস্তানা। সেখানকার তিনতলা একটি বাড়িতেই বিচার-সালিশসহ অবৈধ অস্ত্রের কারবারের টাকার লেনদেন হয়। এ ছাড়া ১ নং ওয়ার্ডের ঠাণ্ডাছড়ি দীঘিতে প্রতি শুক্রবার মাছ শিকারে যান তৌফিক। সেখানে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক নিয়ে আড্ডা হয়। এ ছাড়া কাউন্সিলর অফিস ও নির্দিষ্ট আস্তানায় সালিশের নামে মারধর ও টেবিলে অস্ত্র রেখে ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বড়দীঘি এলাকার হাজী গ্রুপের ৫ ভাইয়ের জমিসংক্রান্ত একটি বিরোধের মীমাংসা করতে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন তৌফিক। তবে পরে তা ১০ লাখ টাকায় রফা হয়।
তৌফিকের অপকর্মের মূল সহযোগী যারা : চামড়া মান্নান এলাকায় তৌফিকের ডান হাত হিসেবে পরিচিত। সংগঠনে কোনো পদ না থাকলেও নিজেকে দুই নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন মান্নান। তবে এলাকাবাসী তাকে কিলার ও দাগি অপরাধী হিসেবেই চেনে। অন্যদিকে তৌফিকের বাম হাত হিসেবে কাজ করেন শাহ আলম। তারও কোনো দলীয় পদ না থাকলেও নিজেকে হাটহাজারীর মদনহাটের যুবলীগ নেতা বলে পরিচয় দেন। এরা দুজনই এর আগে পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আর আমানবাজারের আলী নামে এক যুবক তৌফিকের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত। তাজু, দিদার ও আলী তৌফিকের পক্ষে চাঁদাবাজি ও দখলদারির কাজ করে থাকেন। জমিসংক্রান্ত বিরোধে অস্ত্র হাতে মহড়ার পাশাপাশি বিআরটিএ থেকে তৌফিকের পক্ষে টাকা নিয়ে আসেন তারা।
নারায়ণগঞ্জভিত্তিক একটি নেটওয়ার্কও রয়েছে তৌফিকের। সেখানে রয়েছে তার ঝুট কাপড়ের ব্যবসা। আর নারায়ণগঞ্জের ওই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন সেখানকার সোহেল নামে এক সন্ত্রাসীর মাধ্যমে। এ ছাড়া সোহেলকে মাঝে মাঝে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধে কাজে লাগাতে ভাড়া করে আনেন তৌফিক। স্থানীয় না হওয়ায় যাতে সহজে কেউ তাকে সন্দেহ না করে।
হাটহাজারী এলাকার সাবেক এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক তৌফিক। কাউকেই পরোয়া করে না সে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে অল্প সময়ে। সশস্ত্র ক্যাডার পরিবেষ্টিত হয়ে থাকে সব সময়। তার কয়েকটি অস্ত্রের লাইন্সেস থাকলেও বিপুল অবৈধ অস্ত্রের মজুদ রয়েছে। কোনো দলীয় কর্মী তার ভয়ে কথা বলার সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগও করে না। করলে পরিণতি হয় ভয়াবহ।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ যারা আছে তাদের বিষয়ে আমাদের তীক্ষণ নজরদারি রয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই আমলে নিই। অপরাধ-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যে করবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে দলেরই হোক।’
তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ সবকিছুই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিআরটিএ কার্যালয়ে ক্যান্টিন রয়েছে শুধু আমার। কেউ বলতে পারবে কোনো মানুষের সাথে ঝগড়াবিবাদ হয়েছে আমার? কাউকে বাধা দিয়েছি? আমি তিনবার হজ করে আসছি। আমার দ্বারা অস্ত্র প্রদর্শনী, মারামারি, কাটাকাটি করা কি সম্ভব? আপনি এলাকায় এসে খোঁজ নেন।’
