লাখ ছাড়াল ডেঙ্গু রোগী

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৯, ০২:১৭ এএম

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়াল। এটাই এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মৌসুমে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এত রোগী কখনই হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। এমনকি এই সংখ্যা গত ১৯ বছরে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। ২০১৮ সালে দেশে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ১৪৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগী ৫০ হাজার ১৭৬ জন। ২০০২ সালে দেশে প্রথম ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু রোগী দেখা যায়। সে সময় ৫ হাজার ৫১১ রোগী ভর্তি হয়েছিল। ২০০১ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমলেও ২০০২ সালে রোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

 স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানায়, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৯৯ হাজার ৩০৬ জন। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৫১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর রোগী ২৫১ জন।

আক্রান্তের রেকর্ডের পাশাপাশি এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর রেকর্ডও হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ডেঙ্গুতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১২৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ১২১ জন। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ডেঙ্গুতে সন্দেহজনক ২৬৪ জনের মৃত্যুর প্রতিবেদন পেয়েছে। এর মধ্যে তারা ২০৩ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে ১২৯ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তবে বেসরকারি হিসাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

এমনকি এ বছর সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার রেকর্ডও হয়েছে। গত বছর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দু’তিনটি জেলায় সীমিত সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেলেও এবারই প্রথম দেশের সব জেলায় ডেঙ্গু রোগী মিলেছে। জেলাগুলোতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস ইজিপ্টের পাশাপাাশি এডিস এলবোপিক্টাস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

আইইডিসিআরের তথ্যমতে, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পুরুষের আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। পুরুষ রোগীদের মধ্যে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। এদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ ও শিশু। তবে এবার অন্য বছরের তুলনায় গৃহিণীদের ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা কম। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হলেও বেশি মৃত্যু হয়েছে নারী ও শিশুর।

ডেঙ্গুর এমন পরিস্থিতিতে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শূন্যে নামিয়ে আনা কঠিন হবে। কারণ সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। তা ছাড়া ডেঙ্গু এখন আর কোনো বিশেষ ঋতুর রোগ নয়। সারা বছরই থাকবে। সুতরাং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশা নিধনে বছরজুড়ে কর্মসূচি রাখতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে মশা নিধনে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত