দিভিনার শান্তি সাধনা

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৯, ০২:২৭ এএম

দিভিনা মালহুম ক্যামেরুনের এক শিশু। ছয় বছর ধরে তার দেশে বোকো হারামের সন্ত্রাসী হামলা এবং শিশুদের দলে যোদ্ধা নেওয়া থেকে বাঁচাতে যুদ্ধ করছেন। জয় করেছেন “ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন’স পিস প্রাইজ-২০১৯”। লিখেছেন ওমর শাহেদ

খেলা, লেখাপড়া ও বেড়ানোর জীবনকে বিদায় দিলেন ২০১৪ সালে। সে বছর গেলেন ক্যামেরুনের উত্তরে। এই তারই দেশ। তখন দিভিনা মালহুমের মাত্র ১০। পৃথিবীটাই রঙিন সারা বিশ্বের সব শিশুর মতো। কী দেখলেন? সে গল্পে যাওয়ার আগে এক কাহিনী বলে নেওয়া যাক_ পরম্পরায়! বোকো হারামের কথা দুনিয়ার সব সচেতন মানুষ জানেন। নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমে জন্ম নেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনীটি জিহাদি ইসলামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। ছড়িয়েছে নাইজার, চাঁদ, উত্তর ক্যামেরুনেও। ২০১৪ সালের মার্চে ক্যামেরুন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সেখানেই পরিবারের মানে মা-বাবার সঙ্গে গিয়েছিলেন ছোট্ট মেয়ে দিভিনা। দেখেছেন কোনো দিনও বিশ্বাস করতে পারবেন না এমন সব দৃশ্য। তাদের সব ধরনের রীতিনীতি, পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। ‘আফ্রিকা ইন মিনিয়েচার’ বা ‘আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি’ তার দেশ। ভূতাত্ত্বিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য পৃথিবী প্রায়ই ক্যামেরুনকে এ নামে ডাকে। ৭০ ভাগ খ্রিস্টান ও ২০ ভাগ মুসলিমের দেশ। বাকিরা নানা ধর্মের আফ্রিকান। পুরো বদলে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে সেই অংশ, শিশুদের ওপর চরম সহিংস হয়ে উঠছেন সবাই। নানা ধরনের অন্যায় কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। বাজে ব্যবহারের শিকার হচ্ছে। যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে শিশু যোদ্ধা হয়ে, মেয়েদের জোর করে বালিকা বধূ হিসেবে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হচ্ছে। পরে আর ফিরতে পারছে না কেউ জীবনে। আত্মঘাতী বোমা বাহক হিসেবে তাদের জীবন বিনাশ হচ্ছে। সন্ত্রাসী এই বাহিনীর হাতে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে শিশুরা নানা ধরনের অন্যায়ের শিকার হচ্ছে। চরম সহিংসতার শিকার হতে হচ্ছে। সন্ত্রাসী হামলার শিকার শিশুরা জীবন হারাচ্ছে, অনেকে আহত, পঙ্গু হয়ে চিরকালের মতো অসম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে বেঁচে আছে। বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। দেখছে, বাড়িঘর, সম্পদ আগুনে পুড়ে মাটির সঙ্গে মিশছে। পারিবারিক বন্ধন ভাঙছে, পরিবারের সদস্যরা আলাদা হচ্ছেন। কোনো দিন হয়তো আর একসঙ্গে হতে পারছেন না সবাই। এতিম, ঘর, পরিজনহারা শিশুদের তো দেখার কেউ নেই। ফলে সন্ত্রাসী বাহিনীর লক্ষ্য হয়ে যাচ্ছে। দলে নিয়ে আসছে খাবার, আশ্রয় দেওয়ার লোভ দেখিয়ে; না জেনে তারাও চলে আসছে তাদের দলে। জায়গাগুলোতে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা বেশিদিন থাকছে না। নানাভাবে নির্যাতনের পর শিশুযোদ্ধা ও শিশু কনে হিসেবে অমানবিক জীবন শুরু করতে হচ্ছে।

এমন সব জীবন দেখার পর থেকে কাজে নামলেন দিভিনা। কোনো দিন ফিরে না আসার, সারাজীবন বয়ে বেড়ানোর ও চেনা পৃথিবী থেকে সরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা শিশুদের দেবেন না বলে পণ করলেন। তাদের বাড়িতে, নিরাপদ জীবনে ফিরিয়ে আসতে চাইলেন। শুরু করলেন তার বিখ্যাত প্রচারণা ‘শান্তির জন্য আমি দাঁড়িয়ে আছি’।

তার দেশ মিশ্র ভাষার ও সংস্কৃতির দেশ। ফ্রান্সের দীর্ঘকালের উপনিবেশ। সরকারি ভাষা ফেঞ্চ ও ইংরেজি। আরও চারটি আঞ্চলিক ভাষা সরকারিভাবে স্বীকৃত। ফলে সবার কথা সবাই বুঝতে পারেন না। যুদ্ধের ভয়াবহতায় স্বাভাবিক জীবন ও চর্চাগুলো কমেছে। ফলে বিশেষ ধরনের, শিশুদের জীবন ও মানুষের সম্পদ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামলেন তাদের চিরকালের সঙ্গীকে নিয়ে। যাদের বিশ্বের সব শিশুই চেনে। ক্যামেরুনের একটি অংশের শিশুদের ব্যথা সেভাবে ছড়িয়ে দিতে লাগলেন পুরো দেশের অন্য জায়গাগুলোতেও। কেন কাজটি করছেন? জবাবে সরল মেয়েটির সহজ উত্তর, ‘পৃথিবীতে শিশুরাই শান্তির সত্যিকারের বাহক।’ তাদের কষ্ট, এমন দুঃসহ জীবন কার্টুন এঁকে জানাতে লাগলেন। ২০১৫ সালে তার প্রচারণা হয়ে গেল আন্দোলন। এই সংগ্রামের নাম দিয়েছেন তিনি_ “চিলড্রেন’স ফর পিস (শিশুরা শান্তির জন্য)”। সারা বিশ্বে পরিচিত সংক্ষেপ ‘সি৪ পি’ নামে। তারা শিশুদের শান্তির পৃথিবী তৈরিতে অন্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানো ও তাদের জন্য টেকসই উন্নয়নের (দীর্ঘদিন টেকে এমন ভালো কাজ) ডাক দিচ্ছেন। সেই শিশুদের কথা ভেবে দিভিনা ও তার বন্ধুরা লড়াই করছেন, যারা অন্যায়গুলোর ব্যক্তিগত শিকার, মারা গিয়েছে। অন্তত তিন হাজারের বেশি কার্টুন এঁকেছে ‘সি৪ পি’র বন্ধুরা। কীভাবে শান্তকে ভালোভাবে রাখা সম্ভব হয় বলছেন। বিদ্যালয় ও শিশুদের কোরআন শেখার কেন্দ্র মসজিদগুলোতেও তারা কার্টুন ও তাদের বক্তব্য জানাচ্ছেন। উত্তরের সেসব শিশুর কাছে যাচ্ছেন তিনি_ যারা সব হারিয়ে পথে, ঘাটে জীবন কাটাচ্ছে; যুদ্ধ যাদের এতিম করে দিয়েছে। উত্তরের দূরের গ্রামগুলোতেও যাচ্ছেন, যেখানে শিশুরা ভালো জীবন ও লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। সে অভিজ্ঞতা, জীবনযাপনগুলো রাজধানী ইয়াউন্দ-এ ফিরে এসে সবাইকে জানাচ্ছেন। তার দলে এখন প্রায় ১০০ ক্যামেরুনের পার্লামেন্ট সদস্য কাজ করছেন। এক শ শিশু আছেন তারা। নিজেরা বসে অভিজ্ঞতাগুলো পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করেন, অন্যদের জানান। কীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পারেন ঠিক করে কাজে নামেন।

বিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে তিনি বোকো হারাম ও অন্য সশস্ত্র দলগুলোতে যোগ দিলে কী ক্ষতি হবে অভিজ্ঞতা থেকে শিশুদের বলেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার নেওয়া অভিজ্ঞতা অন্যদের উপলব্ধি করতে শেখায়। তারা সেই পথে ভুলেও পা বাড়ায় না। বোকো হারাম তাদের উত্তরের নাইজেরিয়ার সীমান্ত এলাকা দিয়ে এই দেশে এসেছে। তারা অন্তত ২৭ হাজার মানুষ মেরেছে। ২০ লাখেরও বেশি মানুষের সম্পদ চিরকালের জন্য ধ্বংস করেছে। মানুষগুলোকে উদ্বাস্তু বানিয়েছে। অন্যায় এই যুদ্ধের, দুই পক্ষের লড়াইয়ের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ক্ষতিকর শিকার শিশুরা। বারবার সে কথাগুলোই জানাচ্ছেন দিভিনা মালহুম। যারা নানা বিপদে পড়ে, বাধ্য হয়ে; না জেনে, জোর করায় বোকো হারামে যোগ দিয়েছে তাদেরও সাহায্য করছেন তারা। কারণ দলটিতে তো শিশুদের মানবাধিকারই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ৬০ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে পাঁচ বছরের মেয়ে শিশুর বিয়ের ঘটনা চোখে পড়েছে তার সেখানে। পুরো দেশের সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। আত্মঘাতী, নানা ধরনের বোমার বাহক হচ্ছে শিশুরা। ফলে নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ একত্রে করছেন দিভিনা ও তার বন্ধুরা। এভাবেই সমাজে শান্তির জন্ম দিচ্ছেন এক বালিকা। তারাই সমাজ পরিবর্তন করছেন। তার এই বিরাট নেটওয়ার্ক এখন পুরো দেশের ১০টি অঞ্চলে ছড়িয়েছে। মসজিদগুলোতে আছে তাদের পিস ক্লাব। বিভিন্ন জায়গাতে গিয়ে তারা সেই সমাজের মানুষদের নিয়ে শান্তি আলোচনা করছেন, নাম দিয়েছেন ‘শান্তি শিবির’। তারা শিশুদের ঘোষণাপত্র তৈরি করেছেন তাদের অধিকারের সর্বজনীন সনদের সঙ্গে মিল রেখে। সেগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বারবার বলছেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকেই এই বিশৃঙ্খল দেশে তার সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে পারেন। আলাদা এক মানুষ হিসেবে আপনার ভুবন ও যেখানে চলেছেন সেখানে পরিবর্তন আনতে পারেন।

দেশের ইংরেজি ভাষী অঞ্চলগুলোতে এখন কাজ শুরু করেছেন দিভিনা মালহুম। সেখানে বেশির ভাগ বিদ্যালয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের জন্য তিন বছরের জন্য বন্ধ আছে। তার দেশে সেন্ট্রাল আফ্রিকা (আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যভাগের দেশগুলোর অংশ; সেখানে বোকো হারামের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ নাইজেরিয়া, নাইজার ও চাঁদ আছে) থেকে নানাভাবে, সীমান্ত পেরিয়ে চলে আসা উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই বোকো হারামের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আলাদা রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করছে। তারা ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। তবে তাতে খুব ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা জীবনও হারাচ্ছে।

তাদের জন্য কাজ করে এবারের ‘দি ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস পিস প্রাইজ-২০১৯’ জয় করেছেন তিনি। পেয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত শিশু জলবায়ু আন্দোলনের নেতা গ্রেটা থানবার্গও। তিনি আটলান্টিক মহাসাগর নৌকা চালিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিশ্বনেতাদের সামনে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মেলনে তাদের কার্যক্রমের প্রতিবাদ জানানোর উপায় হিসেবে।

পৌরনীতির শিক্ষক এন্তিগো গুনাহুকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন দিভিনা। শিক্ষক বলেছেন, ‘আমার ছাত্রীর উদ্যোগে যুদ্ধের ভয়াবহতা কমছে। তবে যুদ্ধে নানাভাবে তৈরি বিশৃঙ্খলার শিকার হচ্ছে শিশু থেকে যুবসমাজ। দিভিনার কাজে অনেক বিদ্যালয় ও প্রতিবেশীর বাড়িতে এখন তরুণরা মাদক নিচ্ছে না। সমাজের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখায় তাকে ধন্যবাদ। তার কাজে শিশু থেকে পুরো যুবসমাজের চিকিৎসা ও উন্নত জীবন নিশ্চিত হচ্ছে। মালহুমের বারবার শান্তির বার্তা ছড়ানোর ফলে ক্যারাভ্যানের মধ্যে বাস করা যাযাবর ক্যামেরুনবাসীর সমাজগুলোও আরও সতর্ক এবং কার্যকর। পুলিশ বাহিনীও উদ্যোগী হয়ে নিয়মিত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে, যাতে কারও কাছে কোনোভাবে মদ ও মাদক পৌঁছাতে না পারে। তার জন্য আমি খুব গর্বিত।’

চরম সহিংসতা ও আমূল পরিবর্তনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কাজ করে দিভিনা এই পুরস্কার লাভ করেছেন। নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগ শহরে তারা আন্তর্জাতিক শিশু দিবস (৭ মার্চ) উপলক্ষে পুরস্কারটি ২০ নভেম্বর গ্রহণ করেছেন। এবার ছিলেন মোট ১৩৭ জন প্রতিযোগী, তাদের মধ্যে সেরা হয়েছেন এই দুজনে। আবেদনকারী এসেছেন মোট ৫৬টি দেশ থেকে। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা কিডস রাইটস’র অন্যতম কাজ হলো সম্মাননাটি প্রদান। বিশেষজ্ঞরা সেরা নির্বাচিত করেছেন। প্রতিবারের মতো ১৫তম এ পুরস্কারেও তাদের হাতে একজন নোবেল বিজয়ী পুরস্কার তুলে দিয়েছেন। এবার এসেছেন ভারতের বিখ্যাত শিশু অধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী কৈলাস সত্যার্থী। পুরস্কার নিতে এসে দিভিনা বোকো হারাম ও অন্য সন্ত্রাসী দলগুলোর মাধ্যমে আফ্রিকা মহাদেশে ধাপে ধাপে যে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা দেখছেন, বোধ করছেন জানিয়েছেন, ‘আমার দেশ ক্যামেরুনে বলার মতো নয়, এমন অসহনীয় কষ্ট ও ব্যথাভরা জীবন শিশুদের। ফলে তারা প্রবল আতঙ্কিত হয়ে থাকে। হাজার হাজার শিশু বাধ্য হয়ে বাড়িতে পালিয়ে আছে, কোথাও যেতে, স্কুলেও আসতে পারছে না। চোখের সামনে বাবা-মায়েরা দেখছেন, তাদের সন্তান, পরিজন, আত্মীয়দের মেরে ফেলা হচ্ছে; নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। শিশুদের অপহরণ করা হচ্ছে, তাদের পতিতালয়ে বাধ্য করা হচ্ছে অন্যায় ও অসুস্থ যৌনকর্মে। শিশুরাই আফ্রিকা মহাদেশে সন্ত্রাসের সবচেয়ে বড় শিকার।’ ১৬০টির বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত শুনেছেন তার এই বক্তব্য। অনেক রাষ্ট্রপ্রধানও ছিলেন। ক্যামেরুনের রাজধানীতেও শত শত ছাত্র, ছাত্রী; শিশু; তার পুরস্কার নেওয়া ও বক্তব্য রাখা জেনেছে। দিভিনা মালহুম আরও বলেছেন, ‘এই মহাদেশ ও পুরো বিশ্বের কাছে আমি আমার বন্ধু শিশুদের তাদের কথাগুলো তুলে ধরতে আমন্ত্রণ জানাই।’ ইতিবাচক যে কর্মসূচি ও আন্দোলন তারা শুরু করেছেন, সেগুলো সফল করতে দুজনেই এক লাখ ইউরো করে অনুদান ও পুরস্কার লাভ করেছেন। আমাদের টাকায় ৯ লাখ ৩৫ হাজার ১ হাজার ৪৯০ টাকা।

(সিয়াসট. কম ও কিডসরাইটস. অর্গ থেকে)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত