মরিচা পড়া টিনের চালার অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানিতে কাঁথা-কম্বল ভিজে যায়। টিনের বেড়াও মরিচা ধরে ভেঙে ফাঁকা হয়ে গেছে। নেই পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। শৌচাগারগুলো ব্যবহরের উপায় নেই। টিউবওয়েলের প্ল্যাটফর্ম ভেঙে লক্কড়ঝক্কড় অবস্থায় বসবাসের অনুপযোগীÑ এমন ‘অমানবিক’ পরিবেশেই বসবাস করছেন জলিশা আবাসন প্রকল্পের অর্ধশতাধিক ছিন্নমূল পরিবারের বাসিন্দারা। এককথায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার কদমতলা বাজারসংলগ্ন জলিশা আবাসন পল্লীতে গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের এমন করুণ চিত্র দেখা গেছে। আবাসন ব্যবস্থাপনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম খলিফা জানান, ২০০৮ সালে ৫ দশমিক ৫ একর সরকারি খাসজমিতে জলিশা আবাসন প্রকল্প তৈরি করে সরকার। ১২টি ব্লকে নির্মিত প্রতিটি শেডে ১০টি করে ঘরে মোট ১২০ পরিবারের বসবাসের ঘর রয়েছে। এই আবাসন পল্লীতে আঙ্গারিয়া ইউনিয়নে ১১১টি ছিন্নমূল পরিবারের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। মাত্র ৯টি ঘর বরাদ্দের অপেক্ষায় শূন্য ছিল। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ৮ নম্বর ব্লকের ৭-৮টি ঘড় পুড়ে যায়। অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ৮ পরিবারসহ মোট ২৩ পরিবারের লোকজন বসবাসের উপায় না থাকায় অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে জরাজীর্ণ আবাসন পল্লীতে ৮০ পরিবার বসবাস করছে।
আবাসন পল্লীর ৫ নম্বর ব্লকের ১ নম্বর বাসার আবু কালাম-পপি দম্পতি বলেন, অভাবের সংসার, মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হতো। ২০০৮ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মর্তুজা বাসাটি বরাদ্দ দিলে এখানে বসবাস করছি।
পপি বেগম বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আমাদের দেখে না। ভিজিডি, ভিজিএফসহ সরকারি কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা পাই না। স্বামী আবু কালাম মানুষের কাজ করেন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোটাতে হিমশিম খেতে হয়। তারপরও মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে খুশিই ছিলাম। কিন্তু বেড়া ও চালের টিন নষ্ট হয়ে বড় বড় ফুটো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, জলিশা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
