জোয়াকিম লো বনাম দিদিয়ের দেশম! ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বনাম কিলিয়ান এমবাপে! আঁতোয়া গ্রিজমান বনাম থমাস মুলার! বিশ্বের সেরা দুই ফুটবল মস্তিষ্কের যুদ্ধ, বিশ্বের সেরা দুই গেম মেকারের মরণপণ লড়াই। এ সব দেখে নিখাদ ফুটবলপ্রেমী হিসেবে জিভে জল আসছে? মনে হচ্ছে, এসব শুধুই স্বপ্ন কিংবা কম্পিউটার গেমেই একমাত্র সম্ভব? কিন্তু, আজ এটাই বাস্তব। আগামী বছর ‘ইউরো ২০২০’ গ্রুপ পর্বেই ওপরের তিন যুদ্ধের তিনটেই দেখা যাবে! যেখানে মস্তিষ্কের বিরুদ্ধে লড়বে মস্তিষ্ক। গেম মেকারের বিরুদ্ধে গেম মেকার। ফিনিশারের বিরুদ্ধে ফিনিশার।
শনিবার রাতে ইউরো ২০২০-এর ড্র’তে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল আর চারবারের বিশ্বকাপজয়ী জার্মানি পড়েছে একই গ্রুপে। ‘এফ’ গ্রুপে ফ্রান্স, পর্তুগাল এবং জার্মানির সঙ্গী হবে প্লে-অফ এ’র জয়ী দল। এই গ্রুপকে তাই বলা হচ্ছে গ্রুপ অব ডেথ। ব্রিটেনের প্রখ্যাত দৈনিক গার্ডিয়ান বলছে, ইউরোর ৬০ বছরের ইতিহাসের সবচে কঠিন গ্রুপ এটি। এর আগে ১৯৯৬ ইউরোর গ্রুপ ‘সি’কে সবচে কঠিন রায় দিয়েছিল পত্রিকাটি। সেই গ্রুপে ছিল পরবর্তী সময়ে ফাইনাল খেলা জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র এবং ইতালি ও রাশিয়া। সবগুলো দলই ছিল সে সময়ের ফিফা র্যাংকিং-এর শীর্ষ ১০-এ।
কঠিন গ্রুপে পরেও খুশি জার্মান কোচ জোয়াকিম লো, ‘তাদের নাম শুনেই আমার আনন্দ হচ্ছে। চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে আমরা খেলব, এটা দারুণ ব্যাপার। আমি মনে করি খেলোয়াড়রাও মুখিয়ে আছে। এটা অবশ্যই গ্রুপ অব ডেথ। এখান থেকে পার হতে হলে সর্বোচ্চ ফুটবল খেলতে হবে।’ কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি কোচ দেশমও, ‘আমরা জানি না যে আমাদের তৃতীয় প্রতিপক্ষ কারা। কিন্তু অন্য দুই দলের (জার্মানি-পর্তুগাল) সক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের জানা আছে। তাই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং প্রথম ম্যাচের জন্য তৈরি থাকতে হবে।’
‘ডি’ গ্রুপে থাকা ইংল্যান্ড রাশিয়া বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ পেল। গ্রুপে তাদের সঙ্গী বিশ্বকাপ রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ ‘এ’-তে ইতালি। ‘বি’ গ্রুপে বেলজিয়ামের সঙ্গী প্রথম বারের মতো ইউরো খেলতে আসা ফিনল্যান্ড। ৮ বছর পর ইউরো খেলতে আসা নেদারল্যান্ডস ‘সি’ গ্রুপে। বাছাইপর্বের পর মূল আসরেও একই গ্রুপে পড়েছে স্পেন ও পোল্যান্ড। তারা আছে ‘ই’ গ্রুপে।
বাছাইপর্বে আগেই নিশ্চিত হয়েছে ইউরোর ২০ দল। বাকি ৪ দল আসবে প্লে-অফ খেলে। আগামী বছর ১২ জুন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ইউরোপের মোট ১২টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ইউরো। এবার আয়োজক দেশ হিসেবে সরাসরি বাছাই করার সুযোগ পায়নি কোনো দেশই, বাছাইপর্ব খেলে মূলপর্ব নিশ্চিত করতে হচ্ছে দলগুলোকে। ১২ জুন রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে ইতালি-তুরস্ক ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের ইউরো। ছয় গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয়ে মোট ১২ দলের সঙ্গে তৃতীয় হওয়া সেরা চার দলও উঠবে শেষ ষোলোতে। শেষ ষোলো থেকে নকআউট পর্ব শুরু।
