ভেড়ামারায় নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুই ভাই হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে কমল হোসেন মালিথা (২৯), ফকিরাবাদ গ্রামের কাবুল প্রামাণিকের ছেলে কামরুল প্রামাণিক (৪১) ও সুমন প্রামাণিক (৩১) ও নজরুল ইসলামের ছেলে (পলাতক) নয়ন শেখ (২৭)। মামলায় ফকিরাবাদ গ্রামের ছের আলী শেখের ছেলে নজরুল শেখ (৪৩) ও আবদুর রহিম ওরফে লালিম শেখ (৩৩), আকুল মণ্ডলের ছেলে মাহফুজুর রহমান ওরফে কবি (৩৩), বেনজির প্রামাণিকের ছেলে হৃদয় আলী (পলাতক), নাজির প্রামাণিকের ছেলে সম্রাট আলী প্রামাণিক (পলাতক), গোলাপনগর গ্রামের মৃত নুরুল হক মালিথার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম ও আশরাফ মালিথাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রধান উত্ত্যক্তকারী গোলাপনগর গ্রামের আরিফুল ইসলামকে (১৯) শিশু বিবেচনায় ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের মুজিবর রহমানের (৫৮) বড় ছেলে আশরাফুজ্জামান রতনের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত একই গ্রামের আরিফুল। ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল এর প্রতিবাদ করার জের ধরে রাতে মসজিদে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মুজিবর ও তার ছোট ভই মিজানুর রহমানকে (৫৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে আসামিরা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মুজিবর। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মিজানুরের। হত্যাকাণ্ডের পরদিন মুজিবরের ছেলে জাহারুল ইসলাম ভেড়ামারা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের অক্টোবরে দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।
রায়ে আদালতে উপস্থিত মামলার বাদী জাহারুল সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি। আদালত প্রমাণ করেছে, অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক, আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মামলার শুরু থেকে নানা হুমকি ও ভয়তীতি মোকাবিলা করে এ পর্যন্ত এসেছি। এখন হয়তো পরিবারের প্রতি হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যাবে।’
