চামড়া নীতিমালা নিয়ে কর্মশালায় শিল্পমন্ত্রী

ব্যবসায়ীরা যা করছেন উন্নত দেশে তা হয় না

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২৪ পিএম

পেঁয়াজ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে দাম সুযোগ বুঝেই বাড়িয়ে দেওয়া, কোরবানির সময় ভরা মওসুমে চামড়া না কেনাসহ সুযোগ পেলেই দেশের মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসায়ীরা যেভাবে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন, উন্নত দেশগুলোতে এ ধরণের কোন নজির নেই বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী  নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। ব্যবসায়ীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জনগণকে জিম্মি করে ফায়দা লুটে নেওয়ার নাম ব্যবসা নয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা যা করছেন, উন্নত দেশে এসবের কোনো নজির নেই।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত চামড়া শিল্প নিয়ে এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ট্যানারি শিল্পের উন্নয়নে ব্যবসায়ীদেরই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প মালিকরা যেভাবে ক্রেতাদের চাপে কারখানায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করছেন, ট্যানারি শিল্প মালিকদের তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বর্তমানে বিশ্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজারের আকার ২২০ বিলিয়ন ডলার। অথচ বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। তাই এ খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। দেশের চামড়াজাত পণ্যে ওলদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সার্টিফিকেশন না থাকায় চামড়া শিল্পের রপ্তানি বাড়ছে না। এ সনদ অর্জনের জন্য সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে নিরীক্ষা চালানো হয়েছে, যেসব স্থানে প্রয়োজন উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তবে এ সনদ অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে হবে উদ্যোক্তাদেরই।

‘ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে এবং এর লাভ অথবা ক্ষতি দুটিই ব্যবসায়ীদের বিষয়। এলডব্লিউজি সার্টিফিকেশনের জন্য সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে প্রজেক্ট ডকুমেন্ট অনুযায়ী যথাযথভাবে চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্প সমাপ্ত করা। আর এ কাজটি সম্পন্ন করতে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং আমরা চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এটি সম্পন্ন করব। এরপর বাকি সব কাজ ট্যানারি মালিক ও চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের। তাদের বিষয়ে আমরা কোনো দায়-দায়িত্ব নেব না। তৈরি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা যেভাবে নিজেদের স্বার্থে কারখানার উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স অনুসরণ করেছেন, ঠিক একইভাবে ট্যানারি মালিকদেরও নিজ উদ্যোগে কারখানার উন্নতি ঘটাতে হবে এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কমপ্লায়েন্ট হতে হবে’Ñ যোগ করেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, আমরা বিদেশ থেকে ফিনিশড লেদার ও লেদার গুডস আমদানি করছি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশি চামড়া থেকেই আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্য পণ্য উৎপাদন করতে পারি। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগী হতে হবে।

শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম জানান, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) চলতি মাসেই পুরোপুরি চালু হচ্ছে। তার আগেই সিইটিপির শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে আমদানি করা সব যন্ত্রপাতি প্রকল্প এলাকায় এনে এখন সংযোজনের কাজ চলছে। তিনি জানান, চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপি পরিচালনার জন্য একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে; যারা ইতিমধ্যে দুটি বোর্ডসভাও করেছে। সিইটিপি পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, অর্থায়নের উৎস নির্ধারণ ও ঠিকাদারের কাছ থেকে সিইটিপি বুঝে নেওয়ার জন্য কারিগরি দিকগুলো পর্যালোচনা করে কোম্পানি করণীয় নির্ধারণ করছে। এটি পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের একজন বিশেষজ্ঞ (সিইও) ও একটি আন্তর্জাতিক ফার্ম নিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদসহ শিল্প মন্ত্রণালয় ও ইআরএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত