বিএসএমএমইউর প্রতি বিএনপি নেতারা

মিথ্যা তথ্য দিলে ‘জনতার আদালতে’ বিচার

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:০৬ এএম

আগামী ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদালতে যে রিপোর্ট দেবে তাতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন বিএনপি নেতারা। একই সঙ্গে তারা বলেছেন, মিথ্যা তথ্য দিলে জনগণ একদিন তাদের বিচার করবে। গতকাল এসব কথা বলেন তারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছি আদালতের দিকে। মনে করছি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে দেশের বিজ্ঞ বিচারকরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকবেন। পাশাপাশি বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ সত্যিকারের রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করবে।

তিনি বলেন, ইতিপূর্বে বিএসএমএমইউ সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের যে চিত্র তুলে ধরেছিল তা যথাযথ ছিল না। বিএনপি আশা করে এবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সত্যিকারের চিত্র তুলে ধরবে আদালতের কাছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিথ্যা তথ্য দিলে জনগণ একদিন তাদের বিচার করবে। জনতার আদালতে দাঁড়াতে হবে তাদের। 

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামল্ডলীর সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা আশা করি আদালত সকল চাপের ঊর্ধ্বে উঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন দেবেন। আর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষও সরকারের চাপের ঊর্ধ্বে উঠে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সত্যিকারের চিত্র আদালতে উপস্থাপন করবে।

গত ২৮ অক্টোবর কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানাতে বিএসএমএমইউতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক দাবি করেন, হাসপাতালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে। তাদের হাসপাতালে               

নেওয়ার পর থেকে গত সাত মাসে খালেদা জিয়ার অবস্থার কোনো অবনতি হয়নি। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির দিকে।

পরদিন এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মিথ্যাচারের জন্য একদিন জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

গত ২৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চায়। একই সঙ্গে ৫ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিএনপির অনেক নেতা খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আশাবাদী হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার যে রিপোর্ট আদালত চেয়েছে তাতে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে না। ফলে জামিন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তার কোনো মেরিট নেই। রাজনৈতিক কারণেই সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়েছে। তাই রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমেই সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে মুক্ত করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত