ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ চারজন খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী এ এম জামিউল হক ফয়সাল। আপিলকারী অন্য তিনজন হলেন উম্মে সুলতানা পপি, নূর উদ্দিন এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
এর আগে বিচারিক আদালতের রায়ের পর গত ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে আসে। এরপর আসামিদের জেল আপিলও কারা কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাইকোর্টে পৌঁছায়। ফৌজদারি বিধান অনুযায়ী বিচারিক আদালতে কারও মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে সেটি হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হতে হয়। পাশাপাশি আসামিরাও আপিল করতে পারেন।
গত ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৭), স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম (৫০), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), নূর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুননাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।
সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে একই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা করেন। এর জেরে নিপীড়নকারী ওই অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের রোষানলে পড়েন নুসরাত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসাটির সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সিরাজের অনুসারীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল হার মানেন নুসরাত।
