সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এফিডেভিট ও ফাইলিং শাখার অন্তত ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন শাখায় বদলি করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগের স্থলে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য শাখা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন করা হয়েছে। গত রবি ও সোমবার পর্যায়ক্রমে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয় বলে গতকাল দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা। গত সোমবারই এক মামলার শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘সিসি ক্যামেরা লাগিয়েও অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না’।
হাইকোর্ট বিভাগের এফিডেভিট ও ফাইলিং শাখার ঠিক কতজনকে বদলি করা হয়েছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, অন্তত ২০ জনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিকট অতীতে প্রায় একসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের কোনো শাখায় এমন বদলির ঘটনা আর ঘটেনি বলে জানিয়েছে উচ্চ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
ওই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, এফিডেভিট কমিশনার, ফাইলিং শাখার সুপার ও এমএলএসএস রয়েছেন এই বদলির তালিকায়। কী কারণে হঠাৎ এত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি একটি নিয়মিত বিষয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন যেকোনো সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন করে থাকে। এটিও সেই নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে এটি করা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের অন্য একটি সূত্র বলছে, যাদের বদলি করা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল এবং অনেক দিন ধরেই তারা নজরদারিতে ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসনিক প্রয়োজনে হাইকোর্টের এই দুই শাখার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। বদলির বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গতকাল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানে যখন অনিয়ম ঢzকে যায় তখন এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। প্রধান বিচারপতি কঠোর হ‡স্ত এগুলো দমন করার চেষ্টা করছেন। তাই এ ধরনের বদলি প্রধান বিচারপতির কঠোর অবস্থানের প্রমাণ।’ আইনজীবীরাও এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্টের এসব শাখায় অনিয়ম, দুর্নীতি হয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতির এমন সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।
গত সোমবার আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানিকালে এফিডেভিট শাখা নিয়ে অভিযোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ সময় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনও এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। বলেন, সিসি ক্যামেরা লাগিয়েও অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, বদলি হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে এফিডেভিট শাখার ৫ জন সুপার ও ৫ এমএলএসএস রয়েছেন। আর শূন্য হওয়া পদগুলোর মধ্যে ৫ সুপারের স্থলে ৪ জন এবং ৫ এমএলএসএসকে ওই পদে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া ফাইলিং শাখার সুপারকে ও ৪ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই শাখার একজন এমএলএসএসকে বদলি করা হয়েছে।
