কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ে ১১৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

বিমানের ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:৩০ এএম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ে রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে সরকারের ১১৮ কোটি টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন কমিশনের উপপরিচালক মো. নাসিরউদ্দিন।

মামলার আসামিদের মধ্যে বিমানের সাবেক পরিচালক আলী আহসান বাবু ও সাবেক ব্যবস্থাপক (রপ্তানি) ইফতেখার হোসেন চৌধুরীকে গতকাল দুপুরেই রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (কার্গো) ম. হাবিবুল্লাহ আকন্দ, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে সৌদি আরবে বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদের রিজিওনাল ম্যানেজার আমিনুল হক ভূঁইয়া, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মো. লুতফে জামাল, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন তালুকদার, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক রাজীব হাসান, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দীন তালুকদার, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক অনুপ কুমার বড়ুয়া, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক কেএন আলম, কার্গো আমদানি শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. ফজলুল হক, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক সৈয়দ আহমেদ পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মনির আহমেদ মজুমদার, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক এ কে এম মনজুরুল হক ও সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কার্গো হ্যান্ডেলিং চার্জ বাবদ ১১৮ কোটি টাকা আদায় না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন। তারা অসৎ উদ্দেশ্যে পারস্পরিক যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হন। আসামিরা নন-শিডিউল ফ্রেইটারদের লাভবান করার মতলবে ৪ হাজার ১১৫টি নন-শিডিউল ফ্রেইটার কর্তৃক পরিবহনকৃত ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কেজি কার্গো ও মেইলের বিপরীতে জিএইচসি (গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কমিটি) চার্জ বাবদ ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ৭৪ মার্কিন ডলারের ক্ষতি করেন। যা টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় ১১৮ কোটি ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৮ টাকা। ওই টাকা আদায় না করে তারা সরকারের আর্থিক ক্ষতি করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১২ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নন-শিডিউল ফ্রেইটারের মাধ্যমে কার্গো ও মেইল পরিবহনের ড়্গেত্রে শিডিউল ফ্রেইটারের কাছ থেকে আদায়যোগ্য চার্জের অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি কেজির জন্য নির্ধারিত হারে কার্গো ও মেইল হ্যান্ডলিং চার্জ আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। উল্লিখিত সময়ে মোট ৪ হাজার ১১৫টি নন-শিডিউল ফ্রেইটার কর্তৃক মোট ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কেজি কার্গো ও মেইল পরিবহন হয়। যার মোট অনাদায়ী কার্গো হ্যান্ডলিং চার্জ ১ কোটি ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ৭৪ মার্কিন ডলার বা ১১৮ কোটি ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। বিমানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ কর্তৃক এই চার্জ আদায় না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়। পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জনেন্দ্র নাথ সরকারের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও এ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির জন্য বিমানের কার্গো শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলা করল দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত