এ বছরের নভেম্বরে জার্মানির প্রাচীন গ্রিন ভল্ট মিউজিয়াম থেকে চুরি হয়েছে মহামূল্যবান ঐতিহাসিক কিছু রত্ন। ১৮ শতকের অমূল্য এই রত্নগুলো আর কখনো খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চুরি যাওয়ার ওই ঘটনা এবং প্রাচীন রত্নগুলো নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
জার্মানির গ্রিন ভল্ট মিউজিয়াম
ইউরোপের ইতিহাসের অনেক প্রাচীন রত্নের ভাণ্ডার জার্মানির ড্রেসডেনের গ্রিন ভল্ট মিউজিয়াম। ১৭২৩ সালে এই মিউজিয়াম নির্মাণ করেন পোল্যান্ড এবং স্যাক্সনির প্রধান অগাস্টাস দ্য স্ট্রং। মিউজিয়ামটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৭ শতকের বারোক থেকে শুরু করে ক্লাসিসিজম পর্যন্ত চিত্র শৈলী দ্বারা। গ্রিন ভল্ট নামটা এসেছে বিভিন্ন রুমের স্তম্ভের ওপরে থাকা হালকা সবুজ রং থেকে। জার্মানির এই মিউজিয়ামকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মিউজিয়াম। ১৭৫৯ সালে খোলা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের চেয়েও পুরনো এই জাদুঘর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ড্রেসডেনে বোমা হামলায় জাদুঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিকে আবারও সংস্কার করা হয়।
গ্রিন ভল্টে চার হাজারেরও বেশি অলংকার ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্মভর্তি দশটি কক্ষ রয়েছে। মিউজিয়ামে রাখা রতœগুলো বর্তমানে দুইভাগে প্রদর্শিত হয়। প্রথমটি ঐতিহাসিক অঞ্চল। ১৮ শতকের দামি এবং অমূল্য রতœ দিয়ে সাজানো এই জায়গাটি। আরেকটি নতুন অঞ্চল। এখানে পৃথক পৃথক কক্ষে আলাদা আলাদা জিনিস রাখা আছে।
ড্রেসডেন প্রাসাদের প্রথম এবং দ্বিতীয় তলার পুরোটা জুড়ে গ্রিন ভল্ট মিউজিয়াম। বর্তমানে এটি ড্রেসডেন স্টেট আর্ট কালেকশনের অন্তর্ভুক্ত। চোরেরা টার্গেট করেছিল মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক অংশকে। সেখানে জাদুঘরের মোট সংগ্রহের তিন ভাগের এক ভাগ রয়েছে। জাদুঘরের আইভরি কক্ষ, সিলভার গিল্ট কক্ষ এবং কেন্দ্রীয় ‘হল অব ট্রেসারস’সহ ৯টি কক্ষে প্রদর্শনীর আয়োজন চলছিল। রুশ জার প্রথম পিটারের দেওয়া উপহার ৫৪৭ দশমিক ৭১ ক্যারেটের নীলকান্তমণি, পান্না দিয়ে নোঙরখচিত ৬৩ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার আয়তনের অলংকার সংরক্ষিত রয়েছে এখানে। ওই জাদুঘরের আরেকটি মূল্যবান অলংকার হলো ‘গ্রিন ডায়মন্ড’। বর্তমানে এটি নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টকে প্রদর্শনীর জন্য ধার দেওয়া হয়েছে।
১৯৪৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গ্রিন ভল্টের আটটি কক্ষ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। যুদ্ধের শেষের দিকে রতœগুলো রেড আর্মিরা সোভিয়েত ইউনিয়নে পাঠিয়ে দেয়। ১৯৫৮ সালে এগুলোকে আবারও ড্রেসডেনে ফিরিয়ে আনা হয় এবং আলবার্টেনিয়ামে এগুলোর কয়েকটি রতœ প্রদর্শন করা হয়। ড্রেসডেন প্রাসাদ সংস্কার করার পর ২০০৪ সালে নতুন গ্রিন ভল্ট অংশটি খুলে দেওয়া হয় দর্শনার্থীদের জন্য। ঐতিহাসিক অংশের সংস্কার করা শেষে এটি খুলে দেওয়া হয় ২০০৬ সালে। ১৭২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পর্যটকদের আকর্ষণ ছিল এ জাদুঘর।
ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা প্রায় ১০০ অলংকারের ওপর টার্গেট ছিল দুর্বৃত্তদের। এর আগে ২০১৭ সালে বার্লিনের বোডে জাদুঘর থেকে ১০০ কেজি ওজনের ২৪ ক্যারেট সোনার একটি মুদ্রা চুরি হয়েছিল।
এত দামি রতœ চুরি করতে যে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার তার পেছনে অবশ্যই পেশাদার চোরের হাত আছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তারা এই ঐতিহাসিক দামি জিনিসের মূল্য জানে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দামি এই অলংকারগুলো থেকে হীরা-পান্না এবং মনি-মুক্তাগুলো খুলে অথবা সোনা গলিয়ে যদি তারা আলাদা আলাদাভাবে বিক্রি করে দিতে পারে। যদি তারা দ্রুত এই কাজ করতে সক্ষম হয় তবে ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত অমূল্য এই সম্পদের সন্ধান হয়তো আর কখনোই পাওয়া যাবে না ।
যেভাবে ঘটে চুরির ঘটনাটি
চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর জার্মানির ড্রেসডেনের সুপ্রাচীন গ্রিন ভল্ট মিউজিয়াম থেকে ১৮ শতকের অমূল্য রতœ চুরির যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে ছিল প্রায় শত কোটি মূল্যের অলংকার ও ধনদৌলত। জার্মানির ট্যাবলয়েড বিল্ড ডেইলি জানিয়েছে, মিউজিয়ামে চুরির এ ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় চুরি। ড্রেসডেনের রয়াল প্যালেসের গ্রিন ভল্টে ছিল হাতির দাঁত, হীরা, সোনা, রুপাসহ বিভিন্ন ধরনের অমূল্য সব রতœ। এই রতœগুলোর অধিকাংশই ১৮ শতকের। এত দামি জিনিস চুরির জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল- তা ছিল একদম নিখুঁত। সেদিন ভোরের দিকে চোরেরা ওই জাদুঘরের কাছাকাছি একটি ইলেকট্রিক্যাল প্যানেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ওই এলাকা। ফলে সড়কের বাতিগুলো নিভে যায় এবং জাদুঘরের সতর্কীকরণ অ্যালার্মটিও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পরে ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভবনের জানালার সুরক্ষিত লোহার রড ভেঙে ভেতরে ঢোকে দুই চোর। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা কাজ করছিল বলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে ভিডিওতে দেখা গেছে। চুরির এই ঘটনার একটি ভিডিও পুলিশ প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হাতে টর্চলাইট ধরে আছেন এবং অপরজন কুড়াল দিয়ে জাদুঘরের শো-কেসের কাঁচ ভাঙছেন। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এই কর্মকাণ্ড ঘটায় চোরেরা। মিউজিয়াম থেকে বের হয়েই এ-৬ মডেলের একটি অডি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় একজন। অপরজন দৌড়ে পালায়। সকাল পৌনে ১১টার দিকে মিউজিয়ামের একজন কর্মী প্রথম চুরির এই ঘটনা দেখতে পান। এ ঘটনায় কতজন জড়িত আছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনার দিন মিউজিয়ামে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিল না। চুরিতে ব্যবহৃত গাড়িটি পরে উদ্ধার করা গেলেও সেটি অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। চুরিতে নিযুক্ত সন্দেহভাজনদের আটক করতে গাড়িটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম চুরির এ ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো জার্মানি। ঘটনার দিনই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ড্রেসডেনের শিল্প সংরক্ষণবিষয়ক পরিচালক ম্যারিয়ন অ্যাকেরম্যান বলেন, যা চুরি হয়েছে তার মূল্য আমরা নির্ধারণ করতে পারিনি। কারণ এগুলোর সবই অমূল্য সম্পদ। পুলিশের ধারণা, এই ঘটনায় শুধু ওই দুই চোর নয়, আরও বেশ কয়েকজন জড়িত আছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে সাড়ে ৫ লাখ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে জার্মান পুলিশ। যেসব রতœ অলংকার চুরি হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-
ডায়মন্ড হেট ক্ল্যাস্প
১৫টি বড় এবং ১০০টিরও বেশি ছোট হীরাযুক্ত এই অলংকারটি রাজকীয় মুকুটের সঙ্গে পরা হতো। ১৭৮০ সালে এটি প্রস্তুত করা হয়। পোল্যান্ডের রাজা ও লিথুয়ানিয়ার গ্র্যান্ড ডিউক
তৃতীয় অগাস্টাস যে কোনো বড় উৎসবের সময় হীরাখচিত এই অলংকারটি তার মুকুটের সঙ্গে পরতেন। অলংকারের নেকটাই আকৃতির জায়গায় যে হীরাটি বসানো ছিল তার ওজন ১৬ ক্যারেট।
হীরার কাঁধের অলংকার
এই অলংকারটিও নির্মিত হয়েছিল ফ্রেডরিক তৃতীয় অগাস্টাসের সময়। এটি মূলত কাঁধে পরার একটি অলংকার। এতে ২৩০টি হীরা যুক্ত আছে। ১৭৫৬ সালে সাত বছরের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৭৮০ সাল নাগাদ ২২ সেন্টিমিটার দীর্ঘ (৮ দশমিক ৬ ইঞ্চি) এই অলংকারের কাজ শেষ হয়নি। অলংকারটির মাঝে সংযুক্ত দুই লাইনে যে হীরাগুলো আছে তার সবই রোজ কাট ডায়মন্ড।
অর্ডার অফ দ্য হোয়াইট ঈগল ব্রেস্ট স্টার
১৭৪০ সালের শেষের দিকে এই অলংকারের কাজ শেষ হয়। পোল্যান্ডের ‘অর্ডার অফ হোয়াইট ঈগল’কে উপস্থাপন করে এই অলংকার। ব্রেস্ট স্টারের কাজ করেছিলেন জনপ্রিয় হীরা কর্মকার এবং সুইস অলংকার কারিগর জেন জ্যাকুস পালার্ড। ব্রেস্ট স্টারে আটটি দিকনির্দেশ করা আছে যার পুরোটাই হীরাখচিত, মাঝে আছে ২০ ক্যারেটের একটি বড় হীরা। মাঝের দিকে চারদিকে মূল্যবান লাল রুবি দিয়ে সজ্জিত। এই লাল রুবিগুলো ছিল পূর্বের ঈগলের নকশার মাঝে থাকা লাল রঙের নতুন প্রতিস্থাপন।
‘অর্ডার অফ দ্য হোয়াইট ঈগল’ ব্যাজটি হচ্ছে পোল্যান্ডের সাধারণ এবং মিলিটারিতে যুক্ত ব্যক্তিদের মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। ১৭০৫ সালের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় অগাস্টাস এই স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি শুরু করেন। শুরুতে এই স্বীকৃতি পান তার নিকটতম আটজন রাজনীতিবিদ এবং কূটনীতিক। পোল্যান্ডের স্থানীয় ব্যক্তি এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ‘অর্ডার অফ দ্য হোয়াইট ঈগল’ ব্যাজটি ডান পাশের বাম কাঁধের ওপরে নীল রঙের ফিতা দিয়ে সংযুক্ত থাকে।
সর্বপ্রথম ব্যাজটি স্বর্ণের তৈরি ছিল। লাল রঙের ওপর সাদা ঈগল আর সঙ্গে আড়াআড়িভাবে যুক্ত বেশ কিছু তলোয়ার রাজকীয় ভাবমূর্তি প্রকাশ করে। রাজকীয় ঘরানার এই ব্যাজটি লাগানো থাকে নীল রঙের ফিতার ওপর। ব্যাজটি মাল্টিজ ক্রসে পরিবর্তিত হয় ১৭০৯ সালে। মাল্টিজ ক্রস হচ্ছে একটি ক্রস প্রতীক। এই ক্রস চিহ্নে চারটি ‘ভি’ বা তীর আকৃতির প্রান্ত আছে যা বাইরের প্রতিসাম্যকে নির্দেশ করে।
১৭১৩ সাল থেকে ঘাড় থেকে নেমে আসা একটি নীল রঙের ফিতার (সø্যাশ) সঙ্গে এটি পরা হতো। অগাস্টাস দ্য স্ট্রং তার সময়ে ৭২ জনকে এই স্বীকৃতি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৭৩৩ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মাত্র ৪০ জনকে এই সম্মান দিতে পেরেছিলেন। তার পুত্র অগাস্টাস ৩০০ জনেরও বেশি মানুষকে ব্যাজ প্রদান করেছিলেন।
১৭৯৫ সালে তৃতীয় বারের মতো পোল্যান্ড ভাগের পর ব্যাজ প্রদানের বিষয়টি বাদ হয়ে যায়। পরে ১৮০৭ সালে পুনরায় শুরু হয় এবং ডাচি অফ ওয়ারশো’র (নেপোলিয়নের তৈরি একটি পোলিশ স্টেট) জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৮১৫ সালে পোল্যান্ডের রাজত্ব রাশিয়ান সাম্রাজ্যের একটি অংশ হওয়ায় পরে রাশিয়াতেও এটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। রাশিয়ান সৈন্যদের হাতে পোলিশরা হেরে গেলে অর্ডার অফ দ্য হোয়াইট ঈগলকে পুনরায় ১৮৩১ সালের ১৭ নভেম্বর রাশিয়ান সার্বভৌম সম্মানে মর্যাদাভুক্ত করেন জার নিকোলাস। ১৯২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এই মর্যাদা আবারও পোল্যান্ড লাভ করে। ১৯৪৮ সালে, পোল্যান্ড গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা নিয়ে এলে হোয়াইট ঈগল প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি বন্ধের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
তলোয়ার এবং তলোয়ারের খাপ
তলোয়ারটি লম্বায় ৯৬ সেন্টিমিটার (৩৮ ইঞ্চি) এবং ওজনে ৫৫৩ গ্রাম (১ দশমিক ২ পাউন্ড)। তলোয়ারটির ওপরের অংশে বেশ কয়েকটি হীরা খচিত। যে মোড়ক বা খাপ দিয়ে তলোয়ারটি ঢাকা থাকে সেটিও হীরাসদৃশ।
তলোয়ার এবং খাপ দুটিতে মিলে মোট ৮০০টি হীরা আছে। ড্রেসডেনের স্টেট মিউজিয়ামে অনেক বছর ধরেই অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে শোভা পাচ্ছিল হীরাখচিত প্রাচীন এই তলোয়ারটি। এই মিউজিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো এবং সুপরিচিত মিউজিয়ামের একটি। তলোয়ারটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। এত বছরে বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে এর।
অর্ডার অফ দ্য হোয়াইট ঈগল রত্ন
কিশোর বয়সেই পোল্যান্ডের সবচেয়ে বীরত্বপূর্ণ সম্মান হোয়াইট ঈগল অর্জন করার পর ফ্রেডরিক তৃতীয় অগাস্টাস সিদ্ধান্ত নেন এটিকে তিনি পুরোটা হীরাখচিত করবেন। কারিগরকে তিনি জানালেন কীভাবে এই অলংকারকে তিনি হীরা দিয়ে পূর্ণ করতে চান। পূর্বের ডিজাইনটি ঈগল পাখির আকৃতিকে প্রতিফলিত করত। পাখির পুরো শরীর আবৃত ছিল হীরা দিয়ে। নখযুক্ত পা জোড়া হীরার মাঝে দেখা যেত। নকশার ভাব ঠিক রেখে তিনি শুধু পুরো অলংকার জুড়ে দিয়েছিলেন হীরা দিয়ে।
মুক্তার মালা
ড্রেসডেনের জাদুঘর থেকে যে মুক্তার মালাটি চুরি হয়েছে সেটি ছিল ১৭৭টি মুক্তাযুক্ত একটি মালা। মুক্তার আকার ৬ দশমিক মিলিমিটার থেকে ১২ দশমিক ৯ মিলিমিটার। ১৭৩৪ সালের আগে প্রদর্শনীর জন্য মালায় থাকা মুক্তাগুলো আলাদাই থাকত। ১৯২৭ থেকে ১৯৩৭ সালের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে মুক্তোগুলো একত্রিত করে মালা বানানো হয়।
তালপাতার আকৃতিতে ছোট অলংকার
তালপাতা চেনেন না এমন মানুষ বোধহয় খুব কম। তালপাতা দিয়ে ছেলেবেলায় অনেকেরই সøাইডার খেলার স্মৃতি রয়েছে। হীরার তৈরি এই গহনাটিও ঠিক তেমন তালপাতার আকৃতিতেই তৈরি। রোমান ক্যাথলিক বিশ্বাসকে সমর্থন করে এই অলংকার নির্মাণ করা হয়েছে। তালগাছের পাতাগুলো যেমন লম্বা হয়ে ছড়ানো থাকে তেমন হীরাগুলোও অলংকারে ছড়ানোভাবেই বসানো।
নেকটাই আকৃতির ব্রোচ
হীরাখচিত নেকটাই আকৃতির এই ব্রোচটি ১৮ শতকের। সে সময় এটি আদালতে কর্মরত নারীরা গলায় পরতেন। ড্রেসডেনের গ্রিন ভল্ট থেকে যে ব্রোচটি চুরি হয়েছে সেটি ছিল তৎকালীন ইলেক্টরের স্ত্রী এমেলির। ১৭৮২ সালে স্যাক্সোনির অগাস্টার কন্যা রাজকুমারী মারিয়া অগাস্টার জন্য যে ব্রোচ বানানো হয়েছিল চুরি যাওয়া ব্রোচটি ছিল সেই আদলেই। এই অলংকারে সব মিলিয়ে ৬৬০টি হীরা ছিল যার সর্বমোট ওজন ৬১৪ ক্যারেট
