সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করে ফেঁসে গেছেন নাজমুল হুদা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩৪ এএম

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে মামলা করে ফেঁসে গেছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। মামলার অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান।

নানা নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই বছর আগে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বিদেশে পাড়ি জমানোর পর যখন তার বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে নেে

দুদক, তখনই ঘুষের মামলাটি করেছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি নাজমুল হুদা। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলাটি হলে পুলিশ ৩ অক্টোবর মামলাটি দুদকে পাঠিয়ে দেয়। ওই মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘উনি (সৈয়দ ইকবাল হোসেন) তদন্ত প্রতিবেদন ফাইনাল রিপোর্ট অ্যাজ ইন্টেনশনালি ফলস হিসেবে দাখিল করেছেন।’ কমিশন এই অভিযোগ থেকে বিচারপতি সিনহাকে অব্যাহতি দিলেও একই দিন ঋণ জালিয়াতির মামলায় তাকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। এদিকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে দুদক আইনের ২৮(গ) (২) ধারায় মামলা করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান সাঈদ মাহবুব। এই বিষয়ে নাজমুল হুদার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করার পর নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২০১৭ সালে তার কাছে সোয়া তিন কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন বিচারপতি এসকে সিনহা। ‘সে সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন, টাকা না দিলে আমার বিরুদ্ধে করা সবকটি মামলার রায় বিরুদ্ধে যাবে। ঘটনার তারিখ ছিল ২০ জুলাই। ওই দিন দুপুরে প্রধান বিচারপতি তার খাস কামরায় ডেকে ঘুষ দাবি করেন।’ সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য মীর জাহের হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক মামলায় নাজমুল হুদার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। জরুরি অবস্থার সময় দেওয়া ওই মামলার রায়ে হুদার স্ত্রী সিগমা হুদারও তিন বছর কারাদণ্ড হয়েছিল।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাইকোর্ট তাদের খালাস দেয়। কিন্তু দুদকের আপিলে আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়। তখন আপিল বিভাগে ছিলেন বিচারপতি সিনহা। মামলার পুনঃশুনানি শেষে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ নাজমুল হুদাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়। বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ কোম্পানি মর্গানেট ওয়ান লিমিটেডের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আরেক মামলায় নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত