ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথমবর্ষে ২ হাজার ৩০৫টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির পরীক্ষা হয়েছে। ফলাফলে কোটার জন্য শর্ত পূরণ হয়নি বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর। ফলে কর্র্তৃপক্ষ কোটায় ভর্তির শর্ত শিথিল করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এখন মৌখিক পরীক্ষা নিচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে পোষ্য (কর্মরতদের সন্তান) ও খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দিতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, দলিত-হরিজন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী কোটায় বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসন বলছে, আগে থেকেই এভাবে চলে আসছে। ভর্তির শর্ত নিজ নিজ ইউনিট নির্ধারণ করে। কেন্দ্রীয়ভাবে তারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কোটাকে মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি-ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়, হরিজন-দলিত (অন্তজ) সম্প্রদায়
ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং খেলোয়াড় ও পোষ্য কোটা নামে দুটি ভাগ করা হয়েছে। শর্ত শিথিলে ‘এ’ ও ‘ডি’ ইউনিটে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের জন্য লিখিত ৮ নম্বরসহ সর্বনিম্ন ৩২ পেতে হবে। কিন্তু পোষ্য ও খেলোয়াড় কোটাধারীদের জন্য তা লিখিত ৫ নম্বরসহ ২৬ করা হয়েছে। ‘সি’ ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় ইংরেজিতে ন্যূনতম ১২ নম্বরসহ ৩২ পাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবার ২০ নম্বরের লিখিত অংশে ৫ পাওয়া বাধ্যতামূলক। এখানে অন্যান্য শাখা (বিজ্ঞান ও মানবিক) থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও ইংরেজি অংশে ১২ নম্বরসহ মোট ৩২ পেতে হবে। তবে ২০ নম্বরের লিখিত অংশে তাদের কমপক্ষে ৭ পেতে হবে। কিন্তু একই ইউনিটে পোষ্য ও খেলোয়াড় কোটাধারীদের ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় ইংরেজি অংশে ১২ নম্বরসহ ২৬ পেলেই চলবে। লিখিত অংশে মাত্র ৪ পেতে হবে। একইভাবে ‘বি’ ইউনিটেও বৈষম্য দেখা গেছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় মোট ৩২ পেতে হবে। এর মধ্যে ২০ নম্বরের লিখিত অংশে কমপক্ষে ৪ পাওয়ার শর্ত। কিন্তু পোষ্য ও খেলোয়াড় কোটাধারীদের মোট নম্বরের মধ্যে ২৬ পেলেই হবে। আর লিখিত অংশে মাত্র ৩ নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রতিটি ইউনিটেই ৩ থেকে ৫ নম্বরের বৈষম্য রাখায় যোগ্যতা সত্ত্বেও বঞ্চিত হচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা/নাতি-নাতনি নির্বাচন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমন বৈষম্যমূলক শর্ত অবমাননাকর। ফোরামে আলোচনা করে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘প্রভাবশালী শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের অযোগ্য সন্তানদের (পোষ্য) ভর্তি করাতে অনৈতিক অবস্থান নেন। তারা খেলোয়াড় কোটার নামে স্বজনদের ভর্তি করান। পরে এদের বেশির ভাগ শিক্ষাজীবন শেষ করেন না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আবদুল লতিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুরু থেকেই পোষ্য ও খেলোয়াড় কোটা বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছে। শর্ত শিথিল বা আরোপ করে নিজ নিজ ইউনিট। আমরা কেন্দ্রীয় প্রশাসন তার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করি।’
এবার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৫ শতাংশ, শারীরিক প্রতিবন্ধী ২০, উপজাতি ১৫, হরিজন সম্প্রদায় ৫ ও খেলোয়াড় কোটায় ১০ জন ভর্তি করা হবে। তবে বরাবরের মতো পোষ্য কোটার সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
