আজ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৫৫ এএম

গণতন্ত্রের মানসপুত্রখ্যাত উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে মারা যান। সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহান এই নেতার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘সোহরাওয়ার্দী আমৃত্যু আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। তার জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করবে।’ আরেক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং মানুষের কল্যাণ সাধনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবন ও আদর্শ আমাদের সর্বদা অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।’

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাখেন তিনি। ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। সোহরাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) ও বিসিএল ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন। ১৯২০ সালে ভারতে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। মুসলিম লীগকে শক্ত ভিতে দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৩৭-৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরে আওয়ামী লীগ) গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন সোহরাওয়ার্দী।

মুসলিম লীগকে হারিয়ে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক জয়ের পেছনেও ভূমিকা ছিল তার। গুণী এই রাজনীতিক ১৯২১ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা এবং পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৪ সালে কলকাতা করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হকের কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্যমন্ত্রী, ১৯৪৩-৪৫ সালে খাজা নাজিমুদ্দীনের মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী ছিলেন। ঢাকায় তার নামে নামকরণ করা উদ্যানে এ রাজনীতিকের কবর রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত