রাজধানী গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার রায় ঘোষণার দিন আসামিরা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে বের হওয়ার সময় একজনের মাথায় ও দুজনের হাতে টুপি ছিল। কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে এ তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্তসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের আরও বলেন, কারা কর্মকর্তাদের সামনে দিয়ে জঙ্গিরা টুপিগুলো নিয়ে বের হলেও কেউ তাদের বাধা দেননি।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে কি না তা জানার জন্য আগামী রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
গত ২৭ নভেম্বর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলায় রায় ঘোষণা হয়। রায়ে সাতজনের ফাঁসি ও একজন খালাস পান। রায় ঘোষণার পর এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির মাথায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রতীক সংবলিত একটি টুপি দেখা যায়। পরে প্রিজনভ্যানে আরেক জঙ্গির মাথায় একই ধরনের টুপি দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে টুপির উৎস খুঁজতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কারা ও ডিএমপি কর্র্তৃপক্ষ। তবে গত আট দিনেও সেই টুপি ও এর সরবরাহকারীর খোঁজ পায়নি তারা।
এর আগে গত শনিবার কারা কর্র্তৃপক্ষ দাবি করে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কারাগার থেকে নয়, এজলাস চত্বরে কারও কাছ থেকে টুপি সংগ্রহ করেন আসামিরা। কারাগার থেকে ওই টুপি সংগ্রহ করার কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, তদন্তে কারাগারের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসামিরা আদালতে আসার সময় কারাগারে তাদের তল্লাশি করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছে দুটি সাদা টুপি এবং একটি কালো টুপি ছিল। তবে কারা কর্র্তৃপক্ষ সেই টুপিগুলো আনতে বাধা দেয়নি। পোশাকের অংশ হিসেবে টুপি আনতে বাধা দেওয়ার কথাও নয়। তবে সেসব টুপির ভাঁজে সিগনিফিকেন্ট কিছু লেখা ছিল কি না সেটি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
‘আইএসের টুপির’ সঙ্গে কারাগারের কেউ জড়িত না কারা কর্র্তৃপক্ষের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তারা আইএসের প্রতীক সংবলিত টুপির বিষয়ে কেউ জড়িত না বলেছেন। কিন্তু কারাগার থেকে আনা টুপির বিষয়ে কিছু বলেননি। সেই টুপির মধ্যে সিগনিফিকেন্ট সেই প্রতীক ছিল কি না, বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, ‘আমাদের তদন্ত শেষ। তদন্তে পাওয়া সব তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।’
