বরুড়ায় আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুগ্রুপের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে বরুড়া পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এ সংঘর্ষের সময় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। এসবের পরও দুগ্রুপ পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণা করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল গতকাল ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের এ তারিখ ঘোষণা করেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সমাবেশের মাধ্যমে ঘোষিত সম্মেলনকে প্রত্যাখ্যান করে যেকোনো মূল্যে প্রতিহতের ঘোষণা দেয় উপজেলা চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম সমর্থিত আওয়ামী লীগ। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মইনুল সমর্থিত নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ঈদগাহ মাঠে সম্মেলনের প্যান্ডেল ভাঙচুরসহ দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বাধা দিতে গেলে বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব উদ্দিন রকি, সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামি ও এএসআই দোলন আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে। পরে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সভাস্থলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়।
নেতাকর্মীরা জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির পরও সভাস্থল পরিবর্তন করে সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন হয়। মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে কাউন্সিলর নেতাকর্মীদের প্রস্তাব ও সমর্থনে সাংসদ নাছিমুল সভাপতি এবং নাসির উদ্দিন লিংকন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন অংশ পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে অধিবেশনের মাধ্যমে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে। কমিটির সভাপতি মইনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান।
এমপি নাছিমুল বলেন, ‘আমরা সবাই আওয়ামী লীগ করি। উচ্ছৃঙ্খল কোনো আচরণ করা যাবে না। যারা বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও আমার ছবি ভাঙচুর করেছে; তাদের অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।’ অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সমন্বয় না করার কারণে বাধ্য হয়ে আজকে পাল্টা কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করেছি। কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি।’
বরুড়া থানার ওসি সত্যজিৎ বড়–য়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রাখার স্বার্থে পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দুপক্ষকে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে কাউন্সিল করতে দেওয়া হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুল ইসলাম বলেন, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
