পোস্টারে ঝকঝকে ছবি দিয়ে, বিলবোর্ডে বড় বড় ছবি দিয়ে ও মাস্তানি করে আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার দিন শেষ বলে মনে করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার নগরের লালদীঘি মাঠে
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নেতা হবে দলের ত্যাগীরা, যারা দলের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সুখে-দুঃখে যারা দলের সঙ্গে ছিলেন, তারাই নেতা হবেন। সেøাগান দিয়ে নেতা বানানো যাবে না। আমরা কি সেøাগান শুনে নেতা বানাব?’
ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের শুরুতেই চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি সেøাগান বন্ধ না করায় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই লালদীঘি মাঠে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের তৎপরতায় তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সম্মেলন উপলক্ষে সমাবেশ শেষে বিকেলে নগরের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ৩৫৩ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।
এখন পোস্টার-ব্যানার লাগাতে, হ্যান্ডবিল বিলি করতে কর্মী পাই না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগে এখন অনেক নেতাকর্মী কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন নেতা উৎপাদনের বিশাল কারখানা। কর্মী উৎপাদনের কারখানা ছোট হয়ে গেছে। কর্মীরা সব নেতা হয়ে গেছে। মুই কি হনুরে ভাব। আমি নেতা, আমি পোস্টার লাগাব কেন- এমন ভাব তাদের মধ্যে।’ তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরা এসে বড় বড় পদ দখল করে। ত্যাগী কর্মী ছাড়া সুবিধাবাদীরা এসে যদি বড় বড় পদ দখল করে, তাহলে আওয়ামী লীগ টিকবে না। জনগণের কাছে জনপ্রিয় এবং কাউন্সিলরদের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নেতা বানাতে হবে। অনেক কর্মী দীর্ঘদিন দল করে, কিন্তু কমিটিতে পদ পায় না।’
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা মহানগরে যাদের নামে বেশি পোস্টার-বিলবোর্ড-সেøাগান দেখা গেছে, তাদের একজনও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- আওয়ামী লীগে খারাপ লোকের প্রয়োজন নেই। বুয়েটে আবরারকে যারা খুন করেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা কথায় কথায় মারামারি করে, এমন নেতাকর্মীর দরকার আওয়ামী লীগে নেই। রাজশাহীতে অধ্যক্ষকে যারা পানিতে ফেলেছে তাদের আওয়ামী লীগে দরকার নেই। মাস্তানি-গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘টেন্ডারবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, জমি দখলকারী, সন্ত্রাসীদের আওয়ামী লীগে না বলুন। দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত শুদ্ধি অভিযান স্তিমিত হয়ে যায়নি। জালে কখন, কে ধরা পড়বেন ঠিক নেই। সবই নজরদারিতে আছে। সুতরাং সাবধান।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় পতন চান, কথায় কথায় পদত্যাগ চান। কার পদত্যাগ আপনারা চান? আপনারাই পদত্যাগ করুন। ১০ বছরে ১০ মিনিটও রাস্তায় আন্দোলন করতে পারেননি। দুই বছর খালেদা জিয়া কারাগারে, দুই মিনিটও রাস্তায় দাঁড়াতে পারেননি। কেউ যদি মনে করেন একটা ধাক্কা দিলেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।’
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালামের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডেয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।
