চট্টগ্রাম নগরীতে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)। এটি পুলিশ কর্মকর্তাদের স্ত্রীদের একটি সংগঠন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর পাঁচটি থানার বিভিন্ন স্পটে পুনাকের পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়। মজুদ থাকা পর্যন্ত এসব পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
পেঁয়াজের দর স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচটি স্থানে এক টন করে পেঁয়াজ বিক্রি করবে পুনাক। তারা ইপিজেড, খুলশী, চান্দগাঁও, পাহাড়তলী
ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। তাদের এই কাজে সহযোগিতা করছে স্থানীয় থানার পুলিশ সদস্যরা।
খুলশী থানাধীন দামপাড়া পুনাক প্রদর্শনী কেন্দ্রের সামনে গতকাল এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যেসব স্থানে জনসমাগম বেশি হয় সেসব এলাকায় ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি চলছে। পুনাক নীরবে-নিভৃতে এসব মানবিক কাজ করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের কথা ভেবে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম হাতে নেয় পুনাক। তিনি বলেন, বিক্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটি থানা এলাকায় প্রতিদিন এক টন করে পাঁচটি থানা এলাকায় মোট পাঁচ টন পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। ডিলারদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা মজুদ থাকা পর্যন্ত পেঁয়াজ সরবরাহ করবে জানিয়েছে।
কোতোয়ালি থানার সামনে পেঁয়াজ কিনতে আসা গৃহিণী রেশমী রুদ্র বলেন, পুলিশের স্ত্রীদের প্রতিষ্ঠান কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছে শুনেই কিনতে এলাম। এভাবে যদি সরকারি দপ্তরগুলো উদ্যোগ নিত, তাহলে ব্যবসায়ীদের দাপট কমে যেত।
রিকশাচালক মো. নিজাম বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ নিয়েছি। কোনো ঝামেলা নেই, পুলিশ আছে। ৪৫ টাকা দিয়ে এখান থেকে যে পেঁয়াজ কিনেছি, বাজারে তার দাম ১৫০-২০০ টাকা।
নগরীতে পুনাক ছাড়াও বেশ কয়েকটি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি করছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সংকটের কারণে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। এরপর থেকে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে মিয়ানমারের প্রতি পেঁয়াজ ২০০, মিসর ১৪০ ও চীনা পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
