জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, সব ধরনের সহযোগিতা করার পরও যদি তারা (ব্যবসায়ীরা) হয়রানির কথা বলেন, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছু নেই। ১০ ডিসেম্বর ভ্যাট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচার রাজস্ব ভবনে গতকাল রবিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এনবিআরের অদক্ষতার অভিযোগ এনে বলেছিলেন, ‘এনবিআরের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও পেশাগত অযোগ্যতা খুবই দৃশ্যমান।’
ব্যবসায়ীদের কীভাবে সহায়তা করা হচ্ছে এর ব্যাখ্যাও দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রতিবার বাজেট ঘোষণার আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়। এমনকি বাজেটের পরও ব্যবসায়ীদের কোনো দাবি যৌক্তিক হলে তা পূরণ করা হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাণিজ্য উদারীকরণের যুগে বাংলাদেশ এখনো আমদানি খাতে যথেষ্ট শুল্ক আদায় করে থাকে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতেই এই উদ্যোগ। মূলধনী যন্ত্রপাতিতে ১ শতাংশ, শিল্পের কাঁচামালে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আছে। দেশের উদ্যোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য এত কম শুল্ক রাখা হয়। তৈরি পোশাকের কাঁচামালে তো কোনো শুল্কই নেই।
মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে ব্যবসায়ীদের অনেক কর সুবিধা দিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১০ ডিসেম্বর ভ্যাট দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার পাশাপাশি দেশের শীর্ষ ভ্যাটদাতাদের সম্মাননা দেওয়া হবে। জাতীয় পর্যায়ে ৯ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সেরা ভ্যাটদাতা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– উৎপাদন পর্যায়ে টাঙ্গাইলের স্কয়ার ফরমুলেশন লিমিটেড, ঢাকার এরিস্টোফার্মা ও হবিগঞ্জের রসিদপুর কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট; ব্যবসায় পর্যায়ে ঢাকা হ্যামকো করপোরেশন, গাজীপুরের এসসি জনসন প্রাইভেট লিমিটেড, রাজধানীর সিমেন্স হেলথ কেয়ার; সেবা খাতে চট্টগ্রামের চিটাগাং ওয়্যারহাউস লিমিটেড, কাতার এয়ারওয়েজ ও থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল।
