রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বুড়িগঙ্গা নদীতে সংযোগ হওয়া ওয়াসার সব স্যুয়ারেজ লাইন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া বুড়িগঙ্গার দুই তীরে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় পড়ছে সেসব প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে সময় বেঁধে দিয়েছে হাইকোর্ট। এজন্য ঢাকা ওয়াসাকে ছয় মাস ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ওয়াসার পক্ষে সময়ের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট উম্মে সালমা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম।
গত ১৮ জুন ওয়াসার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে দেওয়া অসত্য তথ্যের জন্য হাইকোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ওয়াসার এমডি। তখন ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘ঢাকা ওয়াসার কোনো স্যুয়ারেজ লাইন পতিত হয়নি’। পরে ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন নিয়ে শুনানির জন্য আগামী ৮ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করে আদালত।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। এ ছাড়া নদীর পানি যাতে দূষিত না হয় সে জন্য সব ধরনের বর্জ্য ফেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখনো কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে তরল বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা নদীর পানিকে দূষিত করছে। যা এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আদালতের নজরে আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি চলছে।
