জর্দার বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত হাকিমপুরী জর্দায় ক্ষতিকর সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়াম পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গতকাল মামলা হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) ইন্সপেক্টর মো. কামরুল
হাসান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করার পর বাজার থেকে হাকিমপুরী জর্দার মালিক ও ১৪ বারের সেরা করদাতা মো. কাউছ মিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে আদালত। আগামী ৩১ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
মামলার বাদী কামরুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাকিমপুরী জর্দায় ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে। নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ দু’দফা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়ে লিখিতভাবে আমাকে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করেছি। তাতে বাজার থেকে হাকিমপুরী জর্দার নির্দিষ্ট লটগুলো তুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি চাওয়া হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক (স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) মেহেদী পাভেল সুইট আগামী ৩১ ডিসেম্বর শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন বলে জানান কামরুল হাসান। একই সঙ্গে বিএফএসএ-এর কাছ থেকে জর্দার ল্যাব পরীক্ষার পর ক্ষতিকর এই পণ্যটির বিরুদ্ধে কী কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হাকিমপুরী জর্দায় যেসব ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধান অনুযায়ী থাকতে পারে না। সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়াম মানবদেহে প্রবেশ করলে মুখ, গলা ও ফুসফুসে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগ হতে পারে।
দু মাস আগে বাজার থেকে ২২ ধরনের জর্দা, খয়ের ও গুলের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করে বিএফএসএ। তাতে হাকিমপুরী জর্দায় ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া যায়। গত ৩১ অক্টোবর সংস্থাটি সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ল্যাব পরীক্ষায় ২২টি নমুনায় প্রতি কিলোগ্রামে দশমিক ২ মিলিগ্রাম থেকে ১১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তার মধ্যে হাকিমপুরী জর্দার প্রতি কেজিতে দশমিক ২৬ মিলিগ্রাম সিসা, দশমিক ৯৫ মিলিগ্রাম ক্যাডমিয়াম এবং ১ দশমিক ৬৫ মিলিগ্রাম ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে।
অক্টোবরে বিএফএসএ সংবাদ সম্মেলন করার পর মো. কাউছ মিয়া নিজের ছবিসহ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কর্ষণ করার চেষ্টা করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন বিএফএসএ যেসব জর্দা পরীক্ষা করেছে সেগুলো আসলে নকল জর্দা, হাকিমপুরীর নয়। কাউছ মিয়ার এই বিজ্ঞাপন প্রচারের পর বিএফএসএ আবারও হাকিমপুরী জর্দার কারখানা থেকে চারটি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে। সেগুলোতেও প্রথমবারের মতোই সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
বিএফএসএ বলছে, যে ভারী ধাতুগুলো জর্দায় পাওয়া গেছে সেগুলোর মূল উৎস রং। বিভিন্ন শিল্প-কারখানা তাদের প্রয়োজনে এসব রং আমদানি করে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফানির্চারের বার্নিশে এসব রং ব্যবহার করতে দেখা যায়।
প্রথমবার হাকিমপুরীসহ মোট ১৩ প্রতিষ্ঠানের জর্দা, ছয় প্রতিষ্ঠানের খয়ের ও তিন প্রতিষ্ঠানের গুলের নমুনা পরীক্ষা করে ক্ষতিকর এসব ভারী ধাতু পায় নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ। পরীক্ষা করা পণ্যগুলোর মধ্যে ছিল গিলা খয়ের, তীর মার্কা খয়ের, মালাই খয়ের, অন্তরা খয়ের, কালো পাথর বাল্ক খয়ের, সাদা বাল্ক খয়ের, ঈগল গুল, মোস্তফা গুল, শাহজাদা গুল, রতন জর্দা, হাকিমপুরী জর্দা, গুরুদেব জর্দা, শাহজাদী জর্দা (নির্মল), মহিউদ্দিন জর্দা, ঢাকা জর্দা, মকিমপুর জর্দা, শাহি হীরা জর্দা, জাফরানী জর্দা, শাহজাদী জর্দা (আলম), বউ শাহজাদী জর্দা এবং চাঁদপুরী জর্দা।
