দেশ ছেড়ে যাওয়া সংখ্যালঘুরা এখন ফিরছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৫২ পিএম

বাংলাদেশের যেসব সংখ্যালঘু দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন তারা এখন ফেরত আসছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না। বরং তারা শান্তি এবং সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন।

বিবিসি বাংলা অনলাইন মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ মন্তব্য করেছেন।

সোমবার ভারতের পার্লামেন্টে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন না-থামাটাই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনার অন্যতম কারণ।

এর প্রতিক্রিয়ায় অমিত শাহের বক্তব্য ঠিক নয় দাবি করে বিবিসিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলতেই পারি যে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থা এখন খুব ভালো। আগে যারা বিদেশে চলে গিয়েছিলেন, তারাও এখন ফিরে আসছেন’।

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, সেটা তারা তারা জানেন। তবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা খুব শান্তি এবং সম্প্রীতিতে আছেন।

সোমবার লোকসভায় এ বিল পেশ করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশ-সহ তিনটি প্রতিবেশী দেশের সংবিধানকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, এই দেশগুলোর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলেই সেখানে অন্য ধর্মের মানুষরা নিপীড়িত হচ্ছেন। বিলটি লোকসভায় পাশ হয় গেছে সোমবারই। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বিলটি ওঠার কথা।  

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হওয়ার কারণে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ ঠিক নয়। এখানে সব ধর্মের মানুষেরাই তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বিনা বাধায় উদ্‌যাপন করে থাকেন।  

মোমেন বলেন, এদেশের নিয়ম হচ্ছে, ধর্ম নিজের নিজের, কিন্তু উৎসব সকলের। আমরা এই নীতিতেই বিশ্বাস করি। আমাদের দেশে নির্যাতনের কোন দৃষ্টান্ত নেই।

বরং ভারতের সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মোমেন বলেন, বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না, যা উভয় দেশের জনগণের দুশ্চিন্তার কারণ হয় কিংবা আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

অমিত শাহের বক্তব্যের প্রতিবাদে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, কী সব কারণে অমিত শাহ এগুলো বলেছেন তা তাকেই জিজ্ঞাসা করতে হবে। আমি এখনো বিলটি দেখিনি, দেখতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত