৪১ মাস পেছনে ডিএসইর সূচক

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:১২ এএম

টানা চার দিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন চলছে। গতকাল মঙ্গলবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা হওয়া ৫৭ শতাংশ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এতে স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্যসূচক আরও প্রায় ২৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৪৫০৬ পয়েন্টে নেমেছে। এর ফলে সূচকটি ফিরে গেছে ৪১ মাস আগের অবস্থানে। ২০১৬ সালের ১১ জুলাই ডিএসইর এ সূচকটি ছিল ৪৫০৫ পয়েন্টে। বিদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আসা শেয়ার বিক্রিচাপ সামাল দিতে না পারায় সূচকের উল্টো যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও দরপতনের ভীতি ছড়িয়ে পড়ছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর প্রথম ১৫ মিনিটে বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধির ওপর ভর করে ডিএসইর প্রধান সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ৩৯ পয়েন্ট বাড়তে দেখা যায়। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে বিক্রিচাপ সামাল দিতে না পারায় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান ধরে রাখা যায়নি। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে সূচকটি প্রায় ২৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৪১ মাস আগের অবস্থানে ফিরে যায়। এর ফলে গত ২ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে শুরু হওয়া দরপতনে গতকাল পর্যন্ত ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ২৫২ পয়েন্ট হারিয়েছে। সূচক পতনের হার আড়াই শতাংশেরও বেশি। তবে দরপতনে কয়েকটি রুগ্‌ণ ও লোকসানি কোম্পানি ছাড়া বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে। বেশি দর হারিয়েছে অপেক্ষাকৃত ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও বড় দরপতনের ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক দরপতনের সময় অনেক শেয়ারের দর ব্যাপক হারে কমার কারণে মুনাফার আশায় কেউ কেউ নতুন করে বিনিয়োগ করেছিলেন। তারাও এখন বড় লোকসানে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে সিমেন্ট, বস্ত্র, প্রকৌশল, টেলিযোগাযোগ ও খাদ্য খাত। এসব খাত গতকাল ১ থেকে ১ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাজার মূলধন হারিয়েছে। এর বাইরে ব্যাংক, এনবিএফআই, জ্বালানি, জীবন বীমা, নির্মাণ ও বিবিধ খাতের বাজার মূলধনও কমেছে। বিপরীতে ট্যানারি, ভ্রমণ, কাগজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও পাট খাতের শেয়ার দর কিছুটা বেড়েছে।

একক কোম্পানিগুলোর মধ্যে গতকাল সূচক কমাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, বিএটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, আইসিবি, বিএসআরএম লিমিটেড, এসিআই ও এমজেএল। এসব কোম্পানির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৯ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ দর হারিয়েছে। গতকাল গড়ে ১ শতাংশের ওপর দর হারিয়েছে বীমা, প্রকৌশল এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ১০১ কোম্পানির শেয়ার।

গতকাল ৩৫৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৯৬টির বা ২৭ শতাংশের দর বেড়েছে, কমেছে ২০৩টির বা ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশের। অপরিবর্তিত থেকেছে ৫৪টির বা ১৫ শতাংশের দর। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৩০৫ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট, যা আগের দিনের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত