গিবসের তুরুপের তাস অচেনা মুখ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৩৪ এএম

হার্শেল গিবসকে আপনি ভুলবেন কীভাবে? বর্ণময় এক চরিত্র। মাঠ ও মাঠের বাইরে। দারুণ স্ট্রোক মেকার ছিলেন। বিধ্বংসী দক্ষিণ আফ্রিকান টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান যে কোনো কিছু দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারতেন মুহূর্তে। তাই মিরপুরের দুপুরে যখন হাসতে হাসতে বললেন, ‘আমি তো আরও বছর দশেক খেলতে পারি। খেলার মতো নিজেকে যথেষ্ট তরুণ মনে করি’ তখন অবাক হওয়ার কিছু থাকে না। তবে এবার ঢাকায় খেলতে আসেননি, খেলাতে এসেছেন।

সিলেট থান্ডারের কোচ ৪৫ বছরের গিবস। ২০১২ সালের প্রথম বিপিএলে খেলেছিলেন। ফিরলেন সপ্তম বিপিএলের কোচ হয়ে। মারমার কাটকাট দল গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু যাদের চেয়েছিলেন তাদের বেশিরভাগকে পাননি। কী আর করা। সব মেনে নিলেন। আর আজ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিবিপিএল) উদ্বোধনী ম্যাচেই তার দলের পরীক্ষা। শক্তিশালী চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মুখোমুখি। কিন্তু আমুদে গিবস শুরুর আগেই ফান ক্রিকেটের প্রতিপক্ষদের হুমকি দিয়ে রাখলেন তার গড়পড়তা দলের কথা বলেই। যুক্তিও আছে।

‘অন্য সব দলের যেমন আছে আমাদের তেমন বড় তারকা নেই। এর মানে হলো আমরা আরও বেশি স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারব। অনেক বেশি টুর্নামেন্ট হয় বলে টি-টোয়েন্টি আসরে বড় নাম কম থাকে।’ গিবস ব্যাখ্যা দিয়ে মূল কথায় গেলেন, ‘যতটা বেশি অচেনা থাকবেন তত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আপনার থাকবে। দলের সঙ্গে কথা বলে দেখলাম ওরা বেশ ভালো রকমের নার্ভাস। এটা ভালো একটা ইঙ্গিত আসলে।’

এই হলেন গিবস। কোচিং ক্যারিয়ারেও মজা আর মজা। বাতিল হওয়া ইউরো টি-টোয়েন্টি সø্যামে কোচ ছিলেন। তার আগে কুয়েত জাতীয় দলকে কোচিং করিয়েছেন। এখনো সিরিয়াস কিছু ঘটাতে পারেননি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া কেন মনে রাখবে তাকে একবার ভেবে নিন। সেই যে ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়া দল ওয়ানডে ম্যাচে ৪ উইকেটে ৪৩৪ করে ফেলল। তারপর? ১১১ বলে ২১ চার ও ৭ ছক্কায় ১৭৫ রানের সাইক্লোন ইনিংস খেলেছিলেন গিবস। ৪৯.৫ ওভারে ৯ উইকেটে ৪৩৮ দক্ষিণ আফ্রিকার। ১ বল হাতে রেখে ১ রানে জয়ী গিবসরা। রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডে এখনো সবার ওপরে গিবসের ওই তা-বের ম্যাচ। তখনকার সর্বজয়ী অস্ট্রেলিয়াকে ডুবিয়ে এখনো দলটির সঙ্কোচের কারণ হয়ে আছেন গিবস।

তো বাঁধভাঙা, ইচ্ছে-স্বাধীন খেলার মালিক গিবস মন্ত্র দিয়েছেন। খেলোয়াড় গিবসের সঙ্গে কোচ গিবসের পার্থক্য কী প্রশ্নে মনের আগল খুলে দেন কিংবদন্তি, ‘কোনো পার্থক্য নেই। অনেক এনার্জি ও প্যাশন নিয়ে আমি খেলতাম। থাকত দারুণ দক্ষতাও। সেই ভয়ডরহীন ক্রিকেট আমি আমার খেলোয়াড়দের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে চাই। এটা উপভোগ করি আমি। আমার কয়েক খেলোয়াড়ের জন্য এটা অনেক বড় মঞ্চ যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেনি। আগামী কয়েক সপ্তাহে এটা লুফে নিয়ে তারা যেন তাদের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটায়। টুর্নামেন্টে অনেক বড় খেলোয়াড় আছে। আর এই চ্যালেঞ্জটা ভালো।’

মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল ইসলাম অপু, নাঈম হাসানরা আছেন। আন্দ্রে ফ্লেচার, মোহাম্মদ সামি, ক্রিসমার

সান্তোকি, জিভান মেন্ডিসরা এই দলে। বিশ্ব কাঁপানো খেলোয়াড় নেই যেমনটা বলেছেন গিবস। আছেন রুয়েল মিয়া, মনির হোসেন, দেলোয়ার হোসেনদের মতো অপেক্ষাকৃত অপরিচিত খেলোয়াড়।

 ৩৫টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির মালিক গিবস তাই কথায় কথায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো করে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়ে যান, ‘রাডারের নিচ থেকে উড়লে ওর মধ্য থেকে একজনকে বের করে আনা যায়। কাল (আজ) যদি স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারেন তাহলে যে কারও বিপক্ষে যে কোনো কিছু অর্জন করে ফেলতে পারেন। এই চমৎকার খেলাটায় কোনো কিছুর নিশ্চয়তা নেই। যেমন বললাম, বড় নাম দরকার নেই। এমন একজন অচেনাকে দরকার যে জায়গামতো জ্বলে উঠবে। কারণ, ওই অচেনাকে কোনো দলই চেনে না।’

গিবসের সেই তুরুপের তাস ‘অচেনা’ খেলোয়াড়টি কে হবেন?

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত