সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পার্লামেন্টের নিমœকক্ষ লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) পাস করিয়ে নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপনের দিনই এ ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)।
গত সোমবার পার্লামেন্টে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি উত্থাপন করেন অমিত শাহ। বিলটি পাস হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউএসসিআইআরএফ।
ইউএসসিআইআরএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিলটিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার ড়্গেত্রে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করেছেন, তাতে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়ায় ইউএসসিআইআরএফ ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। দেশটির পার্লামেন্টের উভয়কক্ষেই যদি বিলটি পাস হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অমিত শাহসহ ভারতের সিনিয়র নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
ইউএসসিআইআরএফ বলছে, ‘নাগরিকত্ব দেওয়ার ড়্গেত্রে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়, যা ভুল পথে এগোচ্ছে। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ, বহুত্ববাদী ইতিহাস এবং সে দেশের সংবিধান, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকারের কথা বলে, এই বিল তার পরিপন্থী।’
এর আগে আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছিল ইউএসসিআইআরএফ। তখন নাগরিকপঞ্জিকে ভারতীয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত তথা দেশছাড়া করার হাতিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রের এই সরকারি কমিশন।
কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের আশঙ্কা, নাগরিকত্ব দেওয়ার ড়্গেত্রে যেভাবে ধর্মীয় পরীক্ষা নিচ্ছে ভারত তা কয়েক কোটি মুসলিমের নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেবে।’
প্রসঙ্গত, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কোনো দেশ বা ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় কি-না ইউএসসিআইআরএফের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সে সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সূত্র : আনন্দবাজার।
