ইসির সব কমিশনারকে সরাতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চায় টিআইবি

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৪০ এএম

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ধারাবাহিক কেলেঙ্কারির জন্ম দিচ্ছে অভিযোগ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাসহ সব কমিশনারের অপসারণের দাবি জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

টিআইবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেভাবে একের পর এক কেলেঙ্কারির জন্ম দিচ্ছে তা অভূতপূর্ব। গোটা জাতির জন্য বিষয়টি বিব্রতকর। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের হাতে এমন রাষ্ট্রীয় অমর্যাদা বন্ধ করতে সিইসিসহ সব কমিশনারের অপসারণ ও ইসিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই। এজন্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করছে সংস্থাটি। সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ে বিভিন্ন গ্রেডে ৩৩৯টি পদে নিয়োগ নিয়ে সিইসি কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে অন্য চার নির্বাচন কমিশনারের মতবিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার ইসির সভায় সিইসির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহদাত হোসেন চৌধুরী।  

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে উদ্ধ…ত করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘একজন কমিশনার অন্তত একজন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগে কমিশন সচিবালয়কে সুপারিশ করেছিলেন। সেই সুপারিশ রক্ষা করা হয়নি বলে কমিশনাররা তোলপাড় করেছেন। সাংবিধানিক পদে থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা যে সরাসরি নৈতিক স্খলন নির্বাচন কমিশনাররা সেটা অনুধাবন করার মতো অবস্থাতেও নেই। অন্যদিকে ইসি সচিবালয়ের সঙ্গে কমিশনারদের অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্বের সংবাদ এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পদদলিত করেছে। সাংবিধানিক পদাধিকারীরা যখন নিজেদের সচিবালয়ের বিরুদ্ধেই অনিয়মের অভিযোগ করেন তখন সেটার গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। দেশের সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছি।’ 

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, ইসির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পচন ধরেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় সিইসিসহ অন্যান্য কমিশনার বা কমিশন সচিবালয়ের কাছে আশা করা যায় না। কারণ একের পর এক কেলেঙ্কারির পরও কমিশনাররা পদ অঁাকড়ে ধরে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন দেশকে এক অভূতপূর্ব নির্বাচনের দায় চাপিয়ে দিয়েছেন, যার পরতে পরতে অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও কোনো তদন্ত হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা এবং সচিবালয়ের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের নামে জনগণের করের টাকা হরিলুট করেছেন– এমন অভিযোগ উঠেছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এভাবে দেশবাসীর সঙ্গে এমন ভয়াবহ প্রতারণা ও দেশের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি সৃষ্টি করা হলো। এখন সবাই মিলে লড়াই করছেন নিমœপদস্থ কর্মচারী নিযোগের তদবির ও অনিয়ম নিয়ে।’

নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান–এই সত্য কমিশনসংশ্লিষ্টরা সম্ভবত ভুলে গেছেন উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী প্রধান বলেন, ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে এমন অবমাননাকর অধ্যায়ের শেষ হওয়া দরকার। নির্বাচন কমিশনাররা শপথ ও সংবিধান অবমাননা করছেন। একই সঙ্গে তাদের নিয়োগকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রপতির অসম্মানের ঝুঁকি সৃষ্টি করছেন।’ বিতর্কিত ব্যক্তিদের দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুরোধ জানান ড. ইফতেখারুজ্জামান। পাশাপাশি ইসিতে যত ধরনের অনিয়ম হয়েছে তা তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত