সোহাগ দেওয়ান (২৫) মাস ছয়েক আগে ছোট ভাই সুজন দেওয়ানকে (১৯) কেরানীগঞ্জের প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে অপারেটর পদে চাকরি দেন। গত বুধবার ওই ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার পর সোহাগ নিজে কারখানা থেকে বের না হয়ে ছোট ভাইকে বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের লেলিহানে ততক্ষণে অচেতন হয়ে পড়েন সুজন। একপর্যায়ে তাকে রেখেই বাইরে বের হন সোহাগ; ততক্ষণে শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে গেছে। সুজনকে পরে স্থানীয়রা কারখানা থেকে বের করলেও শরীরের শতভাগ পুড়ে যায়। দগ্ধ অন্যদের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় মারা যান সুজন। সোহাগ রয়েছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে।
গতকাল সুজনের বাবা রিকশাচালক মো. খলিল দেওয়ান ঢামেকে কথাগুলো বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার সোহাগও বাঁচবে না। ডাক্তাররা বলেছেন আল্লাহকে ডাকতে। ওর মা আঙ্গুরা ৩ বছর ধরে স্ট্রোক করে বিছানায় পড়ে আছে। ছেলের মৃত্যুর খবর জানলে সেও বাঁচবে না।’
এ সময় সুজনের লাশের পাশে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। তার বাবা খলিল দেওয়ান বলেন, পরিবারসহ কেরানীগঞ্জের গোলামবাজারের সুবর্ণা উত্তরপাড়ায় থাকেন তারা। তিন ছেলের মধ্যে সুজন সবার ছোট। মেজ ছেলে সোহেলও (২২) ওই ফ্যাক্টরিতে কাজ করত। পাঁচ মাস আগে চাকরি ছেড়ে ভ্যান চালায় এখন। আইসিইউতে ভর্তি সোহাগের সোহাগী নামে ছয় বছরের একটি মেয়ে আছে।
সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ওই ফ্যাক্টরিতে কাজ করতাম। ঠিক মতো বেতন না দেওয়ায় চাকরি ছেড়ে দিছি। আমি চাকরি না ছাড়লে আমারও এমন পরিণতি হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই ফ্যাক্টরিতে কাজের পরিবেশ খারাপ। ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। যারা কাজ করে পেটের তাগিদে করে।’
এদিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবরে রাজধানীর গুদারাঘাট এলাকা থেকে ছুটে আসেন দগ্ধ মাহবুবের (২৫) বাবা গোলজার হোসেন। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে খুঁজতে থাকেন ছেলেকে। কিন্তু সারা রাত খুঁজেও তার সন্ধান পাননি। সকালে মর্গে থাকা লাশের মধ্যে বাঁ হাতের বেসলেট দেখে ছেলেকে শনাক্ত করেন। গোলজার জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে। মাহবুব পাঁচ বছর ধরে এই ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে। ঘটনার দিনও সে ফোন করে বাবার খবর নেয়।’
