সব বিশেষজ্ঞ মতামত ও জরিপের আভাস ভুল প্রমাণ করে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি। অন্যদিকে লেবার পার্টির পরাজয়ও হয়েছে ঐতিহাসিক। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ১৯৮৭ সালের পর বড় জয় পেলেও ১৯৩৫ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হয়েছে লেবার পার্টির। গত নির্বাচনের চেয়েও উন্নতি হয়েছে বরিস জনসনের দলের। আর উল্টোটা ঘটেছে লেবার পার্টির ড়্গেত্রে। এই ফলাফল ঝুলে থাকা ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন নিশ্চিত করল। আগামী মাসেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে যুক্তরাজ্য।
বিবিসি বলছে, ৬৫০ আসনের মধ্যে ৬৪৯টির ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে কনজারভেটিভরা পেয়েছে ৩৬৪ ও লেবার পার্টি পেয়েছে ২০৩ আসন। কনজারভেটিভরা গতবারের চেয়ে ৪৭টি আসন বেশি পেয়েছে আর লেবার পার্টি হারিয়েছে ৫৯টি আসন।
এই ঐতিহাসিক ফলাফলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে বরিস জনসনের দল। ফলে এককভাবেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে প্রয়োজন ছিল ৩২৬টি আসন।
ফলাফল বলছে, প্রধান ওই দুই দল ছাড়া লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ১১ ও আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) জয়লাভ করেছে ৮টি আসনে। এদিকে চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি চমক দেখালেও, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে তারা কোনো আসনেই জিততে পারেনি।
কনজারভেটিভ পার্টির ভোট এবার গড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে লেবারের ভোট গড়ে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। ব্রিটেনের তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের ভোটের হার সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়লেও আসন কমে হয়েছে ১১টি। এ দলের নেতা জো সুইনসন নিজেই নির্বাচিত হতে পারেননি। তিনিও দলের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী জনসন ভোটের এই ফলাফলকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য ‘নতুন শক্তিশালী ম্যান্ডেট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভোটারদের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বরিস জনসন। জনসন বলেছেন, জনরায়ের প্রত্যাশা মেটাতে তিনি একটি ‘জনগণের সরকার’ গঠন এবং ‘সার্বক্ষণিক কাজ’ করবেন।
ব্রেক্সিট নিয়ে তিনি বলেন, আমরা নির্ধারিত সময় ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করব, কোনো যদি, তবে, কিন্তু নেই।
নতুন সরকার গঠনে অনুমতি চাইতে তিনি রানী এলিজাবেথের সঙ্গে দেখাও করেছেন। রানী সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাকে।
নির্বাচনে ভরাডুবি মেনে নিয়েছেন বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। নিজের আসন ধরে রাখতে পারলেও পরবর্তী নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেবেন না জানিয়ে তিনি লেবারের শীর্ষ পদ থেকে সরে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশেস্নষকরা বলছেন, এই জয়ের ফলে পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করিয়ে নিতে সক্ষম হবেন বরিস জনসন। পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে সৃষ্ট যে অচলাবস্থার মধ্যে জনসনের প্রধানমন্ত্রিত্ব শুরু হয়েছিল, এবার তার অবসান ঘটবে।
পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এবং এমপিদের বিরোধিতার কারণে এ পর্যন্ত ব্রেক্সিট কার্যকর করতে পারেননি কনজারভেটিভরা। এ অচলাবস্থা কাটাতেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগাম নির্বাচন ডেকেছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে বরিস জনসনের নেতৃত্বে ব্রেক্সিট অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত উল্টে দেওয়ার মতো আরেকটি গণভোট– এই দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে বৃহস্পতিবার পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো সাধারণ নির্বাচনে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা।
এমপিদের বিরোধিতায় ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে না পেরে এ বছরই প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়া টরি নেতা টেরিজা মে নির্বাচনে জয়ের খবরে বলেছেন, পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তিনি খুব খুশি। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ব্রিটেনের মানুষের সামনে একটি প্রশ্ন ছিল– তারা ব্রেক্সিট চায় কি না। তারা এটাও বুঝতে পেরেছে যে কনজারভেটিভ পার্টি জয়ী হলেই ব্রেক্সিট হবে। পার্লামেন্টে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে তা কেটে যাবে। ব্রেক্সিট হবে এবং এগিয়ে যাবে।
