কারাবন্দি ছাত্রদলের দুই নেতা কীভাবে মোটরসাইকেলে আগুন দিলেন, তা জানতে চেয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘ছাত্রদলের বিলুপ্ত সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার ও ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান কারাগারে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। তারা কি কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে বেওয়ারিশ মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়েছেন?’
গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন করেন।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় মালিকানাহীন দুই মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বিএনপির ১৩৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তার প্রশ্ন, তিনটি মোটরসাইকেল পোড়াতে ১৩৫ নেতার প্রয়োজন পড়ল?
রিজভীর দাবি, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির আগের দিন সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল। সেখানে মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোর ঘটনা তারা ছাড়া আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
আদালত নয়, সরকার খারিজ করেছে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন : সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করে বলেন, কারও বিরুদ্ধে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে নাশকতা করার সব কিছু শেখ হাসিনার কাছে আছে। খালেদা জিয়াকে আদালতের জামিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার ডিক্টেশনে, অ্যাটর্নি জেনারেল সেটি লিপিবদ্ধ করে আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করেছেন। সর্বোচ্চ আদালতে সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং গুরুতর অসুস্থ ৭৫ বছর বয়সী একজন নারীকে জামিন না দেওয়া সাম্পªতিক কালের সেরা নিষ্ঠুরতা। এটি শুধু দেশের ইতিহাসে নয়, সারাবিশে^ এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবদুস সালাম, বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, আবেদ রাজা, মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা তরিকুল ইসলাম, রাজু আহমদ প্রমুখ।
এর আগে সকালে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে রিজভীর নেতৃত্বে একটি ঝটিকা মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মগবাজার মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে রেলগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নানা সেস্নাগান দেন।
