সামাজিকভাবে অসচ্ছল অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকায় নেই বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড। এ জন্য তারা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে (জামুকা) দায়ী করেছেন।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠানে এ অভিযোগ করেন তারা। এ সময় তারা ২৬ মার্চের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা না করলে আন্দোলনেরও হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা জাফর ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা আছে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, এমন অনেকের নাম নেই যাদের সামাজিক পরিচয় দুর্বল ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সেক্টরে প্রথম যে শহীদ সরাসরি যুদ্ধে নিহত হন, তিনি হলেন নাজমুল হাসান। তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি কোনো খেতাব পাননি। তবে ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়েছেন। সেই যুদ্ধে তারই আরো তিন ভাই শহীদ হয়েছিলেন। গেজেটে তাদের কারও নাম নেই। তারা কোনো ভাতাও পান না।’
এর জন্য তিনি জামুকাকে দায়ী করে বলেন, ‘গেজেট বানানোর দায়িত্ব নাকি জামুকার। জামুকাকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম, ভাই আপনারা শহীদদের তালিকা তৈরি করেন কীভাবে? তারা বলে, আমাদের কাছে তো কেউ আবেদন করেনি। তাদের কাছে দরখাস্ত করে শহীদদের তালিকা দিতে হবে, এটা দুঃখজনক।’
জাফর ইকবাল আরো বলেন, ‘আমি জানি না, তারা মরে শান্তি পাচ্ছেন কি না। কিন্তু আমরা যারা জীবিত আছি মুক্তিযোদ্ধা, আমরা আমৃত্যু তাদের ব্যথায় ব্যথিত। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি বলছি, দুই-একদিনের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব। ২৬ মার্চের মধ্যে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা যদি প্রকাশিত না হয়, আমরা আন্দোলনে যাব।’
