আ.লীগের কমিটিতে নারীর সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৪৬ এএম

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) শর্ত ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে আওয়ামী লীগ ২১তম জাতীয় সম্মেলনে দলে নারী নেতৃত্বের সংখ্যা বাড়াতে চায়। তবে শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও (বর্তমানে আছে ১৮ শতাংশের কিছু বেশি) এবারের সম্মেলনে ২৫ শতাংশ ছুঁতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। তা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়নে আওয়ামী লীগ যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাও প্রতিষ্ঠা করা হবে দলের নারী নেতৃত্বের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি বয়স বিবেচনা করে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে কিছু বাদ দিয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদে নিয়ে যাওয়া হবে কিছু রাজনীতিককে।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৯০-এর খ-এর খ (২) অনুচ্ছেদে ২০২০ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ রাজনৈতিক দলের সর্বস্তরের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ পদ নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই শর্ত পূরণ করতে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, নারী নেতৃত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত আছে। আমাদের দলে অনেক নারী আছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই যোগ্যতাসম্পন্ন। সেখান থেকে উপযুক্তদের নেতৃত্বভার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বাড়বে। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে ৩৩ শতাংশের যে অঙ্গীকার আছে, সেটা পূরণ হয়ত এবারও হবে না।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০১৬ সালের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি শেখ হাসিনাসহ নারী নেতৃত্বের সংখ্যা হলো ১৫ জন। তারা হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন দীপু মণি। দলের সম্পাদক পদে আছেন পাঁচ নারী। তাদের মধ্যে কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে আছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিমিন হোসেন রিমি, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, পারভীন জামান কল্পনা, মেরিনা জাহান, মারুফা আক্তার পপি।

দলের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও জানান, নতুন করে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে আসতে পারে একাধিক নারীনেত্রী। এক্ষেত্রে পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রীরা অগ্রাধিকার পাবেন। তা ছাড়া অতীতে যারা দলের জন্য লেখালেখিসহ বিভিন্ন উপায়ে অবদান রেখেছেন, তাদেরও বিবেচনা রাখা হবে। পেশাজীবী সমাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যারা এবং আইনজীবী পেশার মেধাবীরাও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন সহযোগী

সংগঠনের সাবেক নারী নেত্রীরাও আসতে পারেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে। 

নারীনেত্রী হিসেবে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে রওশন জাহান সাথী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, জাতীয় নেতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে সংসদ সদস্য সৈয়দা ডা. জাকিয়া নূর লিপি, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্ত, চট্টগ্রামের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আতাউর রহমান খানের মেয়ে সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান, আইন পেশায় জড়িত ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, মহিলা আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ, সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, আমেনা কোহিনুর।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তিনি বলেন, সেটা মাথায় রেখেই শেখ হাসিনা যোগ্য  ও মেধাবী নারীদের নেতৃত্বে আনবেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত