তামাক নিয়ন্ত্রণে ১৪ বছর আগে আইন হলেও তার বাস্তবায়ন নেই। এ দায়িত্ব যাদের তারাই প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম নগরীর ৯৯ শতাংশ সরকারি অফিসই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করছে। আর ৫৪ শতাংশ সরকারি অফিসে ধূমপানের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বেসরকারি সংস্থা ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) গত জুনে পরিচালিত ‘চট্টগ্রাম শহরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রতিপালনের অবস্থা’ শীর্ষক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত শনিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে ইপসা।
ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের সহযোগিতায় ইপসা এই জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের আওতায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার অফিসসহ শহরের ২৮২টি সরকারি অফিস, ১৮৭টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ১২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৪২৩টি রেস্টুরেন্ট ও ১০টি রুটের ৪১৯টি বাস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
জরিপের ফলের বর্ণনা দিয়ে ইপসার উপপরিচালক নাছিম বানু শ্যামলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ জরিপে চট্টগ্রাম শহরের ৯৯ শতাংশ সরকারি অফিসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের চিত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ অফিসে সরাসরি ধূমপান করতে দেখা গেছে। ৫৪ শতাংশ সরকারি অফিসে পাওয়া গেছে ধূমপানের চিহ্ন। ৯৮ শতাংশ অফিসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিস পাওয়া যায়নি।
সরকারি অফিসগুলোতে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন ও অফিসসংলগ্ন এলাকায় তামাক বিক্রির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জরিপকালে ৪ শতাংশ সরকারি অফিসে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন পাওয়া গেছে। ২ দশমিক ৫ শতাংশ সরকারি অফিসের সীমানার মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। আর ৬৩ শতাংশ সরকারি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে পাওয়া গেছে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়কেন্দ্র।
তবে এ জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৯৯ শতাংশ সরকারি অফিসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংস্থাটি কীভাবে জরিপ বা গবেষণা চালিয়েছে আমি জানি না। তবে তাদের এই জরিপ প্রতিবেদন সঠিক বলে আমি মনে করি না।’
জরিপের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের হার ৯৭ শতাংশ। ৩৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনের ভেতরে পাওয়া গেছে ধূমপানের চিহ্ন। ৯৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিস পাওয়া যায়নি। ২ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনের ভেতরে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়কেন্দ্র পাওয়া গেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শতভাগ প্রতিষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে জরিপে। ধূমপানের নিদর্শন মিলেছে ৪১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই মেলেনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিস। ৬২ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে দেখা গেছে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়কেন্দ্র। এ ছাড়া ৯৯ শতাংশ রেস্টুরেন্ট ও শতভাগ পাবলিক বাসে মিলেছে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের চিত্র।
তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করে। ২০১৩ সালে এটি সংশোধন করা হয় এবং ২০১৫ সালে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের ধারা অনুযায়ী সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
