‘ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতির কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে ব্যাপক শরণার্থী সংকটের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’
মঙ্গলবার জেনেভায় শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এক ভাষণে এমনটা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
বিবিসি বাংলা জানায়, বড় ধরনের শরণার্থী সংকট তৈরি হলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
ইমরান খান বলেন, ‘নতুন বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন এবং কাশ্মীর পরিস্থিতির ফলে লাখ লাখ মুসলিম ভারত থেকে পালাতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু যে সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন তা নয়, এ নিয়ে দুই পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে বলেও আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি।’
ইমরান বলেন, ‘পাকিস্তানের পক্ষে নতুন করে আর শরণার্থীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই এদিকে নজর দেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, অসুখের চিকিৎসার চেয়ে, অসুখ যাতে না হয় সেটা করারই শ্রেয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে হয়তো এই সংকট এড়ানো সম্ভব হতে পারে।’
এদিকে জেনেভাতে ইমরান খান যখন এসব বক্তব্য দিচ্ছেন, সেই মুহূর্তে ভারতে নরেন্দ্র মোদি নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভের জন্য কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধীদের দায়ী করছেন।
তৃতীয় দিনের মতো মঙ্গলবারও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে। রাজধানী দিল্লিতে কয়েক হাজার মানুষের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ঢিল ছুড়লে, জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে এবং লাঠিপেটা করেছে।
এএফপি জানায়, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় সোমবার লক্ষাধিক লোকের এক বিক্ষোভ মিছিলের পরদিনও নতুন করে বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষ যোগ দিয়েছে।
তামিলনাড়ু, কেরালা, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটেও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই এসব বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।