দুর্বৃত্তের আগুনে বার্ন ইউনিটে

পথশিশু সেলিমকে দেখার কেউ নেই

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩০ এএম

রাজধানীর ফকিরাপুলে দুবৃ©ত্তের আগুনে দগ্ধ সেলিমকে (১২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভর্তি রাখা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে এমন অবস্থায়ও তাকে সেবাযত্ন করার মতো কাউকে গতকাল দেখা যায়নি। এমনকি যে মহিলাকে সে মা বলে ডেকেছিল তিনিও তাকে ছেড়ে গেছেন। ওই শিশু তার নিজের নাম ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছে না। পুলিশ জানিয়েছে, যে আগুন দিয়েছে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডাইরি করা হয়েছে। গত সোমবার রাজধানীর ফরিকাপুল মোড়ে ওই পথশিশুর শরীরের পোশাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক দগ্ধ অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. আরিফুল ইসলাম নবীন জানান, শিশুটির শরীরের ২৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ রোগীদের জন্য যেটি বেশি আশঙ্কাজনক তা হলো শ্বাসনালি দগ্ধ হওয়া। সেলিমের শ্বাসনালি দগ্ধ হয়নি, তবে তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল। তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

গতকাল বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি সেলিমের পাশে কাউকে পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে যেই দুই ভিক্ষুক স্বামী-স্ত্রী তাকে নিয়ে এসেছিল তাদেরও পাওয়া যায়নি।

মতিঝিল থানার এসআই জালাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোমবার বিকেলে ফকিরাপুলের টিঅ্যান্ডটি মোড়েই তাকে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলাও হয়নি, তবে জিডি করা হয়েছে। শিশুটিকে কে আগুন দিয়েছে তা বের করার চেষ্টা চলছে। সে তার নিজের নাম ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছে না। ঊর্ধ্বতন স্যারদের জানানো হয়েছে।’ এদিকে ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রোকেয়া বেগম নামে এক নারী জানান, তিনি ও তার স্বামী প্রতিবন্ধী বাপ্পি কমলাপুর এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। মা-বাবার কথা কিছুই বলতে পারে না সেলিম। এক সপ্তাহ আগে রাতে কমলাপুরে সে রোকেয়া বেগমকে ‘মা’ বলে ডাকে। এরপর থেকে রোকেয়ার সঙ্গেই থাকত সে। বিকেলে তারা স্বামী-স্ত্রী ফকিরাপুলে মোড়ে বসে ছিল। তখন সেলিম শরীরে ব্যান্ডিজ নিয়ে দৌড়ে তাদের কাছে যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ আগে এক রিকশাচালকের সঙ্গে রোকেয়ার তর্কাতর্কি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

হাসপাতালে সেলিম বলে, ওই এলাকায় এক রিকশাচালক তার মা রোকেয়ার সঙ্গে ঝগড়া করে। তখন সেলিম সেখান থেকে চলে এলেও পরে আবার সেখানে যায়। ওই রিকশাচালকের সঙ্গে তর্কাতর্কি হলে রিকশাচালক তার শার্টে গ্যাসম্যাচ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত