দর্শক ঠকাতে চান না শাবনূর

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:১৯ পিএম

ঢালিউডের রাজকন্যা শাবনূর। তুমুল দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানার পর তাকেই বলা হয়ে থাকে ওয়ান ওম্যান আর্মি, যিনি পর্দায় থাকলে আর কোনো সিনেমায় আর কোনো তারকার দরকার পড়ে না। তবে বেশ কয়েক বছর চলচ্চিত্র থেকে দূরে তিনি। সম্প্রতি ফেরার ঘোষণা দিলেন। জনপ্রিয় এই তারকাকে নিয়ে লিখেছেন মাসিদ রণ

বেশ কয়েক দিন হলো অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী শাবনূর। তবে তাকে খুব একটা ক্যামেরায় ধরা যায় না। গত সপ্তাহে একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ‘জান্নাত’ সিনেমার ৫ শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তির আনন্দ আড্ডায় দেখা মেলে এই নায়িকার। সবার উপস্থিতি ছাপিয়ে অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে ওঠেন এই নায়িকা। একেবারেই ছিমছাম, সহজ-সরল ভঙ্গিতে এলেন, দেখলেন তারপর উপস্থিত দর্শকের মন জয় করে অনুষ্ঠান ত্যাগ করলেন। এর পরদিনই খবর আসে, জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘কাঁটাতারের বেড়া’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফিরতে চলেছেন এই লাস্যময়ী। দেশ রূপান্তরকে এটুকু নিশ্চিত করলেও জানাননি এই প্রত্যাবর্তনে তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে কে থাকছেন! শুধু এতটুকুই বলেছেন, হতে পারে দেশের একজন জনপ্রিয় নায়ক, নয়তো ভারতের কেউ।

বেশ কিছুদিন আগে শাবনূরকে একটি সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ। শুরুতে প্রস্তাব গায়ে মাখেননি তিনি। পরে সাড়া দিয়েছেন। ‘কাঁটাতারের বেড়া’ সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন শাবনূর, এমন একটি পোস্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া তাদের ফেইসবুকে প্রকাশ করেছে। শাবনূর বলেন, ‘এ দেশের দর্শক এখনো আমাকে ভালোবাসেন। তারা নায়িকা চরিত্রেই শাবনূরকে চান। তাই ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

শাবনূর সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’ সিনেমায়। মোস্তাফিজুর রহমান পরিচালিত এই সিনেমায় মৌসুমী ও ফেরদৌস ছিলেন। বিয়ে ও সন্তানের মা হওয়ার পর নায়িকা শাবনূরের ওজন বেড়ে যায়। এখন নিজের পুরনো গড়নে ফিরতে নতুন মিশনে নেমেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, ‘আমি দর্শক ঠকাতে চাই না। দীর্ঘদিন সিনেমায় কাজ করেছি। জীবনের বেশির ভাগ সময় ও মেধা দিয়েছি এই সিনেমার পেছনে। তার বিনিময়ে পেয়েছি দর্শকের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এই ভালোবাসার মূল্য দেওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। নয়তো একজন শিল্পী টিকে থাকতে পারেন না। এ জন্য আমি নিজেকে ফিট করার পেছনে এখন অনেক সময় দিচ্ছি। ফিটনেস ঠিক না করে পর্দায় আসাটা আমার পছন্দ নয়। এতে দর্শক বিরক্ত হয়। আমি তা কোনো দিনই চাই না।’ একনাগাড়ে শাবনূর আরও বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল। কিছু ভুল আমারও হয়েছে। দু-একটা সিনেমায় হয়তো আমি দর্শকের চাহিদামতো পর্দায় আসতে পারিনি। কিন্তু তার জন্য পুরোটা দায়ী আমাকে করা ঠিক হবে না। কখনো প্রযোজক-পরিচালকের সিদ্ধান্তের জন্য আমাকে ওভাবেই ক্যামেরার সামনে আসতে হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে আর আমাকে অনুরোধের ঢেঁকি গিলতে দেখবেন না দর্শক।’

ফিটনেস ঠিক করতে খাওয়া-দাওয়া ও ব্যায়ামে মনোযোগী হয়েছেন শাবনূর। আগে দিনে দুবেলাই ভাত খেতেন তিনি, এখন খাচ্ছেন এক বেলা। সেই ভাতের পরিমাণও যৎসামান্য। প্রতিদিন ব্যায়ামাগারে যেতে না পারলেও ঘরে থাকা যন্ত্রে কাজ সারছেন। পরামর্শ নিচ্ছেন একজন অস্ট্রেলিয়ান পুষ্টিবিদ ও ব্যায়াম প্রশিক্ষকের কাছে।

‘কাঁটাতারের বেড়া’ সিনেমার শ্যুটিং কবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার তৈরি হতে যত দিন লাগবে, ঠিক তত দিন। নতুন বছরের শুরুতেও হতে পারে। সিনেমার গল্প আমার এতটাই ভালো লেগেছে, প্রথমবার শুনেই রাজি হয়ে গেছি,’ বললেন শাবনূর। এও বললেন, ‘গল্পের মাঝপথে এসে আমার দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা হয়েছিল।’

সিনেমায় নায়ক হিসেবে শাবনূর চান শাকিব খান, রিয়াজ বা ফেরদৌসকে। তার মতে, এ তিনজনই এখনকার সবচেয়ে স্মার্ট হিরো। তবে এ প্রজন্মের আরিফিন শুভ, সিয়াম, রোশানকে তার ভালো লাগে।

শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নাকি তার বন্ধু হয়ে গেছে। শাবনূরের চঞ্চল স্বভাবের কথা সব ভক্তই জানেন। কোনো কাজ না থাকলেও একটা কিছু বানিয়ে নেন তিনি। সারা দিন হাসিঠাট্টা, হই-হুল্লোড়ে ব্যস্ত থাকেন। তিনি তো অনেক সময় মজা করে বলেই ফেলেন, ‘আমার এই চঞ্চলতা কোনো দিন শেষ হবে না। যেদিন নিজেকে বুড়ি ভাবব, সেদিন থেকে আর দুষ্টুমি করব না।’ এদিক দিয়ে শাবনূরকেও ছাড়িয়ে গেছে তার ছেলে। সারা দিন বিজ্ঞের মতো কথা বলে আর এটা-ওটা করতেই থাকে। তবে আইজান পড়াশোনায় খুব ভালো। শাবনূর বলেন, ‘ওর মেধাশক্তি প্রখর। বলতে হয়, এক্সট্রা অর্ডিনারি ব্রেইন হয়েছে। এখন সে অস্ট্রেলিয়ার একটি স্কুলে কেজিতে পড়ছে। ছয় মাসে ২৮টি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। এর মধ্যে স্কুলের সবচেয়ে বড় অ্যাওয়ার্ড ‘প্রিন্সিপাল অ্যাওয়ার্ড’ও পেয়েছে। বিজয় দিবসে ঢাকায় আমার সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নাটক করেছিল শিক্ষার্থীরা। সে রাতে আইজান ঘুমানোর আগে আমাকে পুরো নাটকটি বুঝিয়ে দিল। আমি তো অবাক! কারণ ও খুব ছোট, এর আগে তার সামনে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছুই বলিনি আমি। কিন্তু সে সবই বুঝে ফেলেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত