বিপিএলে এক ম্যাচে দুই দলের ইনিংস মিলে মোট রান উঠল ৪২৬। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও ঢাকা প্লাটুনের মধ্যকার রান উৎসবের ম্যাচটিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের চট্টগ্রাম জিতল ১৬ রানে।
বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২২১ রান করেছিল চট্টগ্রাম। এবারের আসরে যা সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এবং প্রথম দু শ পেরোনো স্কোর। জবাব দিতে নেমে ঠিক শেষ বলে ২০৫ রানে থেমেছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ঢাকা প্লাটুন।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই এনামুল হক বিজয়ের (১) উইকেট হারায় ঢাকা। তবে এবারের আসরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা মুমিনুল খেললেন দারুণ। অসুস্থ তামিম ইকবালের বিকল্প হিসেবে খেলতে নেমে দলের চাহিদা পূরণ করেছেন তিনি দারুণভাবে।
১৩তম ওভারে চট্টগ্রামের পঞ্চম শিকার হওয়ার আগে মুমিনুল খেলেন ৫২ রানের ইনিংস। ৩৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৫২ রান করেন তিনি। তিনে নামা জাকের আলি ১৯ বলে ২৭ রান করেছেন ২ টি করে চার ও ছক্কায়। এভিন লুইস ১৭ ও আফিস আলি ১৫ রান করেন।
১০.৫ ওভারে দলীয় ১০০ রান পূরণ করা ঢাকা আসলে পথেই ছিল। কিন্তু শতরান পূরণের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বিপাকে পড়ে দলটি। থিসারা পেরেরা শেষ বলে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ২৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংস। ৩ চার ও ৪ ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান তিনি।
মাশরাফী ৬ বলে ২৩ রানের ঝোড়ো এক ইনিংস খেলেছেন। ১৫তম ওভারে নাসির হোসেনকে টানা তিন ছক্কা ও একটি চার হাঁকান। পঞ্চম বলে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।
চট্টগ্রামের পক্ষে সর্বাধিক ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান রানা ও মুক্তার আলী। রানা ছিলেন দারুণ ইকোনমিক। ৪ ওভার বল করে খরচ করেন মাত্র ২৩ রান। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।
এর আগে প্লাটুন বোলারদের রীতিমতো হতাশ করে ছেড়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লেন্ডন সিমন্সরা। মাহমুদউল্লাহ খেলেছেন সর্বোচ্চ ৫৯ রানের ইনিংস। ২৮ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান এই ডানহাতি। সিমন্স খেলেছেন ৩৬ বলে ৫৭ রানের ইনিংস। ৫ চারের সঙ্গে তিনি হাঁকিয়েছেন ৪ ছক্কা।
চট্টগ্রামের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ঢাকার বোলারদের কেউই নিজেদের ইকোনমিটা ভদ্রস্থ রাখতে পারেননি। শুরুতে সিমন্স ও পরে মাহমুদউল্লাহকে অন্যপ্রান্তে সহায়তা দিয়ে গেছেন সতীর্থরা। ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো যেমন খেলেছেন ১৩ বলে ২৬ রানের ইনিংস। উদ্বোধনী জুটিতে সিমন্সের সঙ্গে ৪.৪ বলে ৫১ রান যোগ করেন তিনি।
তিনে নেমে ইমরুল কায়েস খেলেছেন ৪০ রানের ইনিংস। তার ২৪ বলের ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ১ ছক্কা। শেষ দিকে চ্যাডউইক ওয়ালটন ১৮ বলে অপরাজিত ২৭ রান করেন। নুরুল হাসান সোহান অপরাজিত ছিলেন ৭ রানে।
ঢাকার পক্ষে সর্বাধিক ২ উইকেট পেয়েছেন হাসান মাহমুদ। তবে ৪ ওভারে তাকে খরচা করতে হয়েছে ৫৫ রান।
এখন পর্যন্ত আসরে সর্বাধিক ৫ ম্যাচ খেলা চট্টগ্রামের এটি চতুর্থ জয়। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে টেবিলের শীর্ষে। অন্যদিকে দ্বিতীয় হারের স্বাদ পাওয়া ঢাকা ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে পঞ্চম স্থানে।
