খোলামেলা কাজল

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২০ পিএম

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল। তার সাফল্য ভক্তদের এখনো অবাক করতে পারেনি। এটি একটি পরিচিত সত্য যে, তিনি একজন দুর্দান্ত অভিনেত্রী। তবে সবার প্রিয় এই অভিনেত্রী এক সময় বিব্রতকর ফ্যাশন সেন্সের জন্য প্রায়ই সমালোচনার শিকার হতেন। কিন্তু এখন তিনি এক ধরনের ফ্যাশনিস্তায় পরিণত হয়েছেন। সম্প্রতি ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী কাজল। সেখানে তার নতুন লুক দেখে যে কেউই বলবেন, কাজলের ফ্যাশনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এই ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাজল তার অভিনয় জীবন থেকে শুরু করে প্রেম, বিয়ে, স্বামী, সন্তান, ফ্যাশন সেন্সসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। এরই মধ্যে শাহরুখ খানের সঙ্গে তার প্রেমের গুজব ও তাদের প্রকৃত রসায়ন নিয়ে তার বক্তব্য আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি যে পোশাকের জন্য অযথাই মানুষের সমালোচনার পাত্রী হয়েছেন, সে কথাও বলেছেন অকপটে। এই অভিনেত্রীর কথায়, ‘ফ্যাশন তারকাদের জীবনের একটি অন্যতম অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একটা সময় এ নিয়ে আমি খুব একটা ভাবতামই না। নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। যে পোশাকটা পরে আমি আরাম বোধ করতাম শুধু সেটাই পরতাম। এমনও হয়েছে যে, একই পোশাকে আমি বারবার ক্যামেরার সামনে এসেছি। আবার জমকালো কোনো ইভেন্টে খুব সাধারণ পোশাক পরেও চলে এসেছি। এসব নিয়েই সমালোচনা হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কিন্তু সমালোচনার ভয়ে পোশাকের প্রতি যতœশীল হইনি। আমি বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি। তখন মনে হয়েছে আমি একজন মানুষ। সেটি ক্যামেরার  পেছনে। কিন্তু ক্যামেরার সামনে তো আমাকে শুধুই একজন তারকা হিসেবে ভাবা হয়। তারকা হলে নিজেকে আরও বেশি গুছিয়ে উপস্থাপন করতে হয়। সেই ভাবনা থেকেই এখন পোশাকের ব্যাপারে আগের তুলনায় অনেক হিসেবি হয়েছি। ফ্যাশন আমার জীবনকে আরও একধাপ রঙিন করে তুলেছে।’

ফিল্মফেয়ারের ওই সাক্ষাৎকারে কাজল গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তার পেশাজীবন আর ব্যক্তিজীবন কতটা আলাদা, সেই কথাও। তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের (প্রখ্যাত অভিনেত্রী তানুজা) কাছ থেকেই আমার জীবনের অধিকাংশ মূল্যবোধ তৈরি হয়েছে। তার মতো আমার মেয়েকেও সেইসব শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি। অনেক সময় হয়তো করতে পারি না। কিন্তু চেষ্টা থাকে। আমার মা আমাদের সব সময় আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে শিখিয়েছেন। মেয়ে বলে তিনি আমাদের কখনো বলেননি যে এই করা উচিত নয় বা এই করা উচিত। মা সব সময় বলেন, মেয়েরা সবকিছু করতে পারে। আর নিজেকে সম্মান করা খুব জরুরি। আমার সন্তানদের মধ্যেও মায়ের শিক্ষার বীজ বপন করার চেষ্টা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই সন্তান খুবই বুদ্ধিমান। আমার ছেলেমেয়েরা আমায় অনেক কিছু শিখিয়েছে। যেমন আমার মেয়ে নিয়াসা আমাকে সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে শিখিয়েছে। দুই বছর আগে নিয়াসা আমাকে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ১৫ মিনিটের একটা ভাষণ দেয়। ও আমাকে বোঝায় যে, কেন আমার সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা জরুরি। আমার ব্র্যান্ড ইমেজ বাড়ানোর জন্য নাকি সোশ্যাল মিডিয়ার প্রয়োজন। একটা ১৩ বছরের মেয়ের থেকে আমাকে এই সবকিছু শিখতে হয়েছে।’

ট্রোলিং নিয়ে কাজলের অভিমত, ‘পাঁচটা মানুষ যদি আপনার সম্পর্কে কু-মন্তব্য করে তো পাঁচ হাজার মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন। তাই ভালোটাই মনে রাখা উচিত।’

বলিউড শিল্পীদের ওপর পাপারাজ্জির যত না নজর, কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি তাদের সন্তানের ওপর। ক্যামেরার ঝলকানি পিছু ছাড়ে না দেড় বছরের তৈমুর আলি খানকে। অন্যদিকে পাপারাজ্জির নজর বাঁচিয়ে শিশু আদিরাকে সযতেœ আড়ালে রেখেছেন তার মা রানী মুখোপাধ্যায়।

আপনার সন্তানরা কীভাবে পাপারাজ্জি সামলায়? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মা হিসেবে কখনো চাই না এই অপরিণত বয়সে ছেলেমেয়েকে মিডিয়া সামলাতে হোক। এই বয়সে ওদের অন্যদিক সামলাতে হয়। আমরা এই পেশাকে বেছে নিয়েছি। তবে আমাদের সন্তানদের এটা বুঝতে সময় লাগে যে, কেন সব সময় ক্যামেরা তাদের ধাওয়া করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তারকা হলেও আমার সন্তানরা তো তারকা নয়। তাই আমি চেষ্টা করি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত রাখতে। অন্য আর দশজন ছেলেমেয়ের মতো তারাও প্রয়োজন হলে আমার কাছ থেকে টাকা চেয়ে নেয়। আমি আবার সে টাকার হিসাব চাই। আমি কিছুতেই চাই না তারা খুব বেশি আরাম-আয়েশে বড় হোক। এমন হলে তারা পরিশ্রমের মূল্য বুঝবে না, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত