ভারতে নাগরিকত্ব আইন

শান্ত হয়নি দিল্লি, ব্যাখ্যা চায় সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৫৯ এএম

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে (সিএএ) চ্যালেঞ্জ করা ৬০টি আবেদনের শুনানি শেষে কেন্দ্রীয় সরকারের জবাব চেয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে ওই আইন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাখ্যা জানতে চায় আদালত। এছাড়া আইনটি কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হলেও আদালত তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আদালতের আদেশে বলা হয়, আইনটি কেন স্থগিত করতে হবে তা আগে দেখতে হবে। আগামী ২২ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজপথে বিক্ষোভের পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ করা ৬০টি আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। গতকাল বুধবার এসব মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে ভেনুগোপালকে এই আইনের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেয় আদালত।

এর আগে গত মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘যা কিছুই ঘটুক ওই আইন বাস্তবায়ন থেকে পিছু হটবে না সরকার। দিল্লির দারকায় এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, যা কিছুই ঘটুক মোদি সরকার এসব শরণার্থীর ভারতের নাগরিকত্ব ও ভারতীয়দের মতো সম্মান নিশ্চিত করবে’।

আইনটি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিজেদের বক্তব্য প্রস্তুত করারও সময় দিয়েছে আদালত। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অসন্তোষের মধ্যে গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

নতুন আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ, আসামের ক্ষমতাসীন বিজেপির সহযোগী দল আসাম গণপরিষদ এবং ডিএমকেসহ অনেকেই আদালতের দারস্থ হয়েছে।

এদিকে গতকালও বিক্ষোভে সরব ছিল দিল্লি ও কলকাতা। দিল্লির পূর্বাঞ্চলে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য কর্র্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার সেখানকার সিলিমপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ছয় জনকে আটক করেছে পুলিশ। নতুন সহিংসতা ঠেকাতে ওই এলাকায় বুধবার সকাল থেকে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করা হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে যেখানে গত তিনদিন ধরে আন্দোলন চলছে, ওই স্থান থেকে কিছু দূরে কার্তিক মাহের নামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবক নিজের শরীরে আগুন দিয়েছে। আগুনে ওই যুবকের শরীরের ৯০ শতাংশ স্থান পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে আউটলুক ইন্ডিয়া। দিল্লি পুলিশ জানায়, শরীরে আগুন দেওয়া যুবকের সঙ্গে সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই।  ওই যুবক মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না বলে যুবকের ভাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ।

কলকাতায় গতকালও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে গতকাল হাওড়া ব্রিজ অতিক্রম করেন তিনি। এছাড়া গতকাল রাজ্যের মুখ্য সচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে বৈঠক হয় রাজ্যপালের। বৈঠক শেষে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় সন্তোষ প্রকাশ করলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিএএ বিরোধী বিজ্ঞাপন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত