ঢাকার দুই সিটিতে ভোটের তফসিল রবিবার

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০১ এএম

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে আগামী রবিবার। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২২ ডিসেম্বর (রবিবার) কমিশন সভায় ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সেদিন তফসিল ঘোষণা করা হবে। ভোটের সম্ভাব্য কোনো দিন নির্ধারণ করা হয়েছে কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হবে।’

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটিতে ভোট

হয়। এতে মেয়র নির্বাচিত হন যথাক্রমে প্রয়াত আনিসুল হক, সাঈদ খোকন ও আ জ ম নাছির উদ্দীন। তবে তারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে প্রথম সভা করায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পূর্ণ হবে ভিন্ন দিনে। ঢাকা উত্তরে প্রথম সভা হয় একই বছরের ১৪ মে, দক্ষিণে ১৭ মে ও চট্টগ্রামে ৬ আগস্ট। সে হিসাবে উত্তরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে, দক্ষিণে ১৬ মে এবং চট্টগ্রামে ৫ আগস্ট। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যেকোনো সময় ভোট করতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবার কমিশনের ৫৭তম সভার আলোচ্যসূচিতে প্রথমেই রয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল নির্ধারণ। এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি, নির্বাচন পদক নীতিমালা, জাতীয় ভোটার দিবস ২০২০ উদযাপন, গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের খসড়া চূড়ান্ত, সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্তসহ বিবিধ বিষয়ে সভায় আলোচনা হবে। তারা আরও জানিয়েছেন, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনের প্রস্তাবনা তৈরি করে ভোটের তারিখ ফাঁকা রেখে এরই মধ্যে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। রবিবারের সভায় সিদ্ধান্ত এলে ফাঁকা জায়গায়গুলো পূরণ করে তফসিল ঘোষণা হবে। এ ক্ষেত্রে সভা শেষেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

ঢাকার দুটি সিটিতে ভোটার প্রায় ৫৪ লাখ। এর মধ্যে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে ৩০ লাখ ৩৬ হাজার ও ডিএসসিসিতে ৭৫টি ওয়ার্ডের আওতায় ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ভোটার রয়েছেন। দুই সিটির আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা হবে আড়াই হাজার।

এদিকে গত নির্বাচনের পরে ঢাকার দুই সিটিতে ৩৬টি নতুন ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করে সীমানা বাড়ানো হয়। ডিএনসিসিতে ১৮টি ও ডিএসসিসিতে ১৮টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে মেয়রপদে উপনির্বাচন হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে। একই দিন দুই সিটির সম্প্রসারিত ৩৬ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ভোট হয়। এতে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মোট ৪৮ জন। কাউন্সিলররা সাধারণত পাঁচ বছর মেয়াদে নির্বাচিত হনÑ এমন যুক্তি দেখিয়ে ইসিতে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন তারা।

দুই সিটির নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসির ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ফ্রেশ ইলেকশন করছি, উপনির্বাচন করি নাই। সবাই মিলেই আলোচনা চলছে। আদালতে যেতেই পারি, দেখি কী হয়। আগে তফসিল হোক।’ এ বিষয়ে ডিএনসিসির নতুন ৪৩ নম্বরের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান দেওয়ান বলেন, ‘সরকার চাইলে আমরা কী করব? আমরা তো সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারি না।’

ঢাকার দুই সিটিতে ভোট নিয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রফিকুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সবকিছু দেখেই তারপর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’ নতুন কাউন্সিলররা আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন জানালে তিনি বলেন, ‘আগে কমিশন বসুক, বসলে সবকিছু পর্যালোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত