ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন শাহবাগ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে শাহবাগ থানায় মামলা দুটি করা হয়। এর আগে বেলা ১১টার দিকে গত মঙ্গলবার নুরুল হক নুরের ভারতের এনআরসি বিরোধী সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলার প্রতিবাদে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। একই সময়ে তাদের প্রতিহত করতে লাটিসোটা ও রড নিয়ে মিছিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চও। একসময় টিএসসির রাজু ভাস্কর্য এলাকায় অবস্থান নেয় দুই পক্ষই। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, বেলা ১১টার দিকে ভিপি নুরুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়। এ সময় নুরুল হকের সমর্থকরা ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলার প্রতিবাদে সেøাগান দিতে থাকেন। একই সময় সেখানে আসেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তারা মঙ্গলবার তাদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ডাকসু ভিপি ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে সেøাগান দিতে থাকেন। দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম, বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, সীমা ইসলাম তাদের লাঠিসোটা ফেলে দেওয়ার অনুরোধ করেন ও টিএসসি এলাকা ত্যাগ করতে বলেন। বিক্ষোভ মিছিলের আগে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আমরা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলব। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে মুক্তিযুদ্ধের নামে যারা ভ-ামি করছে, গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলব। স্বৈরতন্ত্র দেখার জন্য ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনে জীবন দেব।
এদিকে নুরুল হককে জামায়াত শিবিরের এজেন্ট উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, নুর জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী। গতকাল তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছিল। দুর্নীতিবাজ, জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট নুরকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ. কে. এম. গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, দুই পক্ষকেই শান্ত করার জন্য সহকারী প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন। যার জন্য পরিস্থিতি এড়ানো গেছে।
পাল্টাপাল্টি মামলা
ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন গতকাল বুধবার বিকেলে শাহবাগ থানায় দুটি মামলা করেছেন।
নুরুল হকের মামলার এজহারে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের সংহতি সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের ৩০-৩৫ নেতাকর্মী হামলা চালায়। নেতৃত্বে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, মিজানুর রহমান পিকুল, খোকন মিয়া, তুর্য্যসহ কয়েকজন।
অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাজু ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশে চাপাতি, রামদা, রড নিয়ে তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন। এতে তাদের প্রায় ১০ কর্মী আহত হয়েছেন।
মামলার বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, দুই পক্ষই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।
ছাত্র ইউনিয়নের নিন্দা
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’কে কলুষিত করছে উল্লেখ করে ডাকসুর ভিপি নুরুল হকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম এক যৌথ বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানান।
সিলেটে ছাত্রলীগের হামলা
নুরুল হক নুরের ওপর ঢাকায় হামলার প্রতিবাদে সিলেটে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ছাত্র অধিকার পরিষদের ৫-৬ কর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা মানববন্ধন পণ্ড করে ‘জয় বাংলা, এই সিলেটের মাটি, ছাত্রলীগের ঘাঁটি’ ইত্যাদি সেøাগান দিয়ে চলে যায়। সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, হট্টগোল হয়েছে শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি।
