প্রবাসী শ্রমিকরা যেন প্রতারিত না হয় : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:১৮ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দালাল চক্রের অসততা সম্পর্কে পুনরায় বিদেশ গমনেচ্ছুদের সতর্ক করে দিয়ে যেসব দেশে প্রবাসী শ্রমিকরা প্রতারণার শিকার হন সেসব দেশকে এর প্রতিকারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, সেসব

প্রতারকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রবাসীকল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তথ্যসূত্র : বাসস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আহ্বান জানাব বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা আছে, সবাই যেন দালালদের ধোঁকায় না পড়ে। আর এই ধোঁকায় পড়ে কেউ কেউ তাদের ছেলেমেয়ে এমনকি বিয়ে করা স্ত্রীকেও বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। এমনকি বিক্রিও করে দেয় অনেক স্বামী তার স্ত্রীকে। এরকমও অনেক ঘটনা আমরা পেয়েছি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি কিছু কিছু দালালের খপ্পরে পড়ে যায় আমাদের গ্রাম বাংলার মানুষ। তাদের এরা বিদেশে পাঠিয়ে সোনার হরিণ ধরার স্বপ্ন দেখায় এবং অনেকে সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমায়।’ বর্তমানে বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধার উল্লেখ 

করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ আছে, কোথায় চাকরি করবে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে। যে দেশে যাবে সেখানে চাকরির অবস্থা, বেতনের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে এমনকি তাদের স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে।’

প্রবাসীকল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রবাসীকল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশের মিশন প্রধান জর্জি জিগাউরি এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) সভাপতি বেনজির আহমেদ এমপি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিদেশগামী কর্মীদের সুরক্ষার জন্য বীমা পলিসি কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের মাঝে বৃত্তি প্রদান করেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে সরকার ঘোষিত ৪২ জন প্রবাসী সিআইপির মধ্য থেকে অনুষ্ঠানে দুজনকে সিআইপিকে সম্মাননা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে অভিবাসী মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। অন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিদেশে গমনেচ্ছুদের প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা জানার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে দক্ষ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা এবং ‘ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’কে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যে যে জায়গায় যতগুলো ট্রেনিং হয় তার ওপরেও একটু নজরদারি করে উপযুক্ত ট্রেনিং যাতে তারা পায় এবং ভাষা শিক্ষার ওপরও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। তাই নয়টি ভাষা দিয়ে একটি অ্যাপস তৈরি করে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শিক্ষা করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশ গমনেচ্ছু নারীকর্মীদের জন্য সিমের ব্যবস্থা সরকার করেছে। যাতে মোবাইল ফোনে তারা দেশে যোগাযোগ করতে পারে।’ সরকারপ্রধান বলেন, সরকার যে স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে তা বিদেশ গমনকালে যেমন হয়রানি দূর করবে তেমনি দেশে ফেরার সময়ও বিমানবন্দরের হয়রানি দূর করবে। বিমানবন্দরে কর্মরত একশ্রেণির কর্মচারীর মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে এমন কিছু কর্মচারী থাকে যারা বিদেশফেরত কর্মী দেখলেই কিছু টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বা এ ধরনের প্রবণতাটা লক্ষ করা যায়। প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে আলাদা ডেস্কের ব্যবস্থা সরকার করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে সিসি ক্যামেরা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অভিবাসী কর্মীদের ও তাদের পরিবারের সুরক্ষা প্রদানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদান, চিকিৎসা অনুদান, প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতা এবং প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ বছর থেকে বিদেশগামী কর্মীদের স্বল্প খরচে বীমার আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। এ বীমার পলিসি মূল্যের অর্ধেক সরকার থেকে প্রদান করা হচ্ছে। আশা করা যায় এতে প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে, আমাদের জিডিপি আমরা ৮ দশমিক ১৫ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি, লক্ষ্য আরও অনেক দূর যাওয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমাদের জনসংখ্যার ৬০ ভাগের বয়সই হচ্ছে ১৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। এই যুবসমাজকে দক্ষ যুব সমাজে পরিণত করতে হবে। সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে আমরা দেশ-বিদেশে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এবং অবশ্যই আমরা এতে সফল হবো, ইনশাল্লাহ। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সবাইকে এটুকুই বলব আমাদের দেশের ভাবমূর্তি বিদেশে উজ্জ্বল রাখার জন্য যারাই বিদেশে কাজ করবেন আর যারাই বিদেশে কর্মী প্রেরণ করবেন তারা সবসময় যতœবান হবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত