পুরো স্কুলটিই যেন একটি ট্রেন। আর ক্লাসগুলো একেকটি বগি। স্কুলের পুরো চত্বরটা যেন একটি রেলস্টেশন।
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহরে এমন স্কুলের দেখা মিলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দুমবসান হারাধন প্রাথমিক বিদ্যালয়টির চত্বরটি গড়ে তোলা হয়েছে তমলুক রেলস্টেশনের আদলে।
তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস নামেই স্কুলটি পরিচিত। স্কুলজুড়ে নানা অলংকরণ। এমন অসাধারণ পরিবেশেই পড়াশোনা করছে স্কুলটির শিক্ষার্থীরা।
স্কুলে রয়েছে চারটি মিউজিয়ামও। একটিতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, সাপসহ নানা ধরনের প্রাণী। রয়েছে ১০০ বছরের প্রাচীন অসংখ্য মুদ্রা, পুঁথিসহ লোকশিল্পের নানা সামগ্রী।
দেয়ালে রয়েছে পুতুল, সিংয়ের কাজ, পোড়ামাটির জিনিস, মোগলমারি বৌদ্ধবিহারের ইট, বাঁশের সামগ্রী, তালপাতার সেপাই, বাঁশি, পুরুলিয়ার মুখোশ, আসামের জাপি এবং ১০০ এরও বেশি ভিন্ন ধরনের ঝিনুক ও শঙ্খ।
এমনকি ছাত্রছাত্রীদের পটচিত্র সম্পর্কে ধারণা দিতে স্কুলের দেয়ালে চিত্রিত হয়েছে মেদিনীপুর ও কালীঘাটের পটচিত্র। আছে পটের গানের আয়োজনও। নদীয়ার থেকে নামকরা শিল্পী এনে প্রতি বছর আলপনার ওয়ার্কশপ করা হয় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের নিয়ে।
এ ছাড়া নিয়মিত গান, আবৃত্তি, গল্পবলা, বিপর্যয় মোকাবিলা, ছড়া বলা, নাচের ওয়ার্কশপও হয় এখানে।
স্কুলের মধ্যেই রয়েছে একটি পার্কও। দেয়ালে বিদ্যাসাগরের জীবনের নানা তথ্য ও ছবিসহ প্রদর্শনী করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দুইটি পত্রিকা। ইতিমধ্যে নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে স্কুলটি।
স্কুলের শিক্ষিকা কৃষ্ণা বেরা জানান, স্কুলটির ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকার চেষ্টা করি সব সময়ই। বিভিন্নভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের আনুষঙ্গিক নানা বিষয়ে যুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়।
