বিমানের ফ্লাইট যাতে কোনোভাবেই মিস না হয়, গড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার যানজট যেন এড়ানো যায়_ সেজন্য চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে চালু হয়েছে ওয়াটার বাস সার্ভিস। নদীর এই পরিবহনসেবার কাহিনীটি অসাধারণ। লিখেছেন কাওছার আলম। ছবি তুলেছেন আকমাল হোসেন
‘ওয়াটার বাস’ বা ‘পানিতে চলা বাস’ ধারণাটি ঢাকার। বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) চালু করেছিল সরকারিভাবে এই বাস সার্ভিস নদীতে। সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের আমলে করা উদ্যোগটি লোকসানের মুখ দেখেছে নানা কারণে। সেগুলো খতিয়ে দেখা সরকারের কাজ। তবে আমাদের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের মানুষ অনন্য ও দেশের নদীগুলোকে লাভজনক করার অসাধারণ উদ্যোগটি তাদের শহরে এবার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তারা সবাই বিশ্বাস করে কার্যকরভাবে চেষ্টা করছেন সফল করার। এ শহরে অনেকগুলো নামকরা ব্যবসায়ী গ্রুপ আছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যারা প্রাণশক্তি। আছে দেশের প্রধান ও সেরা সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য পরিবহন হয় বন্দরটি দিয়ে। সেখান থেকে কোটি কোটি টাকার পণ্য ও শত শত মানুষ চট্টগ্রামের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে দেশের নানা জায়গায় যায়। আগে মানুষ কম ছিল, পণ্যও কম তৈরি হতো, দিন তো বদলেছে। পুরো পৃথিবীর সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তাতে ছোট এই শহরের বিমানবন্দরের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ছে রাজধানী, সারা দেশে লেখাপড়া, চাকরি, পণ্য পরিবহন, বিদেশে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে। চট্টগ্রাম পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের হিসাবে, চট্টগ্রামের নিমতলী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত একমাত্র সড়কপথে ২০ কিলোমিটার সড়ক আছে। এই পথে বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে ও বিমানবন্দর ঘুরে ফিরতে তিন থেকে গড়ে চার ঘণ্টা লাগে যাত্রীদের, সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার পরও। এতই যানজট। বিমানবন্দরে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন শুরু করে বিমানগুলো ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। তাদের ২৮টি বিমান আছে। সেগুলোতে সাড়ে চার হাজার যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হয়। আন্তর্জাতিক রুটে দিনে গড়ে আরও দেড় হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। তাদের সঙ্গে নানা কারণে ও প্রয়োজনে আসেন গড়ে আরও এক হাজার স্বজন। প্রতিদিনের চলাচলের বাইরে সড়কটি দিয়ে দিনে সাত হাজার যাত্রীর বিশাল চাপ সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায় পুরো শহর।
তার ওপর আছে এ পথে বিমানযাত্রী ও তাদের স্বজনের এবং পণ্য পরিবহনে এবং আরও নানা দরকারে প্রতিদিন চলা গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার গাড়ি। কেবল বিমানবন্দরের দিকে ছুটে চলা ও বেরিয়ে আসা গাড়িই নয়, চট্টগ্রাম বন্দর, সি-ইপিজেড (চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল), বিভিন্ন শিল্প-কারখানার পণ্যবাহী কনটেইনার, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইভেট কার, সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ও গণপরিবহনগুলো ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো এই পথে আরও বিরাট যানজট সৃষ্টি করে। পুরো পথটি মানুষের জীবন থেকে, দেশের অর্থনীতি থেকে এত কিছু কেড়ে নেয় প্রতিদিন। সড়ক দুর্ঘটনা, নৈরাজ্য আছেই। ফলে বিমানে উঠতে না পারা, পণ্য নিয়ে না যেতে পারা মানুষ পিছিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন এ দেশের মতোই। ভয়ংকর এই ক্ষতি থেকে দেশকে বাঁচাতেই আসলে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। নৌপথটি আছে চট্টগ্রামের অন্যতম নদী কর্ণফুলীতে। সারা দেশের সব নদীকে বাঁচাতে চান দেশপ্রেমিক মানুষরা। এখানেও তাই। এভাবে চলার পথ তাদের কমিয়ে, সহজ করে, যাত্রী ও পরিবহনবান্ধব করতে উদ্যোগটি নিয়েছেন তারা। কে না জানেন, নদীতে জায়গা বেশি ধরে সড়কের তুলনায় হাজার গুণে, নৌযানগুলো আয়তন ও সক্ষমতায়ও অনেক বড় বাস, বিমানের চেয়ে। অল্প পথও পাড়ি দিতে হয় নৌপথে। ১২ কিলোমিটার মাত্র নৌপথ তাদের এই পথে বিমানন্দরে পৌঁছাতে লাগে। কোনো যানজট নেই।
৯ ডিসেম্বর নতুন এই পথের জন্ম হয়েছে আরব আমিরাতের শহর দুবাইতে দেখে আসার পর এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে। নাম সাবাব উদ্দিন। পরে তার এই স্বপ্নটি বাস্তবায়িত হলো চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, বিদেশে নিয়মিত যাতায়াত করা বাংলাদেশি এবং চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকদের এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিক ইচ্ছা, চেষ্টা ও কর্মগুণে। চট্টগ্রামের সদরঘাট নদীবন্দর থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত হলো পথ। সে জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আলাদা টার্মিনাল এবং পতেঙ্গায় পন্টুন জেটিই বানিয়ে দিয়েছেন সরকারের টাকায়। নৌযানের পথটি চালাবে সরকারি চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড (ডিডিএল) ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এসএস ট্রেডিং মিলে। ডিডিএল তারা নৌপথ ভালোভাবে পরিচালনা করছে কি-না দেখবেন, পথটি ব্যবহার করবে এসএস ট্রেডিং। তারা মাসে বা বছরওয়ারি চুক্তি করেছেন সরকারের সঙ্গে। বাস যাচ্ছে নদীর তীর থেকে কর্ণফুলীর বুক চিরে সদরঘাট থেকে পতেঙ্গার ১৫ নম্বর জেটিতে।
নৌযান বা ওয়াটার বাস চলছে দেশের মধ্যে বিমানের চলাচলের আমানত শাহ বিমানবন্দরের হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে। তারা ঘড়িতে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিমানের সঙ্গে মিলে ১১ বার করে ২২ বার চলাচলের জন্য তৈরি। তাদের সময়সূচি সকাল ৭টা, ৮টা, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট, বিকেল ৩টা, সন্ধ্যা ৭টা- সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বিমানবন্দর; ফেরার পথে সকাল সাড়ে ৮টা, বেলা সাড়ে ১১টা, বেলা ২টা ২৫ মিনিট, বিকেল সাড়ে ৪টা, রাত ৯টা ১৫ মিনিট- পতেঙ্গা জেটি থেকে সদরঘাট। দিনে তারা ১০টি ‘আপ অ্যান্ড ডাউন ট্রিপ’ দিচ্ছেন, একটি কম আছে। নৌযান ও নৌপথ বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, এই পথের দূরত্ব হলো আট নটিক্যাল মাইল বা ১৫ কিলোমিটার সড়কপথ থেকে পাঁচ কিলোমিটার কম। বাসটির মাত্র ১৮ মিনিট লেগেছে পথটুকু তাদের প্রযুক্তিতে পাড়ি দিতে। ফলে সময় বেচেছে ১৬২ মিনিট। কোথাও জট নেই। তুমুল বাতাস, অসীম আকাশের নীচে বিরাট নদীতে বসে জীবনের স্বাদ নিতে নিতে ছুটে চলছেন যাত্রী আপন দেশের জন্য গন্তব্যে। এখন দুটি ওয়াটার বাস আছে। প্রতিটিতে ২৫ জন করে বসতে পারছেন। লাগেজও সমান। প্রতিটি লাগেজের দায়দায়িত্ব ওয়াটার বাসের মালিক বেসরকারি সংস্থার। পুরো বাস সার্ভিস বিমানের যাত্রীদের জন্য। সাধারণ মানুষও চাইলে আনন্দ ভ্রমণে যেতে পারছেন- তথ্যগুলো জানালেন এসএস ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবাব উদ্দিন। আরও সুবিধা আছে বিমানযাত্রীদের জন্য তাদের- পতেঙ্গা জেটিতে নেমে লাগেজসহ বিমানবন্দরে পৌঁছে দেবেন এসএস ট্রেডিংয়ের নিজস্ব শাটল বাসে। পুরো পরিবহনের মোট ভাড়া জনপ্রতি সাড়ে ৩০০। তবে সে ভাড়া বেশি বলতে শুরু করছেন চট্টগ্রামের সুশীলসমাজ। প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি কলিম সারওয়ারের মতে, ‘উদ্যোগ চট্টগ্রাম ও সারা দেশের মানুষের জন্য অবশ্যই ভালো এবং প্রশংসনীয়। তবে জনপ্রতি ভাড়া সাড়ে ৩০০ টাকা অনেক বেশি। নৌযানের মাসওয়ারি ও ট্রিপপ্রতি জ্বালানি তেল, তাদের পরিবহনসেবা ও অন্যান্য খরচ সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। মানুষের ভোগান্তি ও চট্টগ্রাম, দেশের উন্নতির জন্য কাজ করতে গিয়ে কারও ওপর যেন জুলুম না করা হয় সেটি আমাদের সবারই কর্তব্য। আমরা দেড়শ টাকা ভাড়ার দাবি জানাই- তাদের ও আমাদের ভালোর জন্য।’ বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের (বিইএফ, সংক্ষেপে ইংরেজিতে) সাধারণ সম্পাদক অলীউর রহমানের বক্তব্য, ‘গ্রাম থেকে বিদেশে কাজের খোঁজে জীবন বেচতে যাওয়া প্রতিজন সক্ষম পুরুষ ও নারীর সঙ্গে চার থেকে পাঁচজন পরমাত্মীয় থাকেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার দূর-দূরান্ত থেকে যানবাহনে অনেক টাকা খরচ করে সদরঘাটে এসে এক-একজন সাড়ে ৩০০ করে টাকা দিয়ে বিমানন্দরে পৌঁছাচ্ছেন। এত খরচ দেবেন কোথা থেকে? ফলে উদ্যোগটি থমকে যেতে পারে প্রচারণার ফলে ও খরচে। নিয়মিত ঢাকা-চট্টগ্রামের যাত্রী বাদে, বিদেশে যেতে চান, পণ্য বহন করে সেখানে; তারা বাদে অন্যরা তো ওয়াটার বাসে উঠবেন না। ফলে ঢাকার বুড়িগঙ্গার মতো ঢাকঢোলে শুরু করা, পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া ওয়াটার বাসের পরিণতি হবে আমাদের এখানেও। তাতে নদী মারা যাবে আরও। ঢাকার গুলশান থেকে রামপুরার মাত্র ১৫ টাকা ভাড়ার ওয়াটার বাস সার্ভিস এখনো জনপ্রিয় হয়ে বেঁচে আছে। ফলে ভাড়া সাধ্য ও মানুষের ভালোর জন্য বিবেচনা করে রাখতে হবে।’ কথাগুলো জানানোর পর বাসের মালিক সাবাব উদ্দিন বললেন, ‘অকটেনে বাসগুলো চালাই। ঘণ্টায় গতি ৩০ নটিক্যাল মাইল। আমাদের পুরো সার্ভিসই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিক মানের। আরও সেবা আছে। ফলে এই ভাড়া রাখতে হচ্ছে। পরে আরও জনপ্রিয় হলে ভাড়া কমানো বিবেচনা করব।’ তবে বললেন, ‘আমাদের বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ৭০ লাখ টাকা ভাড়া বাবদ দিতে হয়। তারা কমালে আমরাও ভাড়া কমাতে পারব।’
আশা দেখছেন তাদের নিয়ে সবাই। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সুভাষ বড়ুয়া জানালেন, ‘বিমানবন্দর সড়কের যানজট দিনে দিনে; ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে। ভোগান্তি, দেশের ক্ষতি কমানোর জন্য অনন্য উদ্যোগটি আমাদের আশাবাদী করেছে। তবে কোনো ধরনের সমীক্ষা করে, নৌপথকে উন্নত করে বাস সার্ভিস চালানো হচ্ছে কি না- জানতে পারিনি। হুট করে কোনো উদ্যোগ পরিচালনা করলে সেটি স্বাভাবিক কারণেই টেকে না। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি হলে এ সার্ভিসও টিকবে না। লাখ, লাখ টাকা লোকসান হবে। সদরঘাটে না করে বাসের টার্মিনাল সদরঘাট কি কালুর ঘাটে করলে কিংবা আরও জরিপের মাধ্যমে শাহ আমানত সেতু এলাকাতে করলে সুফল ও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হতো কি-না এ বিষয়ে, নদীর অবস্থা ও চলাচলের পথ নিয়ে নৌ-বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে কি-না জানি না। সদরঘাট ব্যস্ততম এলাকা। তারা এখানে যান ও যাত্রীজটে পড়লে সার্ভিস ব্যবহার করবেন কি-না- প্রশ্ন ওঠে। জোয়ার-ভাটার সময় এবং বন্দরের চ্যানেলে জাহাজ চলাচলের ফলে বাসগুলোর কোনো ঝুঁকি আছে কি-না সেটিও বিবেচনায় আনতে হবে; যদি একে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।’ এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্ববান কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমাদের জেটি নির্মাণের কাজ ছিল, করে দিয়েছি। ঘাটের সুবিধাও আমাদের। এরপরের কাজ মানে সমীক্ষা, জরিপ ও বন্দরের ভালো, খারাপ সার্ভিস পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের কাজ। আমাদের এই চ্যানেলে ছোট ছোট নৌকাও যাত্রী পরিবহন করে। শিকলবাহা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম মেরিন অ্যাকাডেমির স্পিডবোট চলাফেরা করে। তাদের সবার চলাফেরার অভিজ্ঞতায় এখানে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা হবে বলে মনে হয় না।’ এ বিষয়ে সাবাব বলেছেন, ‘তিন বছর নানাভাবে জরিপ ও সমীক্ষার পর ওয়াটার বাস সার্ভিস চালানো শুরু করেছি। ফলে জানুয়ারি, ২০২০ সাল থেকে আরও দুটি ওয়াটার বাস চালানোর পরিকল্পনা আছে।’
নাগরিক উদ্যোগ, চট্টগ্রামের প্রধান উপদেষ্টা ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন জানালেন, ‘আশা করি, ভবিষ্যতে কেবল বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহন না করে ওয়াটার বাস সার্ভিস আরও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই সার্ভিস গণপরিবহন হোক। আমাদের পর্যটন স্থানগুলোকেও ওয়াটার বাস সার্ভিসের আওতায় আনলে নদী থেকে আয় বাড়বে। পরিবেশ দূষণ কমবে। নদীগুলো বাঁচবে। বেশি ভাড়াও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সার্ভিস চালু করে বলেছিলেন, ‘সড়কগুলোর ওপর থেকে যাত্রী ও পণ্যের চাপ কমাবে পানিতে চলা বাস।’
ওয়াটার বাস দুটিতে আছে- ২০০ অশ্বশক্তির দুটি ইয়ামাহা কোম্পানির জাপানি ইঞ্জিন। জাপানের ন্যাভিগেশন (নৌ-চালনা) যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ, আধুনিক সোলার ব্যবস্থা। ফলে সূর্যের আলোতে চলতে পারবে তারা; শীতাতপ ব্যবস্থা এবং ওয়াইফাই আছে। ওয়াটার বাসের জন্য চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড় সদরঘাট মোড়ে পৌঁছানোর আগে হাতের বামে আলাদা গাড়ি পার্কিং, দোতলা আধুনিক ওয়াটার বাস টার্মিনাল ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। এটি ওয়াটার বাস স্টেশন। নিচতলায় চারটি বিমান প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা ডেস্ক, যাত্রীদের সবার চেয়ার আছে। ভিআইপিদের (ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন-খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) জন্য আলাদা সোফা আছে। এসএস ট্রেডিংয়ের অপারেশনাল ম্যানেজার (কর্মসম্পাদন কর্মকর্তা) রেজাউল করীম বললেন, ‘শুরুতে ভাড়া বেশি মনে হলেও সেবা গ্রহণের পর ভাড়া কম মনে হবে। পুরো সেবাতে তাদের নিয়ে আসা থেকে শুরু করে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিচ্ছি। সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা কোনো সেবা নেই এখন। কারণ তাতে সেবা দুই ধরনের হয়ে যাবে। পুরো কর্মপ্রক্রিয়া ও উদ্যোগের অন্যতম কারণ- আমরা কোনো বিমানের ফ্লাইটই কাউকে মিস করতে দিতে রাজি নই।’ এই নগরের সুশীল ও সাধারণ মানুষ মনে করেন, নৌপথটি সংস্কার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর সড়কের নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হলে দেশের এই সড়ক ও নৌপথ ভালো হয়ে যাবে।
