আজারবাইজানের লেরিকে দীর্ঘজীবীদের জাদুঘর

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:২০ এএম

একজন সুস্থ-সবল মানুষ সাধারণত ৭০-৮০ বছর বাঁচেন। কেউ কেউ ৯০-এর কোটাও ছুঁয়ে ফেলেন। শত বছর পাড়ি দেওয়া মানুষরা পৃথিবীতে বিরল। তবে পৃথিবীতে এমন কিছু বিশেষ অঞ্চল রয়েছে, যেখানে অহরহই শতবর্ষী মানুষের দেখা মেলে। এ ড়্গেত্রে আজারবাইজানের কথা না বললেই নয়। দেশটিতে কোনো মানুষের দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকার ইতিহাসও আছে। আজারবাইজানে শতবর্ষী মানুষের জাদুঘর হিসেবে খ্যাত লেরিক অঞ্চলের মানুষের জীবন-রহস্য নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

শতায়ু মানুষের বসবাস

শতায়ু মানুষদের অনেক গল্প আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় পড়েছি। এর মাঝে জাপানের ওকিনাওয়াকে বলা হয় ‘অমর মানুষের ভূমি’। ইতালির ক্যাম্পোডিমেল নামক গ্রামটি ‘অমরত্বের গ্রাম’ নামে পরিচিত। এদের দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার রহস্যের মধ্যে লুকিয়ে আছে ভূমধ্যসাগরীয় খাবার। ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়ি শহর লোমা লিন্ডার মানুষও পাহাড়ের বাতাসে বাস করে খুঁজে পেয়েছে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার উপায়। দীর্ঘজীবী মানুষের বসবাস করা এলাকাগুলোর যেহেতু একেক ধরনের নাম রয়েছে, সেদিক দিয়ে আজারবাইজানের একটি এলাকাকে বলা হয় ‘দীর্ঘায়ুদের জাদুঘর’। লেরিক নামের এই জায়গাটি আজারবাইজানের দক্ষিণে অবস্থিত। দেশটির বিভিন্ন শহর যেমন– লংকারান এবং নাগোর্নো কারাবাখেও দীর্ঘায়ু অনেক মানুষ বাস করেন, তবে লেরিকেই ১০০ থেকে ১৫০ বা তার অধিক বয়সের মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মেঘের কাছাকাছি তালিশ পাহাড়, যেখানে পৌঁছাতে হয় অনেকগুলো আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছানোর স্থানে লুকিয়ে আছে দীর্ঘায়ু মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মন্ত্র।

দীর্ঘায়ুদের জাদুঘর

আজারবাইজানের লেরিককে দীর্ঘায়ুদের জাদুঘর বলা হলেও ওই অঞ্চলটিতে আক্ষরিক অর্থেই এমন একটি জাদুঘর রয়েছে। দুই রুমের দীর্ঘায়ুদের এই জাদুঘর প্রথম নির্মিত হয় ১৯৯১ সালে। ২০১০ সালে এর কিছু সংস্কার করা হয়। বয়স্ক অনেক মানুষের দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার স্মৃতি নিয়ে এখানে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি ছবি আছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকা, মানুষের ছবি ও নানা অনুষঙ্গ খুব সুন্দরভাবে সাজানো আছে জাদুঘরে। কাপড় ইস্ত্রি করার জন্য আমরা বর্তমানে যে ইলেকট্রিক ইস্ত্রি ব্যবহার করি, সেটি আগে এমন ছিল না। একজন মানুষ যিনি তিন প্রজন্মের তিনটি ইস্ত্রিই ব্যবহার করেছেন– এমনও স্মৃতি রাখা আছে সেখানে। টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা ইস্ত্রিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, সমাজ ধীরে ধীরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে বিভিন্ন সময়।

এই জাদুঘরে আরও আছে মাথার স্কার্ফ আর শার্ট দিয়ে ঢেকে রাখা সিন্দুক, রুপার কলসি আর বাটি। আছে সুন্দর সুইয়ের কাজ করা মোজা, হাতে বানানো কম্বল। প্রতিটি জিনিসই শতায়ু মানুষদের ব্যবহার করা। এই জিনিসগুলো এখনো তাদের বয়সের মতোই দ্যুতি ছড়াচ্ছে। জাদুঘরে রাখা আছে আজারবাইজান এবং রাশিয়ান ভাষায় লেখা ব্যক্তিগত বেশ কিছু চিঠি। তবে দিন যত যাচ্ছে সেগুলোর কালির রং ধীরে ধীরে হালকা হয়ে আসছে।

জাদুঘরের ওয়ালে যে ছবিগুলো টাঙানো আছে, সেগুলোর সময়ও অনেক পুরনো। ১৯৩০ সালে ফ্রেঞ্চ ফটোগ্রাফার ফ্রেডরিক লাকোপ ছবিগুলো দান করেছিলেন। এই জাদুঘর এবং আজারবাইজানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যতটা আশা করা হয়, তার চেয়েও বেশিসংখ্যক শতবর্ষী এই এলাকায় বাস করেন। এর অর্থ হচ্ছে, এখানে প্রায় সবাই ৯০ বছরের বেশি সময় বাঁচেন!

১৯৯১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লেরিকে ৬৩ হাজার মানুষের মধ্যে ২০০ জন মানুষই ১০০ বা তার অধিক বয়সী ছিলেন। স্থানীয়রা চান শতবর্ষী মানুষের এই সংখ্যা আরও
বাড়ুক। বর্তমানে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য যে টাওয়ারগুলো তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলো থেকে আসা রেডিয়েশন আর প্রকৃতির ক্রমান্বয়ে হ্রাস মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে ওই এলাকাটিতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৮০০। আর এদের মধ্যে ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে বেঁচে আছেন মাত্র ১১ জন মানুষ।

১৬৮ বছর বয়সী মানুষ!

বর্তমানে লেরিকের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তির নাম রাজি ইব্রাহিমোভা। তার বয়স ১০৫ বছর। স্বাভাবিক বয়সের তুলনায় এটি অবশ্যই অনেক বেশি। তবে তার চেয়েও বয়স্ক একজন ব্যক্তির কথা লেরিকে সবাই জানে। তিনি হলেন ১৬৮ বছর বয়সী শিরালি মুসলুমভ। জীবিত অবস্থায় তিনি একজন রাখাল ছিলেন। ক্ষয়ে যাওয়া পাসপোর্টের হলুদ পাতা দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় তার জন্ম ১৮০৫ সালে। আর সমাধিস্থলের ফলকে লেখা তার মৃত্যুর সাল জানা যায় ১৯৭৩। যদি সত্যিই এটা হয়ে থাকে তবে তিনিই হয়তো সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকা ব্যক্তি। ১৯ শতকের শুরুর দিকে, জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়াটি শিরালির জন্মস্থান বারজাভুতে পরিচিত ছিল না। আর তাই তার জন্মের পর সেই তথ্য নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তার জন্মদিনে প্রচুর চিঠি এসেছে। সবাই তাকে সম্মানের সঙ্গে সম্বোধন করেই চিঠি লিখেছেন। চিঠির লেখাগুলো দেখলেই বোঝা যায় তারা শিরালিকে কতটা পছন্দ করতেন। এত চিঠির মাঝে একটি চিঠি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেটি লিখেছিলেন ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট নেতা হো চি মিন। তিনি শিরালিকে একটি পোস্টকার্ড পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি শিরালিকে সম্বোধন করেছেন ‘প্রিয় দাদু’ নামে। শিরালির দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার এই ধারা বংশানুক্রমে চলে আসছে। তার মেয়ের হালিমা কামবারোভার বয়স এখন ৯৫। হালিমা জানেন তিনি হয়তো বাবার মতো ১৬৮ বছর বাঁচতে পারবেন না, তবু তিনি তার দাদুর মতো ১৫০ অথবা চাচির মতো ১৩০ বছর হলেও বাঁচতে চান। হালিমার আরও অনেক ভাইবোন আছে। হালিমার মা ছাড়াও শিরালি আরও দুজনকে বিয়ে করেছিলেন। তিন পরিবার মিলিয়ে তার ২৩ জন সন্তান আছে। ১৩৬ বছর বয়সেও শিরালি বাবা হয়েছিলেন। আজারবাইজানের সবচেয়ে বেশি দীর্ঘায়ু এই মানুষটি নাম লিখিয়েছিলেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও। অনেকেই বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে তিনিই বেঁচে ছিলেন। শিরালি মুসলুমভ তার এত দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার রহস্য হিসেবে নিয়মিত খাবার আর লেরিকের পরিবেশের কথাই বলেছিলেন। নিয়মিত খাবারের মধ্যে ছিল দধি, চিজ, ভাত আর ভেড়ার দুধ দিয়ে ধুয়ে সেদ্ধ করা মাংস।

প্রকৃতির নীরবতা অনুধাবন

পাহাড়ে যখন অনেক ঠাণ্ডা পড়ে, তখন লেরিকের বেশির ভাগ বয়স্ক মানুষই পাশের লংকারানে কিছুদিন বসবাস করার জন্য চলে যান। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে যাওয়ার ভয়েই স্থান পরিবর্তন করেন তারা। যান না শুধু হালিমা। তিনি তার বাবার রেখে যাওয়া দুই ঘরেই আরামবোধ করেন বেশি। জানালার পাশে বসে হাতে শাল বানান, কখনো আবার একা একাই কথা বলেন। তিনি কথা বলেন স্থানীয় তালিশ ভাষায়। এই ভাষায় বর্তমানে মাত্র দুই লাখ মানুষ কথা বলে। ভাষাটিকে ইউনেসকো ‘হারিয়ে যাচ্ছে’ এমন ভাষার তালিকায় রেখেছে।

হালিমার পাসপোর্টে কোনো মাস বা দিনের উল্লেখ নেই। সেখানে শুধু সাল হিসেবে ১৯২৪ উল্লেখ করা। তার বয়স ৯৫ হলেও তিনি এখনো প্রাণোচ্ছল। প্রপৌত্রদের সঙ্গে এখনো তিনি খুব মজা করেই গল্প করেন, আড্ডা দেন। তারাও হালিমাকে খুব পছন্দ করে। তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তার বয়স কত, তিনি হেসে উত্তর দেন, এখনো তিনি ১৫ বছর বয়সী সেই কিশোরী।

তাদের এত দিন এমন প্রাণোচ্ছলভাবে বেঁচে থাকার রহস্য আসলে প্রকৃতির নীরবতাই। তারা স্ট্রেস থেকে দূরে থাকেন বলে জীবনকে দর্শনবোধের জায়গা থেকে ভাবতে পারে। তারা প্রতিদিন বাঁচে। কাল কী হবে সেই ভাবনায় তারা চিন্তিত নয়। ভবিষ্যতের ভাবনা যে শুধু জীবনকে দুশ্চিন্তার মাঝে ফেলে দেয়, এটি তারা বুঝতে পারে। পাহাড়ের বুকে নিশ্ছিদ্র সবুজ, প্রকৃতির নিস্তব্ধতা, অতিরিক্ত যানবাহনের কোলাহলমুক্ত আর দূষণমুক্ত পরিবেশই তাদের বেশি দিন বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়।

পুষ্টিকর খাদ্য এবং প্রাকৃতিক ওষুধ

আজারবাইজানের মানুষদের ভেড়ার মাংস অনেক পছন্দ হলেও গ্রামের দিকে যারা বাস করেন, তারা সপ্তাহে মাত্র একবার বা দুবারই মাংস খান। তাদের বেঁচে থাকার জন্য যে পরিমাণ মাংসের চর্বি প্রয়োজন হয়, তার বেশির ভাগ মাংস থেকে নয়, বরং দুগ্ধজাতীয় পণ্যগুলো থেকেই আসে। সাধারণত তারা ডিম, চিজ, মাখন, দধি, দুধ, দই, টকদই, রুটি, বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি, ফল আর ঔষধি গাছপালা খেয়ে থাকেন। তারা প্রায়ই টাটকা শাকসবজি যেমন– শিম, মোটর এবং শস্যদানার সঙ্গে টকদই মিলিয়ে খান। আগে যারা অধিক দিন বেঁচে থাকতে চাইতেন, তারা কখনো রুটি বা ময়দার তৈরি কোনো খাবার খেতেন না।

আজারবাইজানে মিষ্টি সুপরিচিত হলেও মিষ্টিজাতীয় খাবার কখনোই তারা খুব বেশি খায় না। দেশটিতে জাতীয় মিষ্টি খাবার বলে পরিচিত পাখলাভা, শাকারবুরা এবং হালুয়াতেও তারা সরাসরি চিনির বদলে মধু ব্যবহার করে। বর্তমান বিজ্ঞানও বলে, চিনির চেয়ে মধুর ভিটামিন ও অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক বেশি। আজারবাইজানের সবচেয়ে পরিচিত পানীয়র নাম ‘আয়রান’। এটি বানানো হয় দই আর পানি দিয়ে। ব্লাডপ্রেশার কমানোর জন্য এবং ডায়রিয়া সমস্যায় এই পানীয় বেশ উপকারী। হজমেও সহায়ক এই পানীয় সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনযাপনের জন্য পান করা হয়।

আজারবাইজানবাসী নিয়মিত চা পান করেন। তবে কফিতে তাদের আগ্রহ নেই। আর এটিকে স্বাস্থ্যসম্মতও ভাবেন না তারা। তাদের মতে, মাথাব্যথা কমাতে, ঠাণ্ডার সমস্যা দূর করতে এবং রক্ত, পাকস্থলী ও মস্তিষ্ক পরিষ্কার রাখতে চা বেশ উপকারী। যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে হার্টবিট, শ্বাসকষ্ট এমনকি হৃদযন্ত্রের সমস্যাও চায়ে কমে যেতে পারে। হতাশা এবং মন খারাপ ভাবকেও দূরে রাখে চা। আজারবাইজানের মানুষদের ঔষধি বিষয়ে বিশ্বাস হলো, জাফরান এবং যষ্টিমধু দীর্ঘজীবন লাভে সহায়ক। এগুলো ত্বক এবং মুখ উজ্জ্বল করে। এমনকি লিভার, হার্ট এবং কিডনির স্বাস্থ্যও ভালো থাকে এগুলোর মাধ্যমে।

এগুলো ছাড়াও তারা প্রচুর পরিমাণে আপেলসহ বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি খান নিয়মিত। হৃদযন্ত্র, পাকস্থলী ভালো রাখতে আপেলের জুড়ি নেই। বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি, বনজবৃক্ষ দিয়ে তারা জ্যাম, জুস, ওয়াইন, ড্রাই ফ্রzট এবং ওষুধ বানায়। ময়দা দিয়ে বানানো খাবার, কাবাব, মাংস দিয়ে তৈরি পিলাফ আর ড্রাই ফ্রzট ইত্যাদি খাবার তারা বছরের কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে, যেমন– নতুন বছর উদযাপন কিংবা কারও বিয়ের উৎসবে গ্রহণ করে থাকে। ১৯ শতকের দিকে ধনী ব্যক্তিরাও প্রতিদিন মিষ্টি আর মাংস খেতেন না, কারণ তারা এগুলোকে ক্ষতিকর ভাবতেন। বেশির ভাগ আজারবাইজানবাসী কোলেস্টেরল, কার্বোহাইড্রেট নিয়ে তেমন কিছু জানেন না। তারা শুধু তাদের বাব-দাদারা যেভাবে পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ১০০ বছর বাঁচতেন, সে ধারাতেই খাবার গ্রহণ বজায় রেখেছেন। তাদের দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার রহস্যের মূলে খাবার গ্রহণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।

কয়েক প্রজন্মের একসঙ্গে বেড়ে ওঠা

লেরিক গ্রামটি খুব শান্ত। গ্রামের মানুষের শারীরিক কাজকর্ম গ্রামে সব সময় চাঞ্চল্য ধরে রাখে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা নিজ বাড়ির বাগানে অথবা মাঠে কাজ করে। তারা জানে কীভাবে সেলাই করতে হয়, কীভাবে বড় পরিবারের খেয়াল রাখতে হয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের গল্প শুনতে অন্য এলাকা থেকে কোনো মানুষ সেখানে গেলে তারা কখনোই বিরক্ত হন না। বরং উৎসাহ নিয়ে তাদের প্রাচীন গল্প শোনান, গান গেয়ে শোনান। সে সময় হয়তো তাদের পাশে বসে থাকে তৃতীয় প্রজন্মের নতুন কোনো সদস্য।

জীবন নিয়ে কখনোই খুব বেশি চাওয়া-পাওয়া নেই লেরিকবাসীর। তারা বিশ্বাস করে ওপরওয়ালা, যা যখন যতটুকু দেবেন, তাতেই তাদের ভালোভাবে চলবে। খাবার নিয়ে সচেতনতা মেনে চলা এমন নয়, তারা নিজেদের পরিশ্রম করে ফলানো ফসল, ফলমূল খেয়ে জীবনযাপন করতেই বেশি ভালোবাসেন।

মাঠে নিয়মিত কাজ, প্রচুর পানি পান, পুষ্টিকর খাবারেই তারা অভ্যস্ত। তারা মনে করেন জীবনে বেঁচে থাকতে হলে অনেক কিছুর দরকার নেই। সুস্থ থাকাটাই ওপরওয়ালার অনেক বড় নেয়ামত। তাদের মতে, আমরা শুধু একটাই জীবন পাই। আমরা যদি সঠিক আর ভালো কাজ করি, তবে এই একটা জীবনই যথেষ্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত